বিষাক্ত ব্লেড

বিষাক্ত ব্লেড
Image result for Toxic blades
"আজকে তৃতীয় অবিশ্বাস্য খুন টা হয়ে গেলো, পুলিশ এখনো তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে! খুনি কে আটক করতে সংসদ সদস্য জনাব কাব্য চৌধুরী সর্বপ্রকার নির্দেশনা দিয়েছে"
হেড লাইন শুনে আজকে হাসি ফুটল আমার মুখে। শেষ হেসেছিলাম ৮বছর আগে। যেদিন অফিস থেকে এসেই দেখি আমার ছোট্ট মেয়ে গাল ফুলিয়ে বসে আছে আর বলছে "পাপা তুমি আমার জন্য চকলেট আনোনি কেন যাও কথা বলবো না" এরপর যখন অন্যদিকে মুখ করে বসে থাকলো আমি তার কাছে যখুনি একটা বক্স দিলাম তারপর মেয়েটির মুখে যে হাসি দেখেছিলাম ওইটাই ছিল আমাদের শেষ হাসি। মেয়ের কাছে জানতে পারলাম ওর আম্মু মায়া এখনো স্কুল থেকে ফেরেনি। আমি ফ্রেশ হয়ে যখন মায়ার জন্য কফি বানিয়ে রেখে দিলাম মায়া আসলে খাবে তখনো কোন খবর নেই। তবে চিন্তিত ছিলাম না। মায়া প্রায় এমন লেট করে। সন্ধ্যা ৭:২০ মোবাইল বেজে উঠলো তারপর আমি কল টা তুলতেই জীবনের শেরা শকট খেয়েছিলাম। মায়ার অফিসের কলিগ আমাকে বলল "ভাইয়া এক্ষুনি অফিসে একবার আসেন" হন্তদন্ত হয়ে অফিসের দিকে গেলাম আর ভাবলাম মায়ার কোন বিপদ হয়নি তো!! তবে কী..... ভাবনার ছেদ পড়লো আমি যখন অফিসে পৌছালাম তখন পুলিশ আগেই এসেগেছে। আমাকে কোনভাবেই মায়ার কাছে যেতে দিচ্ছিল না পুলিশ। শেষ আমি জোর করে মায়ার কাছে এগিয়ে গেলাম। মায়ার দেহ টার দিকে তাকিয়ে আছি। আর মায়া আমার দিকে। মায়ার চোখের পলক পড়ছেনা। আজ আমার চোখ জ্বল আর আমার মায়া পলকহীনতা। আজ মায়া থ্রীপিচ পড়ে অফিসে এসেছিল। আশেপাশে তাকিয়ে থাকলাম মায়ার মৃত্যুর কোন কারণ থাকতে পারেনা। সুস্থ একটা মানুষ কিভাবে মারা যেতে পারে। আমার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। আমার বাসায় খবর দিলাম বাবা-মা বড় ভাই সবায় এলেন আমার মেয়ে পরী কে ওরা বাসায় রেখে এসেছে। ভাইয়া একজন আর্মি গোয়েন্দা তবে আমরা পরিবার বাদে সবায় জানে উনি জব ছেরে দিয়েছেন। ভাইয়া এসেছে বাবা-মায়ের সাথে।
--
মায়া যখন পাশের ঘরে শুয়ে আছে তখন তার জামাতে একটা কিছু লক্ষ করলাম। এতকিছু তখন মাথায় নেই। ভাইয়া সোজা মায়ার কাছে যেয়ে কিছু আবিষ্কারের চেষ্টা করছে। ভাইয়া জামা পাজাম যখন ভাইয়া পরিক্ষা করলেন তখন বারকয়েক আমার দিকে তাকালেন। এরপরে ভাইয়া মায়ার কাছের কলিগ কে ডেকে নিয়ে গেলেন অফিসের পাশে। আমাকেও ভাইয়া ডাকলেন। আমি আবুল হয়ে গেছি তবুও তাদের পিছুপিছু হাটছি।
ভাইয়া-- মায়ার সাথে আপনার পরিচয় কতদিন??
কলিগ -- জ্বী ২ বছরভর।
-- গত কয়েক দিনে মায়ার মাঝে কোন অস্বাভাবিকতা আপনি লক্ষ করেছেন??
-- কই না! ও তো সবসময় হাসিখুশি থাকে বাচ্চাদের সাথেও হেসে ক্লাস করে।
-- এমন কখনো দেখেছেন মায়া গভীরভাবে কিছু নিয়ে ভাবছে আপনি কয়েকবার ডাকার পরেও মায়া শুনেনি।
-- এমন একবার হয়েছিল গতকাল তবে তখন বাইরের দিকে তাকিয়ে ছিলো ওর হাতে কফি ছিলো। স্যার আমাকে আর কোন প্রশ্ন করবেন না আমি কিছু জানিনা। স্যার এখানে আমি জব করি প্লিজ বোঝার চেষ্টা করুণ।
-- ওকে আপনি আসেন তবে প্রয়োজনে আপনাকে আবার ডাকা হবে।
ভাইয়া আমার দিকে তাকিয়ে বলল
-- কিছু বুঝলি??
-- না ভাইয়া।
-- এটা স্বাভাবিক মৃত্যু না। মায়া কে নিয়ে আমরা এখানকার পুলিশ সহ তদন্তে যাচ্ছি তুই বাবা-মা কে নিয়ে বাসায় যাহ।
--
ভাইয়া পুলিশের প্রধান ওসি কে নিয়ে গাড়িতে উঠলেন তারপর বলছিলেন " এসব করে কী লাভ হবে মরে গেছে তাকে দাফনের ব্যবস্থা করেন " ভাইয়া বলল " সব মৃত্যুই দাফন দিয়ে শেষ হয়না কিছু মৃত্যু দাফন থেকেই শুরু" ওসি সাহেব একবার ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে গাড়ি ছারতে বললেন,
আমি সবায় কে নিয়ে বাসায় এলাম। আমার মেয়ে খুব কাঁদছে ওর আম্মুর কাছে যাবে। আম্মা মেয়েটিকে বুকে নিয়ে সান্তনা দিচ্ছে। সবার চোখেমুখে চিন্তার ছাপ!! মায়ার বাবা-মা খবর পেয়ে এলেন। কেন মারা গেছে জানার জন্য পোষ্টমর্টেম করাতে নিয়ে গেছে শুনে উনারাও কান্নাকাটি শুরু করলেন। মায়ার বাবা আমার কাছে এসে বলল 'কিভাবে এসব হয়ে গেলো বাবা??" আমি তখনো ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে আছি। মাথার মাঝে কেবল চিন্তা কিভাবে মায়ার মৃত্যু হলো........
--
রাত ১০:০০ টা ভাইয়া ফিরলেন তারপর কবর খুঁড়তে লোক পাঠিয়ে দিলেন আজ ১২:০০ টাই দাফনকাজ হবে। ভাইয়া চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলেন আমার পাশে। ততক্ষনে পুলিশ এসে আমাদের রুম তল্লাশি করছে। আমি কিছুই বুঝলাম না। ভাইয়া বলল ওদের কাজ ওদের করতে দে। এতক্ষণ পর আমি মায়ার হাতের মুঠির মাঝে তাকালাম ওখানে একটা কাগজ ভাজ করা আর তাতে ( আ ব।) লিখা!! লিখাটা ভাইয়ার হাতে দিলাম ভাইয়া কিছুক্ষণ তাকিয়ে ভ্রুঁ কুঁচকে তাকিয়ে থাকলো তারপর যখন পুলিশ কে দেখাল। পুলিশ তাচ্ছিল্য ভেবে হেসে দিলো। একজন মৃত ব্যক্তির হাতে এরকমভাবে একটা কাগজ অথচ পুলিশ হাসছে দেখে, ভাইয়া চুপ করে তাকিয়ে থাকলো। আশেপাশে সবায় এসেছে সবায় কান্নাকাটি করছে। বাড়িময় এক বিষাদের ছাপ। কেউ একজন পুলিশ কে কল দিচ্ছে পুলিশ দূরে যেয়ে কিছুক্ষণ কথা বলছে তারপর আবার কাছে আসছে।
--
মায়ার দেহের কাছে যেয়ে ওর ছেড়া পিঠের অংশ চোখে পড়লো। পোষ্টমর্টেম রিপোর্ট এখনো ভাইয়া কাউকে জানাইনি। তবে এতটুকু বুঝতে পারছি এটা স্বাভাবিক মরণ না। এখন পুলিশ তাগাদা দিচ্ছে তারা অফিসে যাবে দ্রুত যেন দাফন কাজ শেষ হয়। পুলিশ ইনভেস্টিগেশন করবে কিভাবে মৃত্যু হলো তার বিন্দুমাত্র বেগ এদের মাঝে নেই। বরং তাগাদা দিচ্ছে। মায়ার স্কুলের প্রধান শিক্ষক বেশ দুঃখ প্রকাশ করলেন। তারপর পুলিশের সাথে কি যেন বিড়বিড় করে গাড়ি করে চলে গেলেন।
রাত ১১:৩০ মায়াকে গোসল দিয়ে খাটিয়ে রাখা হয়েছে। আরেকবার যখন মায়ার খুব কাছে আমি গেলাম যেন মায়ার ওই চোখ আমাকেই কিছু বলতে চাচ্ছে। কি যেন লুকিয়ে আছে মায়ার ওই জ্বলজ্বল চোখে। আমি যেন বুঝতেই পারছিনা। শেষ মায়ার দাফনকাজ শেষ হলে পুলিস বলল "জন্ম মৃত্যু আল্লাহর হাতে মানিয়ে নিন" আর ভাইয়াকে কাল একবার অফিসে যেতে বলল।।
সত্যিই বলতে আমি বোকাসোকা মানুষ। কোন কিছু ঘটলে সাথেসাথে বুঝিনা পরে বুঝি। মায়ার মৃত্যু স্বাভাবিক নয় তবুও আমি কেমন যেন ভদ্রের মতো আচরণ করছি।
--
ভাইয়া পুলিশের অফিসে গেলেন জানতে পারলাম ভাইয়ার অফিস থেকে নাকি অন্য এক কাজে পাঠানো হয়েছে। ভাইয়া শুধু বলেছিল এটা একটা খুন! আর খুনির শাস্তি দেওয়ার দায়িত্ব তোর...... তারপর ভাইয়া চলে গেলেন। সবায় প্রায় মায়া কে ভুলেই গেছিলো। আমার তখন কোন কাজের মন বসতো না। মায়ার কথা প্রচণ্ড মনে পড়তো আর কেবল মেয়েদের মতো কান্না করতাম। আমার এই অবস্থা দেখে পরীকে ওর নানাবাড়ি নিয়ে গেছে ওনারা।
--
একদিন অফিস থেকে বাসায় আসছিলাম একদল লোক আমাকে মুখ বেধে নিয়ে গেলো তারপর আমাকে অজ্ঞান করে রেখে দিলো আমার সাথে কী হয়েছিল কোথায় এলাম কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। মাথার মাঝে ভোঁভোঁ করছিল কেবল। শেষ একজন লোক অন্ধকারে আমার কাছে এলেন। তারপর আমাকে আচ্ছামতো মাড়লেন। কেন মারলেন জানিনা। আমি কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। কত দ্রুত ঘটে যাচ্ছে। আমার গা ব্যথা করলেন মেরেমেরে। তারপর পানির মাঝে আমাকে ফেলে দিলেন আমি কোনমতে সাঁতার দিয়ে কূলে এলাম আবার ফেলে দিলো। আমার শরির ছিল প্রচণ্ড ব্যথা।
--
কেটে গেলো ২ সপ্তাহ। এরা যে আমাকে পায় সেই লাত্থিঝাটা মারে। আমার রুমে একটা বালিশ বাঁধা আছে যে আসে আগে ওইটাই ঘুষি মারে তারপর আমার শরিরে। আর আমাকে খেতে দেয় রুটি আর ডাউল, কলা এসব। আর যদিও ভাত আমাকে দেয় তবে প্রচুর মোটা চালের ভাত....
একদিন আমাকে আবার মেরে গালিগালাজ করে। ওদের যে টিম লিডার ছিলো তাকে কখনওই দেখতাম না। তবে উনি এসে আমার খবর নিতেন। একদিন জানতে পারলাম আমি আছি মাটির নিচে এক গুহাতে। আমার ট্রেনিং চলছে। তারপর আবার আমাকে আটকে রাখে ওরা। শেষ আমাকে বাইরে বের করেছিলো ২ মাস পর। ততদিন আমাদের চেহারা অনেক বদলে গেছে। মাইর খেতেখেতে আমার আর মাইর দেখে ভয় লাগেনা। আর ওখানে ছোট একটা ড্রামের মাঝেও আমাকে সাঁতার কাটতে দিতো। এখন আমাকে নিয়ে এসেছে একটা বড় সমূদ্রের কূলে। এদের সবার হাতে গান আর সবায় মুখস পরে আছে। আমাকেও পাঠিয়েদ দিলো সামনে যেয়ে গোসল করে নিতে। আমার প্রাথমিক ট্রেনিং শেষ। স্থান পরিবর্তন করতে হবে সবার। গোসল করে আসার পর রাতে আমরা এখান থেকে শিফট করব প্লান করে খাবার খাচ্ছি। আমাকে ডাকলেন একজন তারপর অন্য একজন কে ডেকে আমার শিক্ষক বানিয়ে দিলেন উনিই আমাকে শিক্ষা দেবেন। আমার দেখে বললেন "সাহস লাগবে বেটা তবেই বাজিমাত" এই কথাটা বলার সময় একটা জিদ খেয়াল করলাম তার মাঝে। এরপর খাবার শেষ করে সবায় মিলে হাটছি। গাড়িতে পুটলাপুটলি সব আগেই দিয়েছে। আমরা অস্ত্র গুলো নিয়ে যাচ্ছি। এখনো আমাদের কোন অস্ত্র দেয়নি তবে ওদের সাথে রেখেছে। ১৫ জন আছে গ্রুপ A আর বাকি ২জন আছে গ্রুপ T শিক্ষক। ওই দুজন যা বলেন সবায় তাই শুনে কাজ করে।
--
সারারাত হেটে একটা বাগানের মধ্যে প্রবেশ করলাম। বাগানের পাশে ফুলগাছ আছে প্রচণ্ড বুনোফুলের ঘ্রাণ আসছে। আমাদের পায়ের আওয়াজ পেয়ে কি যেন ডেকে ডেকে চলে যাচ্ছিল। একজন বলল স্যার এখানে ভালো বুনোহাঁস পাওয়া যাবে। স্যার বলল, কাল চেষ্টা করিস ধরবার আর আশেপাশে একজন একজন করে বাজারে যাবি। খুব সাবধানের সাথে পাশেই পুলিশের ক্যাম্প আছে। "শালা।শুয়োদের দল পারে কেবল ক্যাম্প বানিয়ে সিগারেট টানতে " এটা বলেই বারকয়েক জন থুঃ ফেললেন মাটির দিকে। একটা ভ্যাঁপসা গাছের গুড়ি সরালেন সবায়। তারপর গুড়ির নিচে সুড়ঙ্গ বের হলে একে একে দুজন প্রবেশ করলেন ৫মিনিট পর আলো জ্বেলে শিষ দিলেন এবার আগে আমাকে দেওয়া হলো তারপর আরেকজন কে। যে আমি আসার দুদিন পর এসেছিল। পরে সবায় যখন প্রবেশ করলেন তখন সুরঙ্গের মুখ আটকে দিলেন ২জন শিক্ষকের একজন।
--
এখানে সবার জন্য আলাদাভাবে ঘর বানানো হয়েছে। গেটের মুখে একজন আর অন্যমুখে আরেকজন দাঁড়িয়ে থাকলেন। পাহারাদার। আমাদের রেখে দিলেন এক রুমে। কিছুক্ষণ পর কল এলো স্যারের কাছে। উনি ৬ জন কে পাঠিয়ে দিলেন গাড়ি থেকে সবকিছু নামিয়ে আনতে। ৬ জন চলে গেলো। আমাদের কে একজন পাহারা দিচ্ছে। আর অন্যান্য রা কাজ করছে ঝাড়ু দেওয়া বিছানাপত্র বানানসহ অন্যান্য কাজ।
আমাদের কে কেন এখানে আনা হয়েছে এখনো বলেনি। তবে এতটুকু বুঝতে পারছি আমাদের নিয়ে এদের কোন প্লান আছে। আমাদের সবার ঘুমিয়ে যেতে নির্দেশ দিলেন। এখানে চিৎকার চেঁচামেচি একদম নিশেধ। যা কিছু লাগবে চোখের ইশারাতে করতে হবে। এরা একটা গ্যাং আর সেই এই গ্যাঙের সাথে মিশে আছে পুলিশের সাথে প্রবল প্রতিহিংসা।
--
কেটে গেলো আরও ৫ দিন। এখন শিক্ষক আমাদের নানানকিছু প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। এখানে বড় বনের মাঝে আমাদের কে সাইলেন্ট পিস্তল চালানো শেখাচ্ছেন। আমাদের কে যুদ্ধের সাজে সাজিয়েছেন। আমাকে এখন সবসময় বুট পরে থাকতে হয়। আর কাধে থাকে ভারি একটা জ্যাকেট যার মাঝে আছে বারুদ। আমাকে ধনুক শিক্ষাও দেওয়া হচ্ছে। প্রায় প্রতিদিন বুনোহাঁস আর বুনোপাখি খাওয়া হয়। তাছাড়া ডিম থাকে এখানে। পাশে কলা গাছ পেলে তা থেকে কলা নিয়ে আসে। এখানে রান্নার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আমাকে সেদিন পানির মাঝে যুদ্ধের কৌশল শেখানো হয়েছে।
আমার কাজ দেখে সবায় বেশ খুশি। তবে আমার অনুরোদে নতুন কাউকে ওভাবে না মারার অনুরোধ সবায় রেখেছে। এখন এটা আমাদের একটা পরিবার। আমি এসেছি ৬ মাস মতো এখনো সবকিছু শেখা হয়নি তবে এতটুকু যে আগে আমি মেয়ে ছিলাম এখন ছেলে হয়েছে। এখনো পুরুষ হইনি। আরও সময় লাগবে। আমাকে নানান বিষয়ে জ্ঞান দেওয়া হয়।
--
সেদিন ধর্ষণের বিষয় যখন তুলা হলো আমার তখন এই পরিবারে ১ বছর পূর্ণ হয়েছে। আমার সেদিন চোখ বেয়ে জ্বল এলো। আর সেদিন একবার লুকিতে বউয়ের কবরের পাশে যায় ছুটি নিয়ে যদিও আমার সাথে লোক ছিলো। সেদিন বুঝতে পেরেছিলাম আমার মায়াকে কেউ ধর্ষণ করেছিলো। খুব জিদ হয় আর কান্না আসে সেদিন মায়ার জন্য। মায়ার কবরের মাটি ছুঁয়ে প্রতিজ্ঞা করি "আমি প্রতিশোধ নেবোই মায়া" চলে এলাম বাসায়। আর সেদিন থেকে আমার মাঝে দ্বিগুণ ভাবে কাজের প্রতি মনোযোগ হয়। আগে দূর্বল হতাম দ্রুত এখন কাজের প্রতি মনোযোগ বেড়েছে।
--
এরপর এখানকার সবায় বেশ মুগ্ধ হয় আমার কাজ দেখে। এখন অনেক কাজই আমি করি। বেশ নেত্রিত্ব দেয় স্যার যখন না থাকে। আমার কাজ দেখে স্যার বলেন "তোকে দিয়েই কাজ হবে" আমাদের এখানে আসার বয়স যখন ২ বছর হয় তখন আমাদের একটা অপারেশনে সাথে নেওয়া হয়েছিলো। সমূদ্রের তীরে দুজন লোক টাকার বিনিময় মাদক সরবরাহ করবে। আমাদের কাজ হলো একজন কে ঘায়েল করা যার কাছে টাকা আছে তাকে। তারপর টাকা গুলো নিয়ে দ্রুত চলে আসা। আমাকে দেওয়া হয় বুলেট চালাতে। ততদিনে আমার পাকাহাত কোনভাবেই ভয় নেই। সিনিয়র একজন কে বাইক চালাতে দেওয়া হয়। ও বাইক নিয়ে যখুনি কাছাকাছি আসবে তখুনি আমাকে অপারেশন টা করতে হবে। স্যার আগেই বলেছিল এখানে সিভিলে পুলিশ থাকে। "শুয়োরের দল আমাদের কাজে বাধা দিতে পারে সবধানে কাজ করবি আর বিপদ দেখলে সমূদ্রে ঝাপ দিবি আর আমার নাম্বারে কল দিলেই আমি তোকে নিয়ে আসবো।
আমার ১ম অপারেশনে কোন ঝামেলা হয়নি। আমি কাছে যেয়েই ব্যাগ টা নিয়েই এক দৌড়ে বাইকে তারপর কই থেকে কই। গুলি করাও লাগেনি শুধু ছদ্মবেশ লেগেছিলো। একব্যাগ টাকা যথেষ্ট নতুন অস্ত্র লাগবে আধুনিক গান।আমি এখনো এই গ্যাঙে পুরো মিশে গেছি আমার এখন প্রতিশোধ চাই। কে খুন করেছিল আমার মায়া কে। কুত্তার মতো পুলিশ গুলো কেবল টাকা খেতে পারে কোন কাজ করতে পারেনা।
এখানে যারা কাজ করে সবায় এক তিব্র ঘৃণা থেকে কাজ করে। সবায় প্রতিশোধ নেবার জন্য এসেছে। সবায় যখন প্রতিশোধ নেবে তখন কমে যাবে অপরাধবোধ। কমে যাবে ওইসব শকুনের দল।
--
কেটে গেছে ৫টা বছর আমি এইখানে পরে আছি। আর প্রতিটা দিন ভেবেছি কিভাবে আমি খুন করব। আমাদের স্যার আমাদের জানিয়েছে দু সপ্তাহ বাদে আমাদের সবায় কে প্রতিশোধ নেবার সুযোগ করে দেবে। সবায় কে মুক্ত করে দেবে। যত প্রকার প্রশিক্ষণ দেয়ার তা দিয়েছে। ছদ্মবেশ ধারণ ডিটেকটিব দের নজর এড়িয়ে কাজ করা প্রতিটা বিষয় আমাদের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। কারণ আমরা এখন যোগ্য... গত ৫বছরে আমি ভাইয়া আর বাবা মায়ের কোন খোজ জানিনা। জানিনা আমার মেয়েটা কেমন আছে। খুব দেখতে ইচ্ছা করে। জানিনা এখন আর আমাকে চিনতে পারবে কিনা বা আমাকে পাপা বলে ডাকবে কিনা। তবে আমি পরীর জন্য ওর আম্মুর খুনির রক্ত নিয়ে যাবো ওর কাছে।
-
মানুষ কে কতভাবে কত উপায়ে মারা যায় এটা এখন আমার হাতের ময়লা যে কোন মানুষ কে মেরে ফেলার যথেষ্ট যোগ্যতা আমাদের সবার হয়েছে। পুলিশের চোখে ধূলো দিয়ে আমরা আমরা আমাদের কাজ করতে পারি। স্যার যখন আমাদের সর্বশেষ পরিক্ষা করলেন সেদিন সবায় কে একটা করে ঘুষি দিয়েছিলেন পেটে আর বলেছিলেন কাজ শেষ করে ফিরতে পাড়লে এই ঘুষির বদলা নিতে দেবে। তারপর রাতে সবায় কে ডাকা হলো!. সেদিন স্যার আমাদের সবার জন্য কিছু বললেন,
"দ্যাখ তোরা আমার সন্তানের মতো আজ তোরা মানুষ তবে যেদিন এসেছিলি সেদিন তোরা মানুষ ছিলিনা। যে অন্যায় সহ্য করে সে মানুষ নাহ। তোদের সবার সাথে যে অমানবিক কাজ হয় তার বদলা নিতে তোদের কে গত ৫বছরভর শিক্ষা দিয়েছি। তোদের কে জানানো উচিৎ তোদের সবার স্ত্রী কে বা বোন কে ধর্ষণ করা হয় তারপর কেউ লজ্জাতে বা কাউকে খুন করা হয়। আর যখনি তোরা বিচার দাবী করেছিস পুলিশ আগেই টাকা খেয়ে তোদের কে বলেছে দাফনকাজ করতে। তারপর সান্তনা বাণী দিয়ে গল্পের ফাইল বন্ধ করে দিয়েছে। আমি সব জানি কার বোন কে কে বা কিভাবে মারা হয়েছে। আমার পাশের শাওন ছেলেটার বোনের ধর্ষণের পর কতটা নির্মম ভাবে মারা হয়েছে তার বর্ণনা শুনলাম। তারপর রফির ভাই যার কাছে আমরা প্রশিক্ষণ নিয়েছি উনার বউয়ের আর মেয়ের ধর্ষণের কথা শুনলাম। তারপর আমার স্ত্রী মায়ার। চেয়ারম্যানের ছেলে এই কাজ করেছে। স্যার আমাকে একটা ডাইরি দিয়ে বলল তোমার ভাই সেদিন এটা পেয়েছিল তারপর পুলিশের ওসিকে দেখাতে তোমার ভাইকে তারা চাকরি ছারার হুমকি দেয়। তোমার ভাই এটা আমার কাছে দিয়ে বলেছিল পূর্ণ শিক্ষা যেদিন হবে সেদিন এটা যেন তোমার হাতে দেয়। আজ তোমার হাতে এটা দিলাম। আগামী মাসে চেয়ারম্যানের ছেলে দেশে ফিরবে এতদিন ও বিদেশ ছিলো। এম,পি পর্যায়ে ওদের হাত আছে এজন্য বুদ্ধি দিয়ে কাজ করতে হবে মেঘ। তুমি ওই বাড়িতে শিক্ষক হিসাবে যাবে ছদ্মবেশ নিয়ে একদম ভার্সিটি পড়ুয়া ছেলে হয়ে তারপর সময় তোমাকে বলে দেবে কী করতে হবে। তাড়াহুড়ো করোনা ওইবাড়ি সিসি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রিত এজন্য আগে সিস্টেক হ্যাক করতে হবে। তারপর অন্য কাজ। সিস্টেম হ্যাক অন্য একজন তোমাকে শেখাবে। তোমাদের সবায় ব্যাচেলর বাসায় ভাড়া থাকবে। কাজ শেষ হবে ছদ্মবেশ খুলে এখানে মিট করবেনা কেউ। পূর্বে যেখানে ছিলাম ওর পাশে একটা জাহাজ থাকতে ওখানে তোমরা শ্রমিক হিসাবে ১বছর কাজ করবে তারপর ফিরবে মাঝে আমি সবার সাথে দেখা করব। আর অতি প্রয়োজন ছাড়া কেউ কারও সাথে কথা বলবেনা। মনে রাখবে এটা একটা খুনের প্রতিশোধ খুন দিয়েই নেওয়া হবে। সমাজ থেকে কিট গুলো ধ্বংস করা হবে।"
আমরা সবায় মাথা নিচু করে থাকলাম স্যার আমাকে একটা "ব্লেড' দিলেন বললেন "কাজে লাগবে" আর অন্যান্যদের ছুড়ি, বৈদ্যুতিক তার। সব প্লানিং করা।
--
আমি বেড়িয়ে পড়লাম সকালে। তারপর চুল দাড়ি কেটে সাহেবি ড্রেস কিনে নিলাম। এবার চেয়ারম্যানের বাসার উলটো দিকে একটা ব্যাচেলর মেসে উঠে পড়লাম। আমার নাম এখন "অর্ক মাহমুদ" এই শহরের নতুন মেহমান! এই শহর থেকে ৫ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া সেই বোকাসোকা ছেলেটি আমি। এখন মাথার মাঝে কেবল একটা কথা। মেসে উঠে গেলাম তারপর ছাদে বসে ডাইরি টা পড়ছিলাম।
আমার মায়া লিখেছে " ছেলেটি আমার দিকে অসভ্যের মতো তাকায় প্রতিদিন। আমি স্কুল থেকে ফেরার পথে আমাকে টিজ করে আমাকে অশ্লিল কথা বলে, একদিন স্কুলের প্রধান শিক্ষক কে বললাম স্যার বলল যা চাই।তা দিয়ে দিলেই তো সব মিটে গেলো। আমি বুঝে গেলাম টাকার কাছে বিক্রি হয়ে গেছে সবায়। পুলিশ এদের কেনা গোলাম তাতেও কাজ হবেনা। মেঘ যখন পরীকে নিয়ে হাসিখুশি থাকে তখন আর এই দুঃখের কথা বলে মন খারাপ করাতে চাইনি এজন্য বলিনি মেঘ চিন্তা করবে ভেবে ওর অফিসে কত কাজ থাকে।
গতকাল ছেলেটি আমাকে সবার সামনে আমাকে চুমু দিয়েছে আমার তখন ঘৃণাতে মরে যেতে ইচ্ছা করছিল"
আর কিছু লিখা নেই। আবার গর্জে উঠলো আমার সারাদেহ। ওই বাড়ির কাজের লোকটি আর আমি একই বাসাতে থাকি। একদিন উনাকে বললাম আমাকে কোন টিউশনি দেওয়া যাবে ভাই। না খেয়ে যে মরে গেলাম। লোকটি আমার অভাব দেখে দুঃখ নিয়ে বলল "দেখি কিছু করতে পারি কি'না" তারপর চলে গেলো। আমি আজকে বেশকিছু বই আর পাঞ্জাবী কিনে আনলাম। সবগুলো ছিলো থ্রিলার বই। রাতভর সেসব পড়তাম আর প্রতিবার স্বপ্নে আমি ছেলেটকে খুন করতাম। প্রতিশোধের আগুন আমার সর্বত্রগামী তবে খুব অনায়াসে লুকিয়ে রাখতাম সেসব।
---
--
রকিং চেয়ারে বসে দুলছি আর ভাবছি মায়ার কথাবার্তা। এমন একটা দিন আমাদের কাটেনি যখন আমি মায়ার পাশে থাকিনি। আর আমার মায়া আমার পাশে থাকেনি। জীবনের প্রতিটা চরিত্রে ছিলাম আমি। ও হাসতো ও কাঁদত ও অভিমান করতো সব আমি দেখতাম। কতটা ভালোবাসা ছিলো আমাদের মাঝে। কতটা সুখি ছিলাম আমরা। সুখের সংসারে পরী ছিল রাজকন্যার মতো আর সেই সংসার টা ভেঙ্গে গেলো আমার সবকিছু সবকিছু বুঝে উঠার আগেই। একদিন খুব ইচ্ছা হলো আমার পরী কে দেখবো।
আর বাবা - মা কে। লুকিয়ে ছদ্মবেশ নিয়ে গেলাম সেই বাড়িতে বাড়ির পরিবর্তন এসেছে। ছুটি কাটাতে ভাইয়াও এসেছে। ভাইয়া আমাকে চিনে ফেলেছিলো হয়ত আমি একটা সাংকেতিক ভাষা দিয়ে বোঝালাম রাতে আসবো। তারপর চলে এলাম আর এসেই সংবাদ পেলাম আমার টিউশনি হয়ে গেছে ওই চেয়ারম্যানের বাড়িতে। একটা সময় খোজ নিয়ে জানলাম মায়ার পরেও আরও দুজন কে ধর্ষণ করে ছেলেটি তারপর পাড়ি জমায় ভারতে। প্রচুর ক্ষমতা থাকা সত্বেও কে যেন দেখে ফেলেছিল আর সেজন্য এতবছর লুকিয়ে থাকা। এখন এসেছে তবুও ওর নাকি স্বভাব ভাল হয়নি। ভাইয়া অনেক খোজ নিয়েছে। শেষ ভাইয়া আমাকে বলল কাল একবার পরীকে সে দেখাবে তবে এটাই শেষ। কাজ শেষ হবার আগে ও যেন এদিকে আর না আসে। তবে কাজটা খুব নিপুণ হতে হবে।
--
ভাইয়ার কথামতো পরেরদিন আমার পরীকে দেখেছিলাম একবার। কতটা মিষ্টি আর মায়াবতী হয়েছে আমার মেয়ে। মাথার চুলগুলো যখন বারবার ঝাঁকুনি দিচ্ছিল আমি অবাক হচ্ছিলাম আমার মায়াও এমন করতো। এরপরে মেসে এলাম সর্বাঙ্গে আগুন মস্তিষ্ক ঠাণ্ডা প্রথমদিক চেয়ারম্যান বাড়িতে আমার পদার্পণ।
--
কতটা নম্র, কতটা সুশীল, কতটা ভদ্রভাবে সালাম দিচ্ছি আমি সবায় কে মানিয়ে নিচ্ছি অথচ আমার মনের সর্বত্রজুড়ে কেবল তিব্র ঘৃণা আর অশহনীয় যন্ত্রণা। এ বাড়ির বড়ছেলের মেয়েকে আমার পড়াতে হবে। বয়সে আমার পরীর থেকে ছোট। আমাকে চাচ্চু চাচ্চু বলে পাগল করে দিচ্ছিলো। আমি হেসে পড়িয়ে চলেছি। এইবাড়ির প্রতিটা মানুষের হাটাচলা, কথাবলা, কতগুলো বাড়িঘর আর প্রতিটা ঘর কে আমি স্ক্যান করছি। আমার অভিননে আমি নিজেকে চালনা করছি। একই নিয়মে চলছে আমার প্রতিদিন। আর প্রতিটাদিন আমি শিখছি কিভাবে কিভাবে এই গল্পের ইতি টানতে হবে। প্রতিটা দিন ছক আঁকছি আর সেই ছকে প্রতিটা দিন আমি মেতে উঠছি। আজও সেই নর পিচাশ টাকে আমি দেখতে পারিনি। ও আমার থেকে পালিয়ে থাকে।
--
বেশ বছর খানেক এই বাড়িতে আমি টিউশনি করেছি। একদিন জন্মদিনে ওই বাড়িতে আয়োজন চলে রমরমা। ততদিন আমি সিস্টেম হ্যাক শিখে নিয়েছি। এবাড়ির সিস্টেম খুব বেশি জড়াল নয়। তবে প্রতিটা স্থানে সিসি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রিত। এখানে নিজস্ব বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা রয়েছে। সেদিন প্রথম আমি ওই জানোয়ার টা দেখি। অতি আধুনিক এক ছেলে। চোখে সানগ্লাস থাকে তা বুকের সাথে লাগানো। হাটে একটা স্বর্নের ঘড়ি। প্রসস্থ বুক।
সেদিন পিচ্ছি মেয়েটার জন্মদিনে সবায় খাওয়াদাওয়া করছিলো। আমি খুব যত্নকরে ওর চলাচল খেয়াল করছি। ইচ্ছা করছে এখুনি ওকে মেরে পালিয়ে যায়। আমাকে ধরা এতো সোজা নয়। তবুও অপেক্ষা। আমি কোন তাড়াহুড়ো চাইনা।
ফিরে এলাম বাসায়।
সিদ্ধান্ত নিলাম এই মাসের শেষ ও বাসায় থাকতে সেদিন আর সময় ওর শেষ দিন হবে সেদিন।
--
রুমে শুয়ে ডাইরি টা পড়ছি শেষ পেজে চোখ পড়তেই মাথায় আগুন চেপে গেলো। আমার মায়া কে খুন করা হয়েছে ইনজেকশন দিয়ে তাতে ছিলো বিষাক্ত বিষ যা মানবদেহে প্রবেশের মাত্র ৩ মিনিটে কারও মৃত্যু হতে পারে। তারমানে আমার মায়াকে ধর্ষণ তারপর বিষ ইনজেকশন করে মেরে ফেলা হয়েছে। আমার প্লান সেট ওকে। সেদিন জনলাম ওর নাম আবির। আর মায়ার হাতের লেখা চিরকুট (আ ব।) মানে মায়া আবীর লিখতে চেয়েছিল। আর মায়ার চোখ বলতে চেয়েছিল ওই ভয়াবহ বিষাক্ত বিষের কথা।
--
প্লান ওকে!! আজ রাতেই ওই জানোয়ার টার শেষ দিন। প্রথমে আমাকে ওর ঘরের লাইন ডিসকানেক্ট করতে হবে। তারপর স্যারের দেওয়া ব্লেড টা। এটা ইরাক থেকে স্যার আনিয়েছে আমার জন্য। এতটাই বিষাক্ত যে গরম করে কোন ব্যক্তির গলাতে কিছুক্ষণ রেখে দিলে তার শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে মৃত্যু অবধারিত। আমি ছাদের পাশে চলে গেলাম। তারপর ওখান থেকে সোজা বসে থাকলাম ১ ঘণ্টা। একে একে সবায় রুমে চলে গেলো। বুঝলাম আমার সেই রুমমেট মেসের দিকে চলে গেলো। আমি অন্ধকারে চুপচাপ বসে আছি। লাইট অফ হয়ে গেলো। তারপর আবার নীরবতা। এবার আমি জানালার কাচ উঁচু করে সোজা কিচেনে। ওখান দিয়ে আবিরের রুমের উলটো দিক। ওখানে আবির বসে সিগারেট টানছে। ওর রুমে লাইট নেই চার্জার জ্বলছে টিমটিম করে। আমি ওর রুমের খাটের নিচে বসলাম। একদম নিশ্বাস বন্ধ করে বসে আছি। পকেটে রাখা ব্লেড টা বের করলাম এবার আগুনের তাপে প্রচণ্ড উত্যপ্ত করলাম। এবার হাতে হ্যান্ডগ্লাভস পরে নিলাম তারপর বের হয়ে ব্লেড রেখে দিলাম পাশে এবার এক লাফ দিয়ে ওর ঘাড়ে দিলাম এক চাপ ও ব্যথায় উহ করলো। তারপর বালিশ চেপে মুখ আটকে দিলাম। এবার ব্লেড চেপে ধরলাম ওর গলাতে। ও কিছুক্ষণ পর নেতিয়ে পড়লো। আমি বালিশ টা সুন্দর করে ঠিক করলাম তারপর ব্লেড টা নিয়ে খুব সুন্দর করে চলে এলাম। আজকে আর মেসে উঠলাম না। অনেকদিন হলো ছদ্মবেশ এবার আরেকটা গেম খেলতে হবে। সেই রাতেই আমি জাহাজের কাছে যাবার জন্য রৌনা দিলাম।
---
দুপুরবেলা যখন পৌছালাম তখন ডাইরি টা আমার কাছেই ছিলো অপারেশনের আগে ব্যাগ এক স্থানে লুকিয়ে রেখেছিলাম। স্যার কে একটা মেসেজ দিয়ে সিম ভেঙ্গে ফেললাম। তারপর সেই জাহাজে। কাজ করছি কিন্তু ভাবছি জানোয়ার টা মরেছে তো?? খুব চিন্তাই আছি। কিছুক্ষণ পর রফিক ভাই এসে বলল অপারেশন ওকে। পুলিশ তদন্ত করছে। ময়নাতদন্ত হয়েছে কোন সুত্র পাওয়া যাচ্ছেনা। এম,পি পর্যন্ত বড়বড় ডিটেকটিভ আনিয়েছে কেউ কোন কূল কিনারা করছে পারছেনা। অনেকে তাদের গৃহ শিক্ষক কে তবে কোন চিহ্ন বা কোন স্মৃতি নেই। কে এই গৃহ শিক্ষক?? কে এই খুনি?? কিভাবে খুন হলো?? কেন খুন করলো??
--
ধর্ষকের শাস্তি হয়েছে। এতগুলো খুন ধর্ষণের মাঝে কে প্রতিশোধ টা নিলো?? আর এতটা নিখুঁত, নিপুণ ভাবে কে খেলল এই অবিশ্বাস্য খেলা?? সবায় রহস্যের জ্বালে আটকা পড়েছে। আর একজন দূরে দাঁড়িয়ে অট্টহাসি হাসছে।
--
এখন অপেক্ষা একটা বছর। কয়েকশো দিন। তারপর আমার মেয়ে পরীকে নিয়ে আমার আবার সুখের দিন। আর ধসে যাক ওইইসব শকুন। ওইসব ধর্ষকের মৃত্যু হবে আমাদের নিপুণ খুনির হাতে। আমি খুন করেছি তবুও আমি হাসছি, কারণ একজন অপরাধীর বিচার হয়েছে আমার নিজের হাতে আমি গর্বিত আমি স্ত্রীর বিচার করেছি! আমি মেয়ের মায়ের খুনির বিচার করেছি! বাবা-মায়ের সন্তানের বিচার করেছি। যে বিচার করতে পারেনি এ দেশের শাষনব্যাবস্থা।
--
একদিন সবায় ফিরল তারপর স্যার ও। তখন সবায় খুশি সেদিন আবদার ধরেছিলাম আমাদের বস কে দেখবো। স্যার আমাদের কথা রেখেছিলো আমাদের সামনে এসেছিল আমার মায়ের পেটের বড়ভাই "ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাজু আহমেদ" আর সেদিন থেকে আমার ছদ্মবেশী বন্ধ। আমাদের টিমের নাম দিয়েছিলাম সিক্রেটস
বাংলাদেশ কে ধর্ষকমুক্ত করতে খুন আমাদের টিমের মেইন টার্গেট। প্রতিটা জেলা প্রতিটা ইউনিয়নে আমাদের টিম মেম্বারর্স অপেক্ষা করে একটা  মিডনাইটসতারপর প্রশান্তির প্রশ্বাস ……………………
-


মোঃ রসুল মুন্সী

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.