ভালোবাসার সন্ধানে
ভালোবাসার সন্ধানে

দিন,মাস ঘুরে বছরের পর বছর চলে গেলো,
কিন্তু ভালোবাসা কোথাও পেলামনা।
শহরের প্রত্যেকটা বড় বড় অট্টালিকায় গিয়েছি;
একটু ভালোবাসার সন্ধানে,
ভালোবাসার বিনিময়ে মিলেছে অবহেলা আর অহংকার।
শুনেছি স্বর্গীয় ভালোবাসা নাকি নারীতেও আছে!
গিয়েছিলাম তো তারও কাছে,
তারও আছে রূপের অহংকার,আছে নশ্বরীয় প্রেম।
যে প্রেম ভালোবাসাকে ঘৃণায় পরিণত করে।
এমন ভালোবাসা তো চাইনা কবিতার জন্য,
তবে থাকুক নাহয় কবিতা অক্ষুণ্ণ।
আবার ছুটেছি পথে-পথে ভালোবাসার কাঙালের ন্যায়;
একটা ভালোবাসার কবিতা লেখবো বলে ভালোবাসার সন্ধানে।
খুঁজতে খুঁজতে এই শেষ বয়সে এসে ক্লান্তিরা ভর করেছে,
তবু ভালোবাসার সাক্ষাৎ মেলেনি।
তবুও থেমে থাকিনি রঙ্গমঞ্চের অভিনয়ের তাড়নায়,
চলেছি বস্তি পানে খোলা পরিবেশের দুর্গন্ধময় ভালোবাসা কুড়াতে,
সেকি বিশ্রী অবস্থা!
ছোট-ছোট শিশুগুলো খাবার কাড়াকাড়ি করে খাচ্ছে,
গায়ে ময়লা আবর্জনা মেখে সেকি করুণ অবস্থা,
একটুও খারাপ লাগেনি তাতে আমার।
যুবতী কন্যার খোলা প্রতিমা ভেসে আসছে চোখের আলোয়,
নাহ!একটুও ঘৃণা জাগেনি মনে,
কারণ নারী যে আমার মা।
বরং কেনো জানি ভালোবাসার আবেশ পেলাম মনে।
বয়স্ক মা ঘরে ক্ষুদা নিয়ে নির্বাক হয়ে তাকিয়ে আছে,
খোকা হয়তো ফিরবে ঘরে এক্ষুনি কেজি খানেক মোটা চাল আর সস্তা পঁচা মাছ কিংবা মুঠো কয়েক ডাল নিয়ে।
এভাবেই পার করে যাচ্ছে দিনের পর দিন,
তবুও কেউ আলাদা হয়নি কয়েক টুকরো কাপড় আর ভাতের অভাবে।
রয়ে গেলাম ভালোবাসার তরে,
ছুটবো না আর ভালোবাসার সন্ধানে।
যে ভালোবাসা অন্তরে লালন করি,
যার পূজারী হবো বলে,
অবশেষে পেলাম তারে এই হা-ঘরের কোলে।
সাজ্জাত হোসেন

কোন মন্তব্য নেই