স্পেশাল ডিম ভাজি
স্পেশাল ডিম ভাজি
ডিম ভাজি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও বহুমুখী খাবার। ডিম একই সাথে সবচেয়ে দামি খাবারেও লাগে আর সবচেয়ে কম দামি খাবারেও লাগে। আজকে আমরা ডিমভাজি দুইটা ভার্সন সম্পর্কে জানবো।
স্পেশাল ডিমভাজি-রান্নার অনুষ্ঠান ভার্সন।
উপকরণ- পেঁয়াজ কুঁচি ১ টেবিল চামুচ, কাঁচামরিচ মরিচ কুঁচি একটা, তেল পরিমাণ মতো, ধনিয়া পাতা কুঁচি পরিমাণ মতো।
রন্ধন প্রণালি
আগে ভালো করে কড়াইটাকে ধুয়ে দিন। এরপর কিছুক্ষণ চুলায় রেখে কড়াইয়ের পানি সম্পূর্ণভাবে শুকিয়ে নিন। পরিমাণ মতো তেল দিয়ে চুলার আগুন একটু কমিয়ে দিন। এবার ১ টেবিল চামুচ পেঁয়াজ কুঁচি, কাঁচা মরিচ কুচিতে একসাথ করে একটা বাটিতে রাখুন। হালকা লবন দিয়ে একটু মাখিয়ে নিন। ডিম ভাজিতে কখনোই হলুদ বা গুড়া মরিচ দিবেন না। এতে ডিম ভাজির কালার নষ্ট হয়ে যায়। আর একটা জিনিসের কালার পছন্দ না হলে খেতে যত মজাই হোক পরিপূর্ণ তৃপ্তি পাওয়া যায় না।
আগে ভালো করে কড়াইটাকে ধুয়ে দিন। এরপর কিছুক্ষণ চুলায় রেখে কড়াইয়ের পানি সম্পূর্ণভাবে শুকিয়ে নিন। পরিমাণ মতো তেল দিয়ে চুলার আগুন একটু কমিয়ে দিন। এবার ১ টেবিল চামুচ পেঁয়াজ কুঁচি, কাঁচা মরিচ কুচিতে একসাথ করে একটা বাটিতে রাখুন। হালকা লবন দিয়ে একটু মাখিয়ে নিন। ডিম ভাজিতে কখনোই হলুদ বা গুড়া মরিচ দিবেন না। এতে ডিম ভাজির কালার নষ্ট হয়ে যায়। আর একটা জিনিসের কালার পছন্দ না হলে খেতে যত মজাই হোক পরিপূর্ণ তৃপ্তি পাওয়া যায় না।
এবার সুন্দর করে ডিমের খোঁসা ছাড়িয়ে নিন। ডিমের খোসা ছাড়ানো একটা আর্ট কিন্তু। সুন্দর করে মাঝখান দিয়ে দু-ভাগ করতে হবে। অন্যভাবে খোসা ছাড়াতে গেলে ডিমের মধ্যে খোসার টুকরা পড়তে পারে। যা ডিমভাজি খেতে দাঁতের নিচে পড়তে পারে! এটা বেশ বিরক্তিকর।
যাই হোক, ডিমের খোসা ছাড়িয়ে সুন্দর করে ডিমকে পেঁয়াজ কুঁচি ও মরিচ কুচির সাথে মিশিয়ে নিবেন। এক্ষেত্রে ডিম মেশানোর জন্য স্পুন অথবা বাজারে পাওয়া এক ধরণের যন্ত্র ব্যবহার করতে পারেন। হাত দিয়ে মেশাতে যাবেন না। হাতে ডিম লেগে হাত পিছলা হয়ে যেতে পারে, কিংবা হাতে কাঁচা ডিমের গন্ধ হয়ে যেতে পারে, অথবা মরিচের জন্য হাত জ্বালাপোড়াও করতে পারে। ডিম, পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচের পেস্টের সাথে একটু ধনিয়া পাতাও দিতে পারেন। এতে বেশ সুন্দর একটা গন্ধ আসবে। কিংবা ধনিয়া পাতা একই সাথে না দিয়ে ডিমভাজি পরিবেশন করার সময় উপরে হালকা দিতে পারেন। এতে দেখতে সুন্দর দেখাবে।
ডিম, পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচ ভালো ভাবে মাখানো শেষ হলে এবার তেল গরম হয়েছে কী না দেখুন। তেল পর্যাপ্ত গরম হলে আগে খুন্তি দিয়ে তেলকে পুরো কড়াইতে একবার ছড়িয়ে নিন। এতে কড়াইয়ের সব জায়গায় তেল থাকবে, ডিম কড়াইতে আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না। এবার ছোট একটা পেঁয়াজ কুঁচি তেলের উপর ছেড়ে দিয়ে দেখুন তেল পর্যাপ্ত গরম হয়েছে কী না। পর্যাপ্ত গরম হলে চুলা আর কিছুটা কমিয়ে দিন। নাহলে ডিম ভাজি তলায় বেশি ভাজা হয়ে হালকা পোড়া মতো দাগ পরে যেতে পারে।
এবার আস্তে করে বাটি থেকে ডিমের পেস্ট কড়াইতে ঢালুন। এরপর যা করতে হবে এই কাজটা বেশ চ্যালেঞ্জিং। এবার কাজ ডিমভাজিকে কড়াইতে সুন্দর করে একদম বৃত্তের মত গোল করা! এটা আপনার ডিম ভাজিকে দেখতে অনেক বেশি আকর্ষনিয় করে তুলবে। সেজন্য খুন্তি দিয়ে ডিম পেস্ট থাকতেই সুন্দর করে চারপাশে ছড়িয়ে দিন যেন দেখতে একদম পরিপূর্ণ সার্কেলের মতো হয়। এরপর ৪৫ সেকেন্ড অপেক্ষা করুন।
৪৫ সেকেন্ড পরে ডিম উল্টাতে হবে। ডিম উল্টানোও সবচেয়ে কঠিন কাজ। লিখে আপনাদের এইটা বোঝানো সম্ভব না। ডিম উল্টানোর জন্য আমাদের একটা স্পেশাল কোর্স আছে। এই কোর্সটা করার জন্য আপনাকে ৩০০০ টাকা দিয়ে ভর্তি হতে হবে। সপ্তাহে ৩ দিন ১ ঘন্টা করে ক্লাস। আমরা ১০ ক্লাসে গ্যারান্টি সহকারে ডিম উলাটানো শিখাই। সদ্য বিবাহিত স্বামী-স্ত্রীর জন্য ১০% ছাড়ও আছে।
ডিম উল্টানো কোর্স শেষ করার পরে আপনি ডিম উল্টাবেন ঠিক ৪৫ সেকেন্ড পরে। খেয়াল রাখবেন ডিমের কালার যেন বেশি ফেড না হয়ে যায়। উল্টানোর পর এবার আরো ৩০ সেকেন্ড রাখুন। মোটামুটি ডিম ভাজি হয়ে গেছে। কালারের দিকে একটু খেয়াল রেখে নামিয়ে ফেলুন।
এরপর একটা প্লেটে নিয়ে ডিম ভাজির উপরে কিছু ধনিয়া পাতা ছড়িয়ে দিয়ে, পাশে কিছুটা টমেটোর স্লাইস করা টুকরা, দু এক স্লাইস গাজর দিয়ে সুন্দর করে পরিবেশন করুন।
ডিম ভাজি – ব্যাচেলর ভার্সন
চুলা জ্বালান, চুলার উপর কড়াই রাখুন। কড়াই না পেলে পাতিল রাখুন। হালকা তেল দিন। অসাবধানতা বসত বেশি পড়ে গেলেও সমস্যা নাই। এবার ডিম নিন। পেঁয়াজ কাটা আর মরিচ কাটার জামেলায় যাওয়ার দরকার নাই। ডিমকে বেসিনের সাথে হালকা একটা বাড়ি দিয়ে ফাটিয়ে খোসা থেকে সরাসরি কড়াইয়ের উপর ফেলুন। এরপর এক চিমটি লবন মেরে দিন। ১ মিনিট পরে কড়াই থেকে সরাসরি ভাতের প্লেটে নিয়ে নিন। উল্টাতে যাওয়ার দরকার নাই। উল্টাতে গিয়ে পরে ডিমটা নিচে ফেলে দিবেন। এবার ভালো করে ভাতের সাথে মিশিয়ে খেয়ে ফেলুন। কালারের কথা না ভাবলেও চলবে!

কোন মন্তব্য নেই