নেমে গেলাম।
তোমার একটা আকাশ হলো।
এরপর তুমি বললে,"সুচালো আলপিনের ডগায়
একটা একটা করে স্বপ্ন গেঁথে আমার এক
লক্ষটা রাত্রির বুকে সেটে দিয়ে
অন্ধকারকে ঢেকে দিতে পারো;ভীষণ ভয়
আমার অন্ধকারে"!
আমি সমস্ত দ্বীচারিতা ভুলে আজন্মের জন্য
ঘুম গুলোকে নির্বাসনে পাঠিয়ে দিলাম
আমার।
বিনিময়ে,রঙ্গিন স্বপ্নের আলোয় দূরীভূত হল
তোমার যত অন্ধকার।
তুমি বললে,"গ্রীষ্মের খরতাপে আমার শরীর
তেতে গেছে,একটা সমুদ্র স্নান করে নিলে
ভাল হতো;আমার একটা সমুদ্র চাই,দিতে
পারো"?
আমি দুচোখে বর্ষন নামালাম;ওরা ব্যার্থ
হলো তোমার মরুদ্যানের জলের তৃষ্ণা
মেটাতে।
আমি ভাল-মন্দের ধার না ঘেঁষে নির্দ্বিধায়
উন্মুক্ত করে দিলাম আমার হৃদয়ের
আন্তঃসলিলা রক্তের ঝর্ণাধারাকে!
বিনিময়ে তোমার একটা নিজস্ব সমুদ্র
হলো;যদিও সে সমুদ্রের জল চোখের নীরের
মত স্বচ্ছ নয়।
তবুও তো তোমার তপ্ত শরীরে,
সেই রক্তাব জলরাশি একটু শীতলতা
এঁনেদিতে পেরেছে এই ভেবে আমি
প্রশান্তির প্রয়াস করলাম ক্ষণিকের জন্যে।
কিন্তু তারপর,
সেঁজুতির বাগান শুকিয়ে গেল
যেদিন,আলগোছে মজা ফুলের দুর্গন্ধ পূর্বজ
সুরভিদের স্থলাভিষিক্ত হল যে ক্ষণে।
আমি তখনো সুখ তন্দ্রায় আচ্ছন্ন,পরিবর্তনের
বাতাস কখন বইতে শুরু করেছে বুঝতেই
পারিনি।
সে ক্ষণে,হঠাৎ তুমি বলে উঠলে-"বারে,তোমা
র আকাশে এত মেঘ কেন,এত মেঘ দিয়ে আমি
কি করবো?
আর তোমার স্বপ্ন,যত্তসব মান্দাতারি
ছলাকলার বাহার,একটু জ্যোতি নেই ওদের
গায়ে।
এত অনুজ্জ্বল আলোতে কি জীবনের
অন্ধকারকে নিশ্চিহ্ন করা যায়?
বা তোমার দেয়া সমুদ্রের কথাই ধরো,কেমন
অস্বস্তিকর লালিমায় আচ্ছাদিত।
এর জলে স্নান করে কি হৃদয়ে পবিত্রতা আনা
যায়?
চাইনা তোমার মেঘলা আকাশ,তোমার নিভু
নিভু স্বপ্নের আলোর আমার দরকার নেই আর
চাইলে তোমার ওমন নোংরা সমুদ্দুরটাও আর
কাউকে দিয়ে দিতে পারো।
আমি চললেম রোদ ঝলমল আকাশের খোঁজে,
অন্য বাতায়নে কেউ নিশ্চয় আমার জন্যে
স্বর্গীয় আলোর রুশনী সমেত স্বপ্ন সাঁজিয়ে
বসে আছে।
তার কাছ থেকে একটা স্ফটিক স্বচ্ছ জলের
সমুদ্রও চেয়ে নিব!"
তুমি বললে,এবং চলে গেলে।
আমি বুঝতেই পারলাম না,যে হৃদয় একবার
বিক্রি হয়ে যায় সে হৃদয়ের পুনর্বার
নিলামের আয়োজন করে স্বর্গাধিপতি ঈশ্বর
কি তৃপ্তি প্রাপ্ত হন!
শুধু অনুভব করলাম,বহু ব্যাবহারের ভয় এবং
লজ্জা থেকে নিষ্কৃতি পেতে আমার বুকের
ভিতর হৃদপিন্ডটা বহু শতাব্দীর স্বাক্ষি
ক্লান্ত ফিনিক্সের মত স্বেচ্ছায় পুড়ে ছাই
হয়ে যাচ্ছে।
কোন মন্তব্য নেই