ভালো থেকে তুমি
ভালো থেকে তুমি
রূপন্তীর সাথে আমার শেষ দেখা হয়েছিল আমাদের ডিভোর্সের দিন কোর্টে। রূপন্তী তখন পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
এই সময়টাতে একজন দায়িত্ববান স্বামীর উচিত সর্বদা তার স্ত্রীর প্রতি খেয়াল রাখা। কিন্তু এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসে আমাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। অবিশ্বাস্য হলেও এটাই সত্যি। এখন হয়তোবা ভাবছেন অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় একটা মেয়ের ডিভোর্স হলো কি করে? আসলে টাকায় হয় না এমন বস্তু এ পৃথিবীতে এখন প্রায় শূন্যের কোটায় চলে এসেছে।
ডিভোর্সটা রূপন্তীর ইচ্ছাতে হলেও এর জন্য পুরো দোষটা মূলত আমার ওপরেই বর্তাই। অথচ আমাদের প্রেমের বিয়ে ছিল। আমরা ছিলাম ক্যাম্পাসের সেরা জুটি। অন্যদের রিলেশন যেখানে এক মাসও টিকতোনা সেখানে আমরা অনায়াসেই বছরের পর বছর কাটিয়ে দিয়েছি। পুরো ক্যাম্পাস লাইফে আমাদের মধ্যে মাত্র দু'বার মনোমালিন্য হয়। সবশেষে আমরা এক সঙ্গে গাঁটছড়াও বেঁধেছি। যদিও রূপন্তীর বাড়ি থেকে আমাদের বিয়েটা কখনোই মেনে নেয়নি। আর কেনই বা মেনে নিবে। পৃথিবীর কোনো মা-বাবাই হয়ত চাইবে না তার মেয়েকে একটা বেকার ছেলের হাতে তুলে দিতে। তবু রূপন্তী সবসময় আমার সাথে ছত্রছায়ার মত ছিল। আমার সুখেদুঃখে সর্বদা সাহস জুগিয়েছে। রূপন্তীই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। আমাদের বিয়েটাও সম্ভব হতোনা যদি না রূপন্তী আমাকে সাহস জোগাতো। নিজেই একদিন বিকালে হুট করে ব্যাগপত্র নিয়ে এসে হাতটা ধরে বলল,"যদি আমাকে আজ এখনই বিয়ে না করো তাহলে কিন্তু আমার মরা মুখ দেখবে।"
ডিভোর্সটা রূপন্তীর ইচ্ছাতে হলেও এর জন্য পুরো দোষটা মূলত আমার ওপরেই বর্তাই। অথচ আমাদের প্রেমের বিয়ে ছিল। আমরা ছিলাম ক্যাম্পাসের সেরা জুটি। অন্যদের রিলেশন যেখানে এক মাসও টিকতোনা সেখানে আমরা অনায়াসেই বছরের পর বছর কাটিয়ে দিয়েছি। পুরো ক্যাম্পাস লাইফে আমাদের মধ্যে মাত্র দু'বার মনোমালিন্য হয়। সবশেষে আমরা এক সঙ্গে গাঁটছড়াও বেঁধেছি। যদিও রূপন্তীর বাড়ি থেকে আমাদের বিয়েটা কখনোই মেনে নেয়নি। আর কেনই বা মেনে নিবে। পৃথিবীর কোনো মা-বাবাই হয়ত চাইবে না তার মেয়েকে একটা বেকার ছেলের হাতে তুলে দিতে। তবু রূপন্তী সবসময় আমার সাথে ছত্রছায়ার মত ছিল। আমার সুখেদুঃখে সর্বদা সাহস জুগিয়েছে। রূপন্তীই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। আমাদের বিয়েটাও সম্ভব হতোনা যদি না রূপন্তী আমাকে সাহস জোগাতো। নিজেই একদিন বিকালে হুট করে ব্যাগপত্র নিয়ে এসে হাতটা ধরে বলল,"যদি আমাকে আজ এখনই বিয়ে না করো তাহলে কিন্তু আমার মরা মুখ দেখবে।"
আমিও তাই রীতিমত বাধ্যই হয়েছিলাম সেদিন রূপন্তীকে বিয়ে করতে। যদিও তার ভরণপোষণ মেটানোর মত যৎসামান্য ক্ষমতাও আমার ছিল না। তবু রূপন্তীর মত ধনীর দুলালী এক কাপড়ে আমার সাথে মাসের পর মাস কাটিয়ে দিতেও কখনো কোনোরূপ কুণ্ঠাবোধ করেনি। টিউশনির টাকাই কোনো রকমে টেনেটুনে মাস কাটাতে হয়েছে। কখনো দুবেলা খাবার জুটেছে কখনোবা একবেলা। তবুও কখনো মুখ দিয়ে টু শব্দও করেনি রূপন্তী। হাসিমুখে আমার সাথে এক ছাদের নিচে দিনের পর দিন পার করে দিয়েছে।
অবশ্য আমাদের বিয়ের প্রায় দেড় বছর পর আমার একটা মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি হয়ে যায়। মোটামুটি একরকম স্বচ্ছল ভাবেই দিন কেটে যাচ্ছিল আমাদের।
তবে কাজের চাপ আর ব্যস্ততা আমাকে গ্রাস করে ফেলছিলো। চাইলেও রূপন্তীকে সময় দিতে পারতামনা। আগে অর্থাভাব ছিল কিন্তু সুখের কোনো অন্ত ছিল না। আর এখন অর্থ আছে ঠিকই তবে সুখ নামক জিনিসটা দিনে দিনে বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। জানি রূপন্তীও খুব একাকীত্ব বোধ করে তবে মুখে কিছু বলেনা। তবে বেশ কিছুদিন হলো রূপন্তী আর আগের মতো আচরণ করেনা। আগে অফিস থেকে ফিরতে দেরী হলে টেবিল খাবার নিয়ে বসে থাকত। আর এখন আগেভাগেই খেয়ে নেয়। ঠিক মত তেমন কথাও বলেনা। অবশ্য সারাদিন এমন বাসায় একা একা থাকলে যেকোনো মেয়েরই মন খারাপ হবে এটাই স্বাভাবিক।
অবশ্য আমাদের বিয়ের প্রায় দেড় বছর পর আমার একটা মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি হয়ে যায়। মোটামুটি একরকম স্বচ্ছল ভাবেই দিন কেটে যাচ্ছিল আমাদের।
তবে কাজের চাপ আর ব্যস্ততা আমাকে গ্রাস করে ফেলছিলো। চাইলেও রূপন্তীকে সময় দিতে পারতামনা। আগে অর্থাভাব ছিল কিন্তু সুখের কোনো অন্ত ছিল না। আর এখন অর্থ আছে ঠিকই তবে সুখ নামক জিনিসটা দিনে দিনে বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। জানি রূপন্তীও খুব একাকীত্ব বোধ করে তবে মুখে কিছু বলেনা। তবে বেশ কিছুদিন হলো রূপন্তী আর আগের মতো আচরণ করেনা। আগে অফিস থেকে ফিরতে দেরী হলে টেবিল খাবার নিয়ে বসে থাকত। আর এখন আগেভাগেই খেয়ে নেয়। ঠিক মত তেমন কথাও বলেনা। অবশ্য সারাদিন এমন বাসায় একা একা থাকলে যেকোনো মেয়েরই মন খারাপ হবে এটাই স্বাভাবিক।
এর বেশ কিছুদিন পর একদিন বাসায় ফিরে দেখি পুরো বাসা সুশোভিত। ফুলদানিতে শোভা পাচ্ছে রজনীগন্ধা। আর রূপন্তীও খুব সেজেছে। পরনে নীল শাড়ি,ম্যাচিং ব্লাউজ,চোখের নিচে লেপ্টে থাকা কাজল,হাতে নীল কাচের চুড়ি,কপালে টিপ আর খোঁপায় বকুলের মালা। এসব দেখে মুহূর্তেই হকচকিয়ে গেছিলাম। কিছুতেই আঁচ করতে পারছিলাম না কেনো এত আয়োজন। রূপন্তীর ডাকে সম্ভিত ফিরে পেলাম।
-এই যে মশাই শুনছেন?
-আজকে কি এমন যে এভাবে পুরো বাড়ি সাজিয়েছো হুম?
-সেটাই তো তোমাকে বলতে চাই।
-এতো ভনিতা না করে তাড়াতাড়ি বলে ফেলো তো শুনি। আমার না প্রচন্ড ক্ষুধা পেয়েছে। আর আমি খুব টায়ার্ড।
-জানো,আজ না সারাদিন আমি তোমার পছন্দের সব আইটেম রান্নাবান্না করেছি। বিরিয়ানি,গরুর মাংস,ইলিশ মাছের পাতুরি,চিংড়ির দোপেয়াজা আর আমার হাতের স্পেশাল ফিরনি।
-ওরে বাবা এতে কিছু রান্না করেছো। কিন্তু আজ হঠাৎ এসব কেনো? আজ তো কারো বার্থডে কিংবা আমাদের ম্যারেজ অ্যানেভার্সেরিও না।
-আরে বুদ্ধু তুমি আমাকে বলতে দিছো এখন পর্যন্ত যে আমি বলব।
-ও হ্যা তাও অবশ্য ঠিক। তাহলে তাড়াতাড়ি বলে ফেলো তো শুনি এসবের পেছনে রহস্যটা কি।
-সাইফ.....
-হুম বলো। থামলে কেনো?
-আসলে আমার না খুব লজ্জা লাগতিছে তোমাকে কথাটা বলতে।
-আরে আমি তো তোমার হাজবেন্ড হই তাই না,আমার কাছে তোমার এত লজ্জা কিসের।
-তবুও.......কি করে যে তোমাকে বলি।
-আচ্ছা আমি পেছন ঘুরে দাড়াচ্ছি। তুমি চোখ বন্ধ করে বন্ধ ফেলো।
-আচ্ছা এবার তাহলে বলেই ফেলি।
-হুম বলো।
-সাইফ,আমি......আমি না মা হতে চলেছি।
-এই যে মশাই শুনছেন?
-আজকে কি এমন যে এভাবে পুরো বাড়ি সাজিয়েছো হুম?
-সেটাই তো তোমাকে বলতে চাই।
-এতো ভনিতা না করে তাড়াতাড়ি বলে ফেলো তো শুনি। আমার না প্রচন্ড ক্ষুধা পেয়েছে। আর আমি খুব টায়ার্ড।
-জানো,আজ না সারাদিন আমি তোমার পছন্দের সব আইটেম রান্নাবান্না করেছি। বিরিয়ানি,গরুর মাংস,ইলিশ মাছের পাতুরি,চিংড়ির দোপেয়াজা আর আমার হাতের স্পেশাল ফিরনি।
-ওরে বাবা এতে কিছু রান্না করেছো। কিন্তু আজ হঠাৎ এসব কেনো? আজ তো কারো বার্থডে কিংবা আমাদের ম্যারেজ অ্যানেভার্সেরিও না।
-আরে বুদ্ধু তুমি আমাকে বলতে দিছো এখন পর্যন্ত যে আমি বলব।
-ও হ্যা তাও অবশ্য ঠিক। তাহলে তাড়াতাড়ি বলে ফেলো তো শুনি এসবের পেছনে রহস্যটা কি।
-সাইফ.....
-হুম বলো। থামলে কেনো?
-আসলে আমার না খুব লজ্জা লাগতিছে তোমাকে কথাটা বলতে।
-আরে আমি তো তোমার হাজবেন্ড হই তাই না,আমার কাছে তোমার এত লজ্জা কিসের।
-তবুও.......কি করে যে তোমাকে বলি।
-আচ্ছা আমি পেছন ঘুরে দাড়াচ্ছি। তুমি চোখ বন্ধ করে বন্ধ ফেলো।
-আচ্ছা এবার তাহলে বলেই ফেলি।
-হুম বলো।
-সাইফ,আমি......আমি না মা হতে চলেছি।
বলেই রূপন্তী এক দৌড়ে বারান্দায় চলে গেলো। আমিও আর খুশিতে নিজেকে সামলে রাখতে পারছিনা। বারান্দায় গিয়ে দেখি রূপন্তী এখনও হাত দিয়ে মুখখানা ঢেকে রেখেছে। বড্ড লাজুক স্বভাবের মেয়ে তো।
রূপন্তীর কাঁধে হাত রাখা মাত্রই আমার উপস্থিতি টের পেয়ে আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল রূপন্তী। আমাদের বৈবাহিক জীবনে রূপন্তীকে এতো খুশি আমি কোনোদিনও দেখিনি। সন্তানের আগমনে হয়ত স্বামীর থেকেও বেশি খুশি স্ত্রীরা হয়। মেয়েটা আজ খুশিতে রীতিমত কেঁদেই ফেলেছে।
এভাবে বেশ ভালোই কেটে যাচ্ছিল আমাদের দিন। কিন্তু এই সময়টাতে এসেও রূপন্তীকে আমি সময় দিতে পারিনি। অবশ্য রূপন্তী অনেকবার বলেছিল এই চাকরিটা ছেড়ে দিতে। কিন্তু এই চাকরিটাই যে আমার যক্ষের ধন। টিউশনির টাকাই কি আর সংসার চলে। কিন্তু রূপন্তী কিছুতেই আমার কথা শুনেনা। দরকার হলে ফুটপাতে থাকবে সে,খোলা আকাশের নিচে নাকি অমাবস্যার চাঁদ দেখতে বেশ লাগে। কিন্তু তার শুধু আমাকেই চাই। তবু যে আমাকে পরিশ্রম করেই যেতে হবে। রূপন্তী আর আমাদের অনাগত সন্তানের কথা ভেবে হলেও পরিশ্রম করে যেতে হবে। আর তাই করেছিও। দিনরাত এক করে ভূতের মত পরিশ্রম করে গেছি। এতে স্বচ্ছলতা এসেছে ঠিকই তবে সুখ আসেনি।
রূপন্তীর কাঁধে হাত রাখা মাত্রই আমার উপস্থিতি টের পেয়ে আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল রূপন্তী। আমাদের বৈবাহিক জীবনে রূপন্তীকে এতো খুশি আমি কোনোদিনও দেখিনি। সন্তানের আগমনে হয়ত স্বামীর থেকেও বেশি খুশি স্ত্রীরা হয়। মেয়েটা আজ খুশিতে রীতিমত কেঁদেই ফেলেছে।
এভাবে বেশ ভালোই কেটে যাচ্ছিল আমাদের দিন। কিন্তু এই সময়টাতে এসেও রূপন্তীকে আমি সময় দিতে পারিনি। অবশ্য রূপন্তী অনেকবার বলেছিল এই চাকরিটা ছেড়ে দিতে। কিন্তু এই চাকরিটাই যে আমার যক্ষের ধন। টিউশনির টাকাই কি আর সংসার চলে। কিন্তু রূপন্তী কিছুতেই আমার কথা শুনেনা। দরকার হলে ফুটপাতে থাকবে সে,খোলা আকাশের নিচে নাকি অমাবস্যার চাঁদ দেখতে বেশ লাগে। কিন্তু তার শুধু আমাকেই চাই। তবু যে আমাকে পরিশ্রম করেই যেতে হবে। রূপন্তী আর আমাদের অনাগত সন্তানের কথা ভেবে হলেও পরিশ্রম করে যেতে হবে। আর তাই করেছিও। দিনরাত এক করে ভূতের মত পরিশ্রম করে গেছি। এতে স্বচ্ছলতা এসেছে ঠিকই তবে সুখ আসেনি।
এক ঝড়বৃষ্টির রাতে অফিস থেকে আসতে বেশ দেরী হয়ে যায়। এসে দেখি দরজায় তালা ঝুলছে। ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে দেখি বাসা একদম ফাঁকা। বাসায় কেউ নেই। পাশের ফ্লাটের ভাবির কাছে শুনতেই সে জানাই তার সাথে নাকি রূপন্তীর শেষ দেখা হয়েছিল দুপুরবেলা ছাদে কাপড় নাড়তে গিয়ে। তারপর নাকি আর তার সাথে দেখাই হয়নি। পুরো ফ্লাট,ছাদ তন্নতন্ন করে খুঁজেও কোথাও রূপন্তীকে পেলামনা। এদিকে রূপন্তীর ফোনটাও সুইচড অফ। সামান্য একটু বাইরে গেলেও রূপন্তীকে আমাকে ফোন করে যাই। আর আজ হঠাৎ এভাবে হুট করে না বলে কয়ে চলে যাওয়ায় আমার মধ্যে রীতিমত ভয় ধরে গেলো। ফ্লাটের দারোয়ানের কাছ থেকে শুধু এটুকু জানতে পারলাম যে তার সাথে শেষ দেখা হয়েছে বিকালে। রূপন্তীকে নাকি সে আনুমানিক বিকাল সাড়ে চারটার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে যেতে দেখেছে।
এদিকে না পারছি এই ঝড়বৃষ্টির রাতে এতো বড় শহরে রূপন্তীকে খুঁজতে। না পারছি রূপন্তীর বাড়িতে জানাতে। তবে আশেপাশের পরিচিত সব নিকটাত্মীয়ের কাছেই খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম রূপন্তী সেখানে যাইনি। আর বাবার বাড়ি যাওয়ারও কথা নয়। কারণ,আমাদের বিয়ের পর থেকে এ পর্যন্ত রূপন্তী কোনোদিন ওই বাড়ির ছায়া পর্যন্ত মাড়াইনি। অবস্থা বেগতিক দেখে তীব্র ঝড়বৃষ্টি উপেক্ষা করেই ছাতাটা নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম রূপন্তীর খোঁজে। কিন্তু শেষমেশ রূপন্তীকে না পেয়ে হতাশাই পদদলিত হয়ে ক্ষীণ আশাটুকুও অম্লান হয়ে গেল। এদিকে যেমন ভয় বাড়ছে তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দুশ্চিন্তাও। দুশ্চিন্তা এতটা জটিল আকার ধারণ করতোনা যদি না আজ রূপন্তী আর দশটা মেয়ের মত স্বাভাবিক অবস্থায় থাকতো। কারণ,সে এখন অন্তঃসত্ত্বা। যেকোনো মুহূর্তেই কোনো একটা দুর্ঘটনা ঘটে যেতেই পারে।
এ মুহূর্তেই কারো সাথে সবকিছু শেয়ার করার মতন অবস্থাও নেই। কারণ,আমার এ কূলে আপন বলতে ছিল শুধু আমার মামাতো বোন ঐশী। কিন্তু সে ও গত বছর অস্ট্রেলিয়া চলে গেছে স্বামীর সাথে। শুনেছে একটা ফুটফুটে বাচ্চাও হয়েছে। দূরত্ব বাড়লেও আমাদের ভাইবোনের মধুর সম্পর্কটা কখনো লোপ পায়নি। প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার করে হলেও ফোন দিয়ে খোঁজ নেই। রূপন্তীর সাথেও অবশ্য বেশ সখ্য ঐশীর। কিন্তু এই মুহূর্তে ঐশীকেও ফোনে পাওয়া যাচ্ছেনা। আর পরিবার-আত্মীয়স্বজনের বাকি সবাই গত হয়েছেন প্রায় বেশ কয়েক বছর হলো। দুঃসম্পর্কের আত্মীয়গুলোর চিন্তা শুধু শুধু মাথায় না আনাই ভালো। পকেট ভর্তি টাকা থাকলে অতি দূরের আত্মীয়রাও আপনের চেয়েও বেশি আপনের ন্যায় আচরণ করে। আর নুন আনতে পান্তা ফুরোয় মত অবস্থা হলে রক্তের সম্পর্কের মানুষগুলোও আপনাআপনিই কেমন অচেনা হয়ে যায়।
এ মুহূর্তে তাই একমাত্র সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ ছাড়া কারোর কাছেই শরনাপন্ন হওয়ার মত অবস্থা নেই। জানি কোনো কাজ হবেনা,তবুও থানাই একটা মিসিং ডায়েরী করে বাসায় চলে আসলাম।
এ মুহূর্তে তাই একমাত্র সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ ছাড়া কারোর কাছেই শরনাপন্ন হওয়ার মত অবস্থা নেই। জানি কোনো কাজ হবেনা,তবুও থানাই একটা মিসিং ডায়েরী করে বাসায় চলে আসলাম।
এদিকে অফিসের সারাদিনের কাজের ধকলে মাথাটাও ধরেছে খুব। সেই দুপুরে একবার লাঞ্চ করেছি। তারপর আর খাওয়ার সময় বা সুযোগ কোনোটাই হয়ে ওঠেনি। আর এখন গলা দিয়ে কিছু নামবেও না। তবু কফির নেশায় কিচেনের দিকে পা বাড়ালাম।
পাতিলের ভেতর টগবগ করে পানি ফুটছে। কফির বৈয়ামটা খুলতেই দেখি ভেতরে একটি নীল খাম। চিঠি সদৃশ কিছু একটা হবে হয়ত।
হ্যা,আমার অনুমানটাই বাস্তবে রূপ নিলো। খামের ভেতরে গোটা গোটা অক্ষরে লেখা একটা চিঠি ছিল। চিনতেও বেগ পেতে হলোনা যে এটা রূপন্তীরই হাতের লেখা। পুরো ক্যাম্পাস লাইফে মেয়েটা আমাকে এতো এতো চিঠি লিখেছে যে না চেনার কোনো প্রশ্নই আসেনা। এখনো চিঠিগুলো সযত্নে আমার সংগ্রহে আছে।
তবে আজকের লেখাই ভালোবাসার লেশ মাত্র নেই সেটা তীব্রভাবে প্রস্ফুটিত হচ্ছে। তবুও ক্ষীণ আশা আর ভয় নিয়ে ব্যালকনিতে বসে কফি কাপে চুমুক দিতে দিতে চিঠিটা পড়া শুরু করলাম-
প্রিয় এবং অপ্রিয়ের মাঝে মানুষকে কি বলে সম্বোধন করতে হয় তা আমার জানা নেই। তাই চিঠির প্রথমেই তোমার কাছে আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
আমাকে এতক্ষণ খুঁজে খুঁজে না পেয়ে নিশ্চয় ক্লান্ত হয়ে ব্যালকনিতে ইজি চেয়ারটায় বসে আছো। জানি কফির কাপটাও কিছুক্ষণ পর পর তোমার দুঠোঁটের ফাঁক গলে স্পর্শ করছে। জানো,এই ধোঁয়া ওঠা কফির কাপটাও না আমার থেকে ভাগ্যবান। শেষ দুবছরে আমার চেয়েও বেশি ভালোবাসা পেয়েছে তোমার এই গরম ধোঁয়া ওঠা কফি। কখনো কারো হাতের বানানো কফি স্পর্শ করেও দেখোনি। সবসময় নিজে হাতে বানিয়েছো। যদিও আমার হাতের বানানো কফি কখনো ফেলে দিতে পারোনি। অনুরোধের ঢেঁকী গিলে ঠিকই খেয়েছো। কিন্তু সেই ভালোবাসার সামান্যতম অংশটুকুও আমি পায়নি। বরং বঞ্চিত হয়েছে দিনের পর দিন। সঙ্গমের মুহূর্তে জেগে ওঠা প্রেম ব্যতিত আমাদের মধ্যে আদৌও কি কোনো প্রেম ছিল? জানি এ প্রশ্নের উত্তরও তোমার কাছে নেই। দিনরাত এক করে শুধু পরিশ্রমই করে গেছো। কিন্তু কখনো কি জানতে চেয়েছো আমি কি চাই? আমি কিসে খুশি থাকব? আমি তো তোমার কাছে দামি দামি শাড়ি,গহনা এসবের কিছুই চাইনি। আমি তো শুধু তোমাকে চেয়েছিলাম। চাকরি পাওয়ার আগের তুমি আর এই তুমির মধ্যে এখন অনেক তফাৎ। সেই এক কাপড়ে মাসের পর মাস কাটানোর দিনগুলোই আমার কাছে চরম সুখের ছিলো। এখন আর জৌৎস্না রাতে তোমার কাঁধে মাথা রেখে চাঁদ দেখা হয়না,তোমার হাতে হাত রেখে শহরের অলিগলিতে আর হাঁটা হয়না। সময়ের সাথে সাথে আমাকে ভালো রাখার মোহে তুমি ভুলেই গেছো আমার কথা। আমার প্রয়োজন এখন তোমার কাছে অতি নগণ্য।
আমাকে খুঁজে কোনো লাভ নেই আর। আর খুঁজলেও কখনো পাবেনা। তবে হ্যা,চিন্তা করোনা আমাদের অনাগত সন্তানের বাবার পরিচয় আমি তোমাকেই দেবো। তবে সেটা তোমার সম্মতিতেই। ডিভোর্সের কাগজপত্র সময় মত ঠিকই পেয়ে যাবে। তোমার প্রতি আমার আর কোনো অভিযোগ নেই। ভালো থেকো তুমি।
ইতি
রূপন্তী
পাতিলের ভেতর টগবগ করে পানি ফুটছে। কফির বৈয়ামটা খুলতেই দেখি ভেতরে একটি নীল খাম। চিঠি সদৃশ কিছু একটা হবে হয়ত।
হ্যা,আমার অনুমানটাই বাস্তবে রূপ নিলো। খামের ভেতরে গোটা গোটা অক্ষরে লেখা একটা চিঠি ছিল। চিনতেও বেগ পেতে হলোনা যে এটা রূপন্তীরই হাতের লেখা। পুরো ক্যাম্পাস লাইফে মেয়েটা আমাকে এতো এতো চিঠি লিখেছে যে না চেনার কোনো প্রশ্নই আসেনা। এখনো চিঠিগুলো সযত্নে আমার সংগ্রহে আছে।
তবে আজকের লেখাই ভালোবাসার লেশ মাত্র নেই সেটা তীব্রভাবে প্রস্ফুটিত হচ্ছে। তবুও ক্ষীণ আশা আর ভয় নিয়ে ব্যালকনিতে বসে কফি কাপে চুমুক দিতে দিতে চিঠিটা পড়া শুরু করলাম-
প্রিয় এবং অপ্রিয়ের মাঝে মানুষকে কি বলে সম্বোধন করতে হয় তা আমার জানা নেই। তাই চিঠির প্রথমেই তোমার কাছে আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
আমাকে এতক্ষণ খুঁজে খুঁজে না পেয়ে নিশ্চয় ক্লান্ত হয়ে ব্যালকনিতে ইজি চেয়ারটায় বসে আছো। জানি কফির কাপটাও কিছুক্ষণ পর পর তোমার দুঠোঁটের ফাঁক গলে স্পর্শ করছে। জানো,এই ধোঁয়া ওঠা কফির কাপটাও না আমার থেকে ভাগ্যবান। শেষ দুবছরে আমার চেয়েও বেশি ভালোবাসা পেয়েছে তোমার এই গরম ধোঁয়া ওঠা কফি। কখনো কারো হাতের বানানো কফি স্পর্শ করেও দেখোনি। সবসময় নিজে হাতে বানিয়েছো। যদিও আমার হাতের বানানো কফি কখনো ফেলে দিতে পারোনি। অনুরোধের ঢেঁকী গিলে ঠিকই খেয়েছো। কিন্তু সেই ভালোবাসার সামান্যতম অংশটুকুও আমি পায়নি। বরং বঞ্চিত হয়েছে দিনের পর দিন। সঙ্গমের মুহূর্তে জেগে ওঠা প্রেম ব্যতিত আমাদের মধ্যে আদৌও কি কোনো প্রেম ছিল? জানি এ প্রশ্নের উত্তরও তোমার কাছে নেই। দিনরাত এক করে শুধু পরিশ্রমই করে গেছো। কিন্তু কখনো কি জানতে চেয়েছো আমি কি চাই? আমি কিসে খুশি থাকব? আমি তো তোমার কাছে দামি দামি শাড়ি,গহনা এসবের কিছুই চাইনি। আমি তো শুধু তোমাকে চেয়েছিলাম। চাকরি পাওয়ার আগের তুমি আর এই তুমির মধ্যে এখন অনেক তফাৎ। সেই এক কাপড়ে মাসের পর মাস কাটানোর দিনগুলোই আমার কাছে চরম সুখের ছিলো। এখন আর জৌৎস্না রাতে তোমার কাঁধে মাথা রেখে চাঁদ দেখা হয়না,তোমার হাতে হাত রেখে শহরের অলিগলিতে আর হাঁটা হয়না। সময়ের সাথে সাথে আমাকে ভালো রাখার মোহে তুমি ভুলেই গেছো আমার কথা। আমার প্রয়োজন এখন তোমার কাছে অতি নগণ্য।
আমাকে খুঁজে কোনো লাভ নেই আর। আর খুঁজলেও কখনো পাবেনা। তবে হ্যা,চিন্তা করোনা আমাদের অনাগত সন্তানের বাবার পরিচয় আমি তোমাকেই দেবো। তবে সেটা তোমার সম্মতিতেই। ডিভোর্সের কাগজপত্র সময় মত ঠিকই পেয়ে যাবে। তোমার প্রতি আমার আর কোনো অভিযোগ নেই। ভালো থেকো তুমি।
ইতি
রূপন্তী
চিঠিটা পড়া শেষ হতেই দেখি চোখ দুটো একদম ভিজে গেছে। বাইরে ঝড়বৃষ্টিও প্রায় থেমে গেছে। থেমে গেছে আমার জীবনটাও। এখন বুঝতে পারি আমার জীবনের সাথে কতটা আষ্টেপিষ্টে জড়িয়ে ছিল রূপন্তী। কিন্তু এখন আমার আর কিছুই করার নেই। আমাদের ডিভোর্সটাও হয়ে গেছে।
এরপর প্রায় চার মাস কেটে গেছে। রূপন্তীর সাথেও আর কোনোরূপ যোগাযোগ হয়নি। এর বেশ কিছুদিন পর হঠাৎই একদিন এক বয়স্ক মহিলা ফোন দিয়ে বলল-
-হ্যালো,এটা কি সাইফের নাম্বার?
-জ্বি,আমিই সাইফ। কিন্তু আপনি কে বলছেন?
-বাবা,আমি রূপন্তীর মা। দেখো তোমাদের মধ্যে কি হয়েছে আমি জানিনা। তুমিও আর আমাদের ওপর রাগ করে থেকোনা। আর হ্যা রূপন্তীর অবস্থাও খুব একটা ভালো না। ল্যাব এইড হাসপাতালে ওকে ভর্তি করা হয়েছে। যদি পারো একবার এসে দেখা করে যেও। রূপন্তী তোমার সাথে একবার দেখা করতে চায়।
-আচ্ছা আপনি ঠিকানাটা আমাকে টেক্সট করে দিন।আমি যত দ্রুত সম্ভব চলে আসছি।
এরপর প্রায় চার মাস কেটে গেছে। রূপন্তীর সাথেও আর কোনোরূপ যোগাযোগ হয়নি। এর বেশ কিছুদিন পর হঠাৎই একদিন এক বয়স্ক মহিলা ফোন দিয়ে বলল-
-হ্যালো,এটা কি সাইফের নাম্বার?
-জ্বি,আমিই সাইফ। কিন্তু আপনি কে বলছেন?
-বাবা,আমি রূপন্তীর মা। দেখো তোমাদের মধ্যে কি হয়েছে আমি জানিনা। তুমিও আর আমাদের ওপর রাগ করে থেকোনা। আর হ্যা রূপন্তীর অবস্থাও খুব একটা ভালো না। ল্যাব এইড হাসপাতালে ওকে ভর্তি করা হয়েছে। যদি পারো একবার এসে দেখা করে যেও। রূপন্তী তোমার সাথে একবার দেখা করতে চায়।
-আচ্ছা আপনি ঠিকানাটা আমাকে টেক্সট করে দিন।আমি যত দ্রুত সম্ভব চলে আসছি।
কিছুক্ষণ পর হাসপাতালে পৌঁছে দেখি রূপন্তীর বাবা-মা দাঁড়িয়ে আছেন। আমাকে তারা চিনতে না পারলেও আমি তাদের ঠিকই চিনেছি। রূপন্তীর কাছে ওনাদের ছবি দেখেছিলাম। গিয়ে পরিচয় দিতেই দুজনে কান্নাই ভেঙে পড়লেন। আমাকে তারা ভেতরে যেতে বললেন। ভেতরে ঢুকেই দেখি রূপন্তীর মুখে অক্সিজেন মাক্স। তার ঠিক পাশেই সদ্য জন্ম নেওয়া একটা শিশু। আমাকে দেখেই অক্সিজেন মাক্সটা খুলে ফেলল রূপন্তী। আমিও ওর পাশে গিয়ে বসলাম।
-দেখেছো আমাদের মেয়েটা দেখতে কি সুন্দর হয়েছে।
-হুম ঠিক তোমার মতই সুন্দর।
-এখন তোমাকে কিছু বলতে চাই আমি। খুব মন দিয়ে শুনবে কিন্তু।
-আচ্ছা শুনছি বলো।
-দেখো আমার সময় তো প্রায় শেষ। যেকোনো মুহূর্তেই সবাইকে ছেড়ে চলে যেতে পারি। তুমি যদি পারো আমাদের মেয়েটাকে দেখে রেখো। ওর শরীরেও কিন্তু তোমার রক্তই বইছে। আর আমার শেষ ইচ্ছা তুমি একটা সুন্দরী মেয়ে দেখে বিয়ে করে নিও। আমার জীবন না হয় শেষ। কিন্তু তোমার জীবন শেষ হয়ে যেতে দিওনা। ঘরে সুন্দরী দেখে একটা নতুন বউ এনে সবকিছু আবার সুন্দর করে সাজিয়ে তুলো। তোমার প্রতি আজও আমার কোনো অভিযোগ নেই। ভালো থেকো তুমি।
-দেখেছো আমাদের মেয়েটা দেখতে কি সুন্দর হয়েছে।
-হুম ঠিক তোমার মতই সুন্দর।
-এখন তোমাকে কিছু বলতে চাই আমি। খুব মন দিয়ে শুনবে কিন্তু।
-আচ্ছা শুনছি বলো।
-দেখো আমার সময় তো প্রায় শেষ। যেকোনো মুহূর্তেই সবাইকে ছেড়ে চলে যেতে পারি। তুমি যদি পারো আমাদের মেয়েটাকে দেখে রেখো। ওর শরীরেও কিন্তু তোমার রক্তই বইছে। আর আমার শেষ ইচ্ছা তুমি একটা সুন্দরী মেয়ে দেখে বিয়ে করে নিও। আমার জীবন না হয় শেষ। কিন্তু তোমার জীবন শেষ হয়ে যেতে দিওনা। ঘরে সুন্দরী দেখে একটা নতুন বউ এনে সবকিছু আবার সুন্দর করে সাজিয়ে তুলো। তোমার প্রতি আজও আমার কোনো অভিযোগ নেই। ভালো থেকো তুমি।
কথাটা বলতে বলতেই রূপন্তী আমার কোলে ঢলে পড়ল। নিমিষেই চোখ দুটিও বন্ধ হয়ে গেল। তারপর আর কোনোদিনই আঁখি জোড়া মেলেনি রূপন্তী। সবাইকে কাঁদিয়ে পরপারে পাড়ি জমায়। আজও আমি পারলামনা সেদিনের মত রূপন্তীর চলে যাওয়া থেকে আটকাতে। তার আগেই আমাকে নিঃস্ব করে দিয়ে চলে গেল রূপন্তী।
আমার কানে এখনও প্রতিনিয়ত বেজে ওঠে রূপন্তীর সেই সুমধুর কণ্ঠস্বর। রূপন্তীর মত গলায় কে যেন বারবার বলে ওঠে,"ভালো থেকে তুমি।"
রাফিদ

কোন মন্তব্য নেই