সুখ
মা:-কিরে, ঠাণ্ডা হয়ে গেল তো সব, আরেকবার গরম করে দেই? কি এতো ভাবছিস বল তো।মারে, টাকা নেই তোর কাছে, তাইনা!!
আমি:-কিসের টাকা মা??
মা:-সে কিরে সবেই তো বললাম শিবুর বেতনের কথাটা।
আমি:-ওহ আচ্ছা। মা তুমি খেয়েছ?
মা:-না রে, খেয়ে ওঠ তুই।
আমি:-বসো মা,আমার সাথে খাও প্লিজ। তোমার সাথে বসে শেষ কবে খেয়েছি তাই তো মনে পড়ছে না।এসো, বসো।
মা:-বসছি দাড়া। কি যেন ভাবছিলি তুই??
আমি:-ভাবছি আরো একটা টিউশন পাওয়া যায় কিনা। যে চারটে টিউশন করি ওতে তো ঘর ভাড়া আর শিবুর পড়ার খরচ দিয়েই শেষ। ভালো মন্দ দু-চারটা খাওয়াতে পারিনা তোমাদের। বাবার শরীরের অবস্থাও ভালো না। ভালো একটা ডাক্তার না দেখালেই নয়।
মেয়ে হওয়ার সুবাদে টিউশন ও খুজে পাইনা খুব একটা। অভিভাবকেরাও কেন জানি পুরুষ টিউটর ডিমান্ড করেন।মেয়েরা যেন ঘাস খেয়ে পরীক্ষায় পাশ করেছে। তাজিন ভাইয়াকে বলো তো একবার একটা টিউশন ম্যানেজ করে দিতে। যদি পেয়ে যাই তো বাঁচলাম।
মা:-তাজিনের মা সেদিন বলছিল তোর ব্যাপারে।
আমি:-আমার ব্যাপারে?কি করলাম আমি আবার
মা:-তার জানা শোনা একটা ভালো ছেলে আছে তুই যদি রাজি থাকিস তো ওরা.....
আমি:-আমার খাওয়া শেষ মা,আমি উঠলাম।
মা:-শুননা.........
আমি:-কিসের টাকা মা??
মা:-সে কিরে সবেই তো বললাম শিবুর বেতনের কথাটা।
আমি:-ওহ আচ্ছা। মা তুমি খেয়েছ?
মা:-না রে, খেয়ে ওঠ তুই।
আমি:-বসো মা,আমার সাথে খাও প্লিজ। তোমার সাথে বসে শেষ কবে খেয়েছি তাই তো মনে পড়ছে না।এসো, বসো।
মা:-বসছি দাড়া। কি যেন ভাবছিলি তুই??
আমি:-ভাবছি আরো একটা টিউশন পাওয়া যায় কিনা। যে চারটে টিউশন করি ওতে তো ঘর ভাড়া আর শিবুর পড়ার খরচ দিয়েই শেষ। ভালো মন্দ দু-চারটা খাওয়াতে পারিনা তোমাদের। বাবার শরীরের অবস্থাও ভালো না। ভালো একটা ডাক্তার না দেখালেই নয়।
মেয়ে হওয়ার সুবাদে টিউশন ও খুজে পাইনা খুব একটা। অভিভাবকেরাও কেন জানি পুরুষ টিউটর ডিমান্ড করেন।মেয়েরা যেন ঘাস খেয়ে পরীক্ষায় পাশ করেছে। তাজিন ভাইয়াকে বলো তো একবার একটা টিউশন ম্যানেজ করে দিতে। যদি পেয়ে যাই তো বাঁচলাম।
মা:-তাজিনের মা সেদিন বলছিল তোর ব্যাপারে।
আমি:-আমার ব্যাপারে?কি করলাম আমি আবার
মা:-তার জানা শোনা একটা ভালো ছেলে আছে তুই যদি রাজি থাকিস তো ওরা.....
আমি:-আমার খাওয়া শেষ মা,আমি উঠলাম।
মা:-শুননা.........
বেশ কদিন ধরেই লক্ষ্য করছি শিমান্ত কেমন পালটে পালটে যাচ্ছে, আগের মত আর কথা হয়না দেখা করা তো অনেক দূরেই থাক।অবশ্য ব্যাস্ততা যেভাবে ঘিরে ধরে আছে তাতে নিজের জন্যই সময় বের করা কষ্টের হয়ে পরে। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের একটু বেশীই সাধারণ মেয়ে আমাকে যে সে এতোদিন আগলে রেখেছে তাই বা কম কিসের। আমাদের গল্পের শুরুতে আমরা দুজনেই বাচ্চা ছিলাম। সেই সাত বছর আগের শীমান্ত আর এই শীমান্তের যদিও অনেক তফাৎ। শীমান্ত বদলে গেছে এটা বুঝা আমার জন্য কোনো ব্যাপার ই না। বদলাইনি শুধু আমি, সেই সাত বছর আগে যখন তার কোনো সম্বল ছিলনা আমি তার পাশে ছিলাম, আর সেও ছিল আমার পাশে আমার ছায়া হয়ে। আজ শীমান্ত সাকসেসফুল একটা ছেলে, আমি আজও ঠিক আগের মতই তার পাশে আছি, তবে সে কি ঠিক আগের মতই আমার ছায়া হয়ে আছে কিনা তাতে আমার যথেষ্ট সন্দেহ, যদিও কখনো বুঝতে দেইনি তাকে। মা যদিও জানত শীমান্ত আমার খুব ভালো বন্ধু তবে আমাদের সম্পর্কের কথা কখনো বলিনি মাকে। এসব ভাবতে ভাবতেই কখন ঘুমিয়ে পরলাম মনে নেই, সকালে উঠেই একটা অফিসে ইন্টার্ভিউ দিতে গেলাম সেখান থেকে ২ টা টিউশন করে বাসার জন্য কিছু বাজার নিয়ে বাসায় ফিরলাম। দরজায় টোকা দিতে যাব এমন মুহূর্তে দরজা খুলে শীমান্তকে দেখে আমি রীতিমত চমকে গেলাম। বললাম,,
আমি:-তুমি হঠাৎ?? একবার জানিয়ে আসলেও তো পারলে, বসে যাও কিছুক্ষণ।
শীমান্ত:-"বসেছি অনেক্ষন, কাজ আছে আমার", বলেই শীমান্ত এক মুহূর্ত দেরী না করে সিঁড়ি দিয়ে নামতে শুরু করল। আমি তাকিয়ে রইলাম শীমান্তের চলে যাওয়ার দিকে। কতদিন পর মানুষটার সাথে দেখা, একটু ঠিকমত কথাও বলল না ভাবতে ভাবতে রুমে আসলাম। আমার পিছু পিছু মাও আসল,একটা সুন্দর কার্ড এগিয়ে দিল আমার সামনে। চুল থেকে ক্লিপ খুলতে খুলতে মাকে বললাম কার বিয়ে মা? আমার না একদম ই সময় হবে না, তুমি আর শিবু গিয়ে এসো। মায়ের জবাব শুনে আমি ঠিক কতক্ষণ চুপ করে ছিলাম জানিনা। মায়ের কথায় ধ্যান ভাঙল,
মা:-কিরে তোর বন্ধুর বিয়ে তুই যাবিনা?
আমি:-মা, শীমান্ত নিজে বলেছে তার বিয়ের কথা?
মা:-তোকে এমন দেখাচ্ছে কেন শীমান্তের বিয়ের কথা শুনে???
আমি:- কিছুনা তো মা। তুমি যাও, আমি ফ্রেশ হব।
মা গেলোনা, আয়নার সামনে থেকে মুখ ঘুরিয়ে তার দিকে মুখ করে আমার হাতটা নিজের মুঠোর মধ্যে নিয়ে মা বলল, তুই শীমান্তকে ভালোবাসিস, তাই না নিটু?? আমি কিছু বললাম না শুধু মায়ের বুকে মুখ গুজে কেঁদেই চলেছি। মা একবার শীমান্তের সাথে কথা বলবে বলার পর আমি বললাম,'' তুমি যদি শীমান্তর সাথে কথা বলো তাহলে আমাকে আর নিজের মেয়ে বলবে না কখনো''। মা আর কিছুই বলেন নি। শিবু বাসায় এসে আমার কাছে পড়তে বসল। আমি বারবার শিবুকে পড়া বুঝিয়ে দিতে ব্যর্থ হচ্ছি দেখে সে নিজেই বলল ''থাক আপু আজ আর পড়তে ইচ্ছে হচ্ছে না"। আমিও আর কিছু বললাম না। বারান্দায় দাড়িয়ে শীমান্তের কথা ভেবে চলছি অনেক্ষন থেকেই। কারো পায়ের আওয়াজে হুঁস ফিরলে সাবধানে চোখের পানি গুলো লুকোতে ব্যস্ত হয়ে পরি।অথচ আমি এটাই ভুলে গিয়েছিলাম যে যার কাছ থেকে আমি সাবধানতা শিখেছি তার সামনেই আমি সাবধানে চোখের পানি লুকাচ্ছি। বাবা, হ্যা আমার বাবা। বাবার একটা কিডনি ড্যামেজ হয়ে গেছে। ডাক্তারের ভাষ্যমতে বাবা আর বেশীদিন আমাদের মাঝে থাকবেনা। যদিও বাবাকে সম্পূর্ণ বেড রেস্টে থাকতে দেই কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, বাবা কখনোই আমাদের ছেড়ে যেতে পারে না।
বাবা:-কিরে মা, ঘুমাচ্ছিস না??
আমি:-এইতো বাবা ঘুমাবো। শরীর কেমন তোমার??
বাবা:-আছি মা ভালোই আছি। তোর খুব কষ্ট হয়ে যায় তাই নারে মা?? আমি বেঁচে থাকারর পরও আমার মেয়েটা দিন রাত এক করে খেটে মরছে, এ দিন দেখার আগে আমায় তুলে নিলে না কেনো হায় আল্লাহ!!! বাবার কান্না সহ্য করতে না পেরে আমিও কাঁদছি বাবার সাথে।
আমি:-সব ঠিক হয়ে যাবে বাবা দেখো তুমি।এই আমি খুব ভালো দেখে একটা চাকরী খুঁজে পাব।আমি তুমি মা আর শিবু একটা বড় বাসায় থাকব। আর কোনো অভাব থাকবেনা আমাদের বাবা।
বাবা:- তাই যেন হয় মা তাই যেন হয়।বলে কাঁদতে কাঁদতে বাবা চলে গেলেন। আমি ভাবছি এতক্ষন ধরে এসব কি ভাবছিলাম আমি? আমার জন্মদাতা এবং জন্মদাত্রী মা, আমার ছোট্ট ভাইটা এদের কথা কেন আমার মাথায় একবারো আসলো না। শীমান্ত তো আমার জীবনের একটা অংশ মাত্র, জীবনের একটা অংশে ব্যার্থ হওয়ার কষ্টে যদি পুরো জীবনটাই শেষ করে দেই তবে সত্যিই আমি এই জীবন পাওয়ার যোগ্য না। সৌভাগ্য তাদের যাদের সৃষ্টিকর্তা নিজ হাতে সৃষ্টি করে পৃথিবীতে পাঠান। এইসব কষ্ট কিংবা সুখ তো কিছুদিনের পরীক্ষা মাত্র। এই পরীক্ষায় সফল হতে পারা মানুষগুলাই তো পরবর্তিতে সফলতার গল্প শোনায়। আর যারা হাল ছেড়ে দিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় তারা সত্যিই এ সমাজের আগাছা।
পরদিন রাস্তায় শীমান্তর এক বন্ধুর সাথে দেখা। শীমান্তর সাথে সম্পর্ক থাকাকালীন আমি এটুকু বুঝেছিলাম যে রবি ভাই আমাকে পছন্দ করেন। শীমান্তর সাথে সম্পর্ক খারাপ হবে ভেবে কখনোই কিছু বলেননি আমাকে। আজ হঠাৎ কাছে এসে কুশল বিনিময় সেরে তার মনের কথা বলেই বসলেন।
রবি:- শোনো, নিটল। আমি জানি তোমার মনের অবস্থাটা। তোমার এই মুহূর্তে কারো সান্নিধ্যের ভীষণ প্রয়োজন। তুমি যদি চাও আমি তোমার একাকিত্বে সঙ্গ দিতে পারি। নিটল, আমাকে তুমি তোমার জীবনের আঙিনায় অল্প একটু স্থান দেবে।আমি তোমাকে তোমার মত করে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখব।
আমি:-''রবি ভাই,আমি দু:খিত। আপনি যা চাইছেন তা সম্ভব না। ক্ষমা করবেন আমাকে", বলে দ্রুত হেঁটে চলছি। এই মুহূর্তে রবি ভাই হয়ত ভাবছেন, 'একটা সাধারণ ফ্যামিলির মেয়ে আমাকে রিজেক্ট করার সাহস পায় কোথা থেকে'।কিন্তু আমি ভাবছি, ''আর কোনো শীমান্তকে আমার জীবনে জায়গা দেওয়া উচিৎ হবে কিনা।কারন এই যান্ত্রিক শহরের যান্ত্রিক মানুষগুলার মত আমাদের কাছে ভালোবাসা এতো সস্তা না। আমাদের অল্প একটু ভালোবাসার জন্য যেকোনো কিছু বিসর্জন দেওয়ার মনোভাব রয়েছে ।আমাদের গল্পগুলোয় সুখের চাইতে বেশী কষ্ট ফুটে উঠে। আমাদের হাতগুলো বাসের হ্যান্ডেল ধরে ঝুলে থাকতে থাকতে শক্ত হয়ে গেছে। আমাদের আবদার বলতে কিছুই নেই, তবে প্রিয়মুখগুলোর আবদার পূরণে আমরা নিজের সর্বস্ব দিতেও রাজি। আমাদের পরনের অনেক দিনের পুরোনো জামা, ক্ষয়ে যাওয়া জুতোজোড়া মনে করিয়ে দেয় বিলাসিতা আমাদের জন্য আসেনি। দিনশেষে প্রিয় মানুষ গুলার মুখের হাসিই আমাদের জন্য শ্রেষ্ঠ উপহার। আমরা নির্ভেজাল ভালোবাসায় বিশ্বাসী। আমাদেরকে নায়িকা বানিয়ে অনেক গল্প লেখা হয় ঠিকি কিন্তু বাস্তবে আমরা কারো জীবন নামক নাটকের নায়িকা হতে না পারলেও বাবা-মায়ের কাছে শ্রেষ্ঠ সন্তান, ছোট ভাইবোন গুলার কাছে সবথেকে ভালোবাসার মানুষ হতে পারি।আর আমাদের গল্পগুলো শোনার জন্য কিন্তু কোনো শীমান্ত জেগে থাকেনা, জেগে থাকে আমাদের সত্যিকার অর্থে ভালোবেসে যাওয়া মানুষগুলা। যদিও সবার কপালে সেই সুখটাও জুটেনা
আমি:-তুমি হঠাৎ?? একবার জানিয়ে আসলেও তো পারলে, বসে যাও কিছুক্ষণ।
শীমান্ত:-"বসেছি অনেক্ষন, কাজ আছে আমার", বলেই শীমান্ত এক মুহূর্ত দেরী না করে সিঁড়ি দিয়ে নামতে শুরু করল। আমি তাকিয়ে রইলাম শীমান্তের চলে যাওয়ার দিকে। কতদিন পর মানুষটার সাথে দেখা, একটু ঠিকমত কথাও বলল না ভাবতে ভাবতে রুমে আসলাম। আমার পিছু পিছু মাও আসল,একটা সুন্দর কার্ড এগিয়ে দিল আমার সামনে। চুল থেকে ক্লিপ খুলতে খুলতে মাকে বললাম কার বিয়ে মা? আমার না একদম ই সময় হবে না, তুমি আর শিবু গিয়ে এসো। মায়ের জবাব শুনে আমি ঠিক কতক্ষণ চুপ করে ছিলাম জানিনা। মায়ের কথায় ধ্যান ভাঙল,
মা:-কিরে তোর বন্ধুর বিয়ে তুই যাবিনা?
আমি:-মা, শীমান্ত নিজে বলেছে তার বিয়ের কথা?
মা:-তোকে এমন দেখাচ্ছে কেন শীমান্তের বিয়ের কথা শুনে???
আমি:- কিছুনা তো মা। তুমি যাও, আমি ফ্রেশ হব।
মা গেলোনা, আয়নার সামনে থেকে মুখ ঘুরিয়ে তার দিকে মুখ করে আমার হাতটা নিজের মুঠোর মধ্যে নিয়ে মা বলল, তুই শীমান্তকে ভালোবাসিস, তাই না নিটু?? আমি কিছু বললাম না শুধু মায়ের বুকে মুখ গুজে কেঁদেই চলেছি। মা একবার শীমান্তের সাথে কথা বলবে বলার পর আমি বললাম,'' তুমি যদি শীমান্তর সাথে কথা বলো তাহলে আমাকে আর নিজের মেয়ে বলবে না কখনো''। মা আর কিছুই বলেন নি। শিবু বাসায় এসে আমার কাছে পড়তে বসল। আমি বারবার শিবুকে পড়া বুঝিয়ে দিতে ব্যর্থ হচ্ছি দেখে সে নিজেই বলল ''থাক আপু আজ আর পড়তে ইচ্ছে হচ্ছে না"। আমিও আর কিছু বললাম না। বারান্দায় দাড়িয়ে শীমান্তের কথা ভেবে চলছি অনেক্ষন থেকেই। কারো পায়ের আওয়াজে হুঁস ফিরলে সাবধানে চোখের পানি গুলো লুকোতে ব্যস্ত হয়ে পরি।অথচ আমি এটাই ভুলে গিয়েছিলাম যে যার কাছ থেকে আমি সাবধানতা শিখেছি তার সামনেই আমি সাবধানে চোখের পানি লুকাচ্ছি। বাবা, হ্যা আমার বাবা। বাবার একটা কিডনি ড্যামেজ হয়ে গেছে। ডাক্তারের ভাষ্যমতে বাবা আর বেশীদিন আমাদের মাঝে থাকবেনা। যদিও বাবাকে সম্পূর্ণ বেড রেস্টে থাকতে দেই কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, বাবা কখনোই আমাদের ছেড়ে যেতে পারে না।
বাবা:-কিরে মা, ঘুমাচ্ছিস না??
আমি:-এইতো বাবা ঘুমাবো। শরীর কেমন তোমার??
বাবা:-আছি মা ভালোই আছি। তোর খুব কষ্ট হয়ে যায় তাই নারে মা?? আমি বেঁচে থাকারর পরও আমার মেয়েটা দিন রাত এক করে খেটে মরছে, এ দিন দেখার আগে আমায় তুলে নিলে না কেনো হায় আল্লাহ!!! বাবার কান্না সহ্য করতে না পেরে আমিও কাঁদছি বাবার সাথে।
আমি:-সব ঠিক হয়ে যাবে বাবা দেখো তুমি।এই আমি খুব ভালো দেখে একটা চাকরী খুঁজে পাব।আমি তুমি মা আর শিবু একটা বড় বাসায় থাকব। আর কোনো অভাব থাকবেনা আমাদের বাবা।
বাবা:- তাই যেন হয় মা তাই যেন হয়।বলে কাঁদতে কাঁদতে বাবা চলে গেলেন। আমি ভাবছি এতক্ষন ধরে এসব কি ভাবছিলাম আমি? আমার জন্মদাতা এবং জন্মদাত্রী মা, আমার ছোট্ট ভাইটা এদের কথা কেন আমার মাথায় একবারো আসলো না। শীমান্ত তো আমার জীবনের একটা অংশ মাত্র, জীবনের একটা অংশে ব্যার্থ হওয়ার কষ্টে যদি পুরো জীবনটাই শেষ করে দেই তবে সত্যিই আমি এই জীবন পাওয়ার যোগ্য না। সৌভাগ্য তাদের যাদের সৃষ্টিকর্তা নিজ হাতে সৃষ্টি করে পৃথিবীতে পাঠান। এইসব কষ্ট কিংবা সুখ তো কিছুদিনের পরীক্ষা মাত্র। এই পরীক্ষায় সফল হতে পারা মানুষগুলাই তো পরবর্তিতে সফলতার গল্প শোনায়। আর যারা হাল ছেড়ে দিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় তারা সত্যিই এ সমাজের আগাছা।
পরদিন রাস্তায় শীমান্তর এক বন্ধুর সাথে দেখা। শীমান্তর সাথে সম্পর্ক থাকাকালীন আমি এটুকু বুঝেছিলাম যে রবি ভাই আমাকে পছন্দ করেন। শীমান্তর সাথে সম্পর্ক খারাপ হবে ভেবে কখনোই কিছু বলেননি আমাকে। আজ হঠাৎ কাছে এসে কুশল বিনিময় সেরে তার মনের কথা বলেই বসলেন।
রবি:- শোনো, নিটল। আমি জানি তোমার মনের অবস্থাটা। তোমার এই মুহূর্তে কারো সান্নিধ্যের ভীষণ প্রয়োজন। তুমি যদি চাও আমি তোমার একাকিত্বে সঙ্গ দিতে পারি। নিটল, আমাকে তুমি তোমার জীবনের আঙিনায় অল্প একটু স্থান দেবে।আমি তোমাকে তোমার মত করে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখব।
আমি:-''রবি ভাই,আমি দু:খিত। আপনি যা চাইছেন তা সম্ভব না। ক্ষমা করবেন আমাকে", বলে দ্রুত হেঁটে চলছি। এই মুহূর্তে রবি ভাই হয়ত ভাবছেন, 'একটা সাধারণ ফ্যামিলির মেয়ে আমাকে রিজেক্ট করার সাহস পায় কোথা থেকে'।কিন্তু আমি ভাবছি, ''আর কোনো শীমান্তকে আমার জীবনে জায়গা দেওয়া উচিৎ হবে কিনা।কারন এই যান্ত্রিক শহরের যান্ত্রিক মানুষগুলার মত আমাদের কাছে ভালোবাসা এতো সস্তা না। আমাদের অল্প একটু ভালোবাসার জন্য যেকোনো কিছু বিসর্জন দেওয়ার মনোভাব রয়েছে ।আমাদের গল্পগুলোয় সুখের চাইতে বেশী কষ্ট ফুটে উঠে। আমাদের হাতগুলো বাসের হ্যান্ডেল ধরে ঝুলে থাকতে থাকতে শক্ত হয়ে গেছে। আমাদের আবদার বলতে কিছুই নেই, তবে প্রিয়মুখগুলোর আবদার পূরণে আমরা নিজের সর্বস্ব দিতেও রাজি। আমাদের পরনের অনেক দিনের পুরোনো জামা, ক্ষয়ে যাওয়া জুতোজোড়া মনে করিয়ে দেয় বিলাসিতা আমাদের জন্য আসেনি। দিনশেষে প্রিয় মানুষ গুলার মুখের হাসিই আমাদের জন্য শ্রেষ্ঠ উপহার। আমরা নির্ভেজাল ভালোবাসায় বিশ্বাসী। আমাদেরকে নায়িকা বানিয়ে অনেক গল্প লেখা হয় ঠিকি কিন্তু বাস্তবে আমরা কারো জীবন নামক নাটকের নায়িকা হতে না পারলেও বাবা-মায়ের কাছে শ্রেষ্ঠ সন্তান, ছোট ভাইবোন গুলার কাছে সবথেকে ভালোবাসার মানুষ হতে পারি।আর আমাদের গল্পগুলো শোনার জন্য কিন্তু কোনো শীমান্ত জেগে থাকেনা, জেগে থাকে আমাদের সত্যিকার অর্থে ভালোবেসে যাওয়া মানুষগুলা। যদিও সবার কপালে সেই সুখটাও জুটেনা

কোন মন্তব্য নেই