রুদ্র নীল
রুদ্র নীল
সময়টা ২০০৩ সাল ।
.
ঢং ঢং করে স্কুলের ঘন্টা বাজতেই সবাই দৌড় পাল্লা দিয়ে ছুটছে বাসার দিকে । কারোরই জন্য অপেক্ষা করার সময় নাই । সাড়ে চারটা থেকে খেলা । তার আগেই মাঠে পৌঁছাতেই হবে যেভাবেই হোক । অন্য পাড়ার ছেলেরা আসবে যে আজ !! ধুপধাপ শব্দে লম্বা লম্বা পা ফেলে রিফাত এগিয়ে যায় বাসার দিকে । তাড়াতাড়ি কেডস খুলে ঘরে ঢুকে রিফাত, মাথা দিয়ে ধাক্কা দিয়ে আধাখোলা দরজা পুরোটা খুলে, হাত দিয়ে শার্টের বোতাম খুলতে খুলতে কাধ থেকে ব্যাগটা নামায় । লুঙ্গি দিয়ে স্কুল প্যান্ট পাল্টে খেলার ট্রাউজার পরে মা মা বলে ডাক দেয় জোরে !
.
- স্কুল থেকে এসেই ছোটাছুটি শুরু করেছিস যে ? একটু শান্ত হ ।
.
ঢং ঢং করে স্কুলের ঘন্টা বাজতেই সবাই দৌড় পাল্লা দিয়ে ছুটছে বাসার দিকে । কারোরই জন্য অপেক্ষা করার সময় নাই । সাড়ে চারটা থেকে খেলা । তার আগেই মাঠে পৌঁছাতেই হবে যেভাবেই হোক । অন্য পাড়ার ছেলেরা আসবে যে আজ !! ধুপধাপ শব্দে লম্বা লম্বা পা ফেলে রিফাত এগিয়ে যায় বাসার দিকে । তাড়াতাড়ি কেডস খুলে ঘরে ঢুকে রিফাত, মাথা দিয়ে ধাক্কা দিয়ে আধাখোলা দরজা পুরোটা খুলে, হাত দিয়ে শার্টের বোতাম খুলতে খুলতে কাধ থেকে ব্যাগটা নামায় । লুঙ্গি দিয়ে স্কুল প্যান্ট পাল্টে খেলার ট্রাউজার পরে মা মা বলে ডাক দেয় জোরে !
.
- স্কুল থেকে এসেই ছোটাছুটি শুরু করেছিস যে ? একটু শান্ত হ ।
- এতো কথা না বলে তাড়াতাড়ি খেতে দাও তো । সাড়ে চারটা থেকে খেলা আছে ।
- এই তো কেবল স্কুল থেকে ফিরলি । কোথায় একটু রেস্ট নিয়ে গোসল করে ধীরেসুস্থে ভাত খাবি । তা না খেলার জন্য ওঠে পড়ে লেগেছিস ।
- উহহহহ মা । একটু দেরি হইলেই সবুইজ্জা আমারে ঝাড়ি দিবো ।
- হ্যা হ্যা । তাড়াতাড়ি গিল, নাক-মুখ যেদিক দিয়া পারিস দে ।
- এখন চুপ করে দুইটা টাকা নিয়ে আসো ।
- কেন ? টাকা দিয়ে কি হবে ? স্কুলে যাওয়ার সময়ই না টাকা নিলি ?
- ওটা তো টিফিনের জন্য নিয়েছিলাম । সন্ধ্যায় চা খামু না ?
- তোরা যে কি আমি বুঝি না !! ছোট্ট একরত্তি মানুষ !! তোদের আবার চা খাওয়া লাগবে কেন ? তাও প্রতিদিন ?
- লাগবে লাগবে । তুমি দাও তো !
.
দুইটাকা ট্রাউজারের চেনওয়ালা পকেটে ভরে ক্রিকেট ব্যাটটা হাতে নিয়ে মাঠে দৌড়ায় ও । কেবল ভাত খাওয়া পেট নিয়ে দৌড়িয়ে একটুতেই হাঁপিয়ে ওঠে । পেটের কোণায় চিনচিনে ব্যাথা শুরু হয়, তবুও দৌড় বন্ধ হয় না । পেটের ব্যাথা কি শৈশবের দুরন্তপনাকে আটকে রাখতে পারে নাকি ? রিফাত দৌড়ায় মাঠের পানে ।
.
- এতোক্ষণ লাগে আসতে ? সেই কখন টস দিয়ে রাখছি !
.
দুইটাকা ট্রাউজারের চেনওয়ালা পকেটে ভরে ক্রিকেট ব্যাটটা হাতে নিয়ে মাঠে দৌড়ায় ও । কেবল ভাত খাওয়া পেট নিয়ে দৌড়িয়ে একটুতেই হাঁপিয়ে ওঠে । পেটের কোণায় চিনচিনে ব্যাথা শুরু হয়, তবুও দৌড় বন্ধ হয় না । পেটের ব্যাথা কি শৈশবের দুরন্তপনাকে আটকে রাখতে পারে নাকি ? রিফাত দৌড়ায় মাঠের পানে ।
.
- এতোক্ষণ লাগে আসতে ? সেই কখন টস দিয়ে রাখছি !
- আরে আর বলিস না । দৌড়াতে যাইয়া জুতা ছিড়া গেছে ।
- খুব ভালো হইছে । এবার জুতা রেখে মাঠে নাম ।
- টস জিতছোস ? বোলিং নাকি ব্যাটিং ?
- আরে ব্যাটা আমি কখনো টস হারছি ? ব্যাটিংয়ে নাম । স্ট্রাইকে যা !
- না না । আমি পারমু না । পেট ব্যাথা শুরু হইছে । আমি ওয়ান ডাউনে নামমু ।
.
ম্যাচ জিতে হল্লা করে বাসায় চলে যায় বাকি সবাই । শুধু রিফাত আর সবুজ যায় চায়ের দোকানে । নতুন নতুন চা খাওয়া শিখেছে দুইজন । গলির মোড়ের এই নতুন দোকানটায় ওরা আসে গত দুই সপ্তাহ ধরে, একদিন রিফাত টাকা দেয় আর একদিন সবুজ । একটা অলিখিত চুক্তি হয়ে গেছে । বন্ধুদের মধ্যে এমনি হয় । কিছু বলতে হয় না, আগে থেকেই সব বুঝে নেয় ।
.
দেখতে দেখতেই এস এস সি পরীক্ষা এসে যায় । এখন কেউ আর মাঠের দিকে দৌড়ায় না স্কুল শেষে !! সবাই পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত । বিকালে ক্রিকেট খেলা হয় না, সন্ধ্যায় চা খাওয়া হয় না । খুব মন খারাপ হয়ে থাকে দুইজনেরই । মনে মনে বলে পরীক্ষাটা শেষ হয়ে নিক শুধু । সব মজা একসাথে করে নিবো তখন !! কিন্তু কার কপালে যে কি ছিল তা কি কেউ জানতো কখনো ?
.
এস এস সি পরীক্ষার পরে রিফাত চলে যায় ঢাকা কলেজ করতে কিন্তু সবুজ গ্রামে থেকে যায় । দুইজনের বন্ধুত্বে অনেক দূরত্ব চলে আসে । ঢাকায় গিয়ে রিফাতের অনেক নতুন বন্ধু হয় । সবুজের কথা তো আর মনেই পড়ে না ওর । বাসায় আসলে মাঝে মাঝে সবুজ দেখা করতে আসে । এই এতোটুকুই দেখা হয় ওদের । রিফাতের এই পরিবর্তন সবুজের মনে দাগ কাটে । খুব কষ্ট পায় ও । একসময়ের প্রাণের বন্ধু যে ওকে ছাড়া একটা মূহূর্তও আলাদা থাকতে পারতো না সে এখন ওর কথা মনেই করে না !
.
দেখা-অদেখা, কথা বলা-না বলায় কেটে যায় আরো চারটা বছর !! রিফাত আর সবুজ দুজনেই এখন ভার্সিটির ছাত্র, অনেক বড় হয়ে গেছে ওরা । ওই আগের মতো শিশুসুলভ স্বভাব আর নেই কারো মাঝেই । বাস্তবতাকে বুঝতে শিখেছে দুজন । রিফাত তো আরো এক ধাপ এগিয়ে । বাস্তবতাকে আঁকড়ে বন্ধুত্ব পর্যন্ত ভুলে গেছে ! সবুজের অবশ্য এতটা পরিবর্তন হয়নি । বন্ধুত্বের দিনগুলো এখনো বেশ রঙিন ওর চোখে ।
.
হঠাৎ একদিন সবুজের ফোনে কল আসলো অচেনা নাম্বার থেকে । সবুজ ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে বলে ওঠলো, "সবুজ তুই কোনে ? তাড়াতাড়ি বাসস্ট্যান্ডে আয় !"
.
ম্যাচ জিতে হল্লা করে বাসায় চলে যায় বাকি সবাই । শুধু রিফাত আর সবুজ যায় চায়ের দোকানে । নতুন নতুন চা খাওয়া শিখেছে দুইজন । গলির মোড়ের এই নতুন দোকানটায় ওরা আসে গত দুই সপ্তাহ ধরে, একদিন রিফাত টাকা দেয় আর একদিন সবুজ । একটা অলিখিত চুক্তি হয়ে গেছে । বন্ধুদের মধ্যে এমনি হয় । কিছু বলতে হয় না, আগে থেকেই সব বুঝে নেয় ।
.
দেখতে দেখতেই এস এস সি পরীক্ষা এসে যায় । এখন কেউ আর মাঠের দিকে দৌড়ায় না স্কুল শেষে !! সবাই পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত । বিকালে ক্রিকেট খেলা হয় না, সন্ধ্যায় চা খাওয়া হয় না । খুব মন খারাপ হয়ে থাকে দুইজনেরই । মনে মনে বলে পরীক্ষাটা শেষ হয়ে নিক শুধু । সব মজা একসাথে করে নিবো তখন !! কিন্তু কার কপালে যে কি ছিল তা কি কেউ জানতো কখনো ?
.
এস এস সি পরীক্ষার পরে রিফাত চলে যায় ঢাকা কলেজ করতে কিন্তু সবুজ গ্রামে থেকে যায় । দুইজনের বন্ধুত্বে অনেক দূরত্ব চলে আসে । ঢাকায় গিয়ে রিফাতের অনেক নতুন বন্ধু হয় । সবুজের কথা তো আর মনেই পড়ে না ওর । বাসায় আসলে মাঝে মাঝে সবুজ দেখা করতে আসে । এই এতোটুকুই দেখা হয় ওদের । রিফাতের এই পরিবর্তন সবুজের মনে দাগ কাটে । খুব কষ্ট পায় ও । একসময়ের প্রাণের বন্ধু যে ওকে ছাড়া একটা মূহূর্তও আলাদা থাকতে পারতো না সে এখন ওর কথা মনেই করে না !
.
দেখা-অদেখা, কথা বলা-না বলায় কেটে যায় আরো চারটা বছর !! রিফাত আর সবুজ দুজনেই এখন ভার্সিটির ছাত্র, অনেক বড় হয়ে গেছে ওরা । ওই আগের মতো শিশুসুলভ স্বভাব আর নেই কারো মাঝেই । বাস্তবতাকে বুঝতে শিখেছে দুজন । রিফাত তো আরো এক ধাপ এগিয়ে । বাস্তবতাকে আঁকড়ে বন্ধুত্ব পর্যন্ত ভুলে গেছে ! সবুজের অবশ্য এতটা পরিবর্তন হয়নি । বন্ধুত্বের দিনগুলো এখনো বেশ রঙিন ওর চোখে ।
.
হঠাৎ একদিন সবুজের ফোনে কল আসলো অচেনা নাম্বার থেকে । সবুজ ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে বলে ওঠলো, "সবুজ তুই কোনে ? তাড়াতাড়ি বাসস্ট্যান্ডে আয় !"
অনেকদিন পরে রিফাতের কন্ঠ শুনে সবুজ দৌড়াতে দৌড়াতে গেল বাসস্ট্যান্ডে । পরনের লুঙ্গিটাও পাল্টে আসার কথা মনে হয় নি ওর । বন্ধুর আহ্বান উপেক্ষা করার মতো ক্ষমতা ওর নেই । গিয়ে দেখে রিফাতের সাথে একটা মেয়ে ! মেয়েটাকে দেখেই চমকে ওঠে সবুজ দুই কদম পিছিয়ে যায় । গলা নিচু করে জিজ্ঞেস করে, "এটা কে ?"
রিফাত হেসে ওঠে বলে, "আরে গাধা এইটা তোর ভাবী ! আমরা বিয়ে করেছি !"
অনেকদিন পরে কথা গিয়ে বলতে অস্বস্তি বোধ করে সবুজ । ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে জিজ্ঞেস করে, "বাসায় কিছু জানাইছিস ?"
- আরে ধুরর ! বাসায় জানালে বিয়ে করতে দিতো নাকি ?
- তাহলে ? আঙ্কেল আন্টিকে না জানিয়েই বিয়ে করে ফেললি ? তারা যদি মেনে না নেয় তোর বউকে ?
- এজন্যই তো তোর কাছে আসছি, তোদের বাসায় থাকবো আজকে । তিথি বাসা থেকে পালিয়ে আসছে !
- রাতের বেলা আমি তোদের বাসায় নিয়ে যাবো ? কি বলবো বাসায় ?
- আমি জানি না দোস্ত । তুই যেভাবেই পারিস ম্যানেজ কর প্লিজ । আর কোথায় যাবো ?
- আচ্ছা তোরা দাড়া । আমি আম্মাকে গিয়ে সব বুঝায়ে বলি দেখি ।
- তাড়াতাড়ি কর যা করার । কতক্ষন রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকবো ?
.
দশমিনিট পরেই সবুজ ওর মাকে সব বুঝিয়ে ফিরে এসে ওদেরকে নিয়ে যায় । গেস্ট রুম পরিষ্কার করে সব গুছিয়ে দেয় । পরেরদিন সকালে সবুজ ওর মা'কে নিয়ে রিফাত-দের বাসায় যায় সব বলতে । রিফাতের বিয়ের কথা শুনেই চিৎকার করে ওঠেন তারা । কিন্তু সব খুলে বলার পর রিফাতের বাবা-মা রাজি হয় । দুইদিন পরে বড় করে অনুষ্ঠান করে রিফাত আর তিথির বিয়েটা পাকা করা হয় ।
.
এই পর্যন্ত বলে চশমা খুলে চোখ মুছে জনাব সবুজ । তার নাতি তাকে ঘিরে ধরেছে গল্প শোনার জন্য । অস্থির হয়ে যায় একটু চুপ থাকতেই । জিজ্ঞেস করে, "তারপর কি হলো দাদা ? তোমাদের আর দেখা হয়নি ?"
.
দশমিনিট পরেই সবুজ ওর মাকে সব বুঝিয়ে ফিরে এসে ওদেরকে নিয়ে যায় । গেস্ট রুম পরিষ্কার করে সব গুছিয়ে দেয় । পরেরদিন সকালে সবুজ ওর মা'কে নিয়ে রিফাত-দের বাসায় যায় সব বলতে । রিফাতের বিয়ের কথা শুনেই চিৎকার করে ওঠেন তারা । কিন্তু সব খুলে বলার পর রিফাতের বাবা-মা রাজি হয় । দুইদিন পরে বড় করে অনুষ্ঠান করে রিফাত আর তিথির বিয়েটা পাকা করা হয় ।
.
এই পর্যন্ত বলে চশমা খুলে চোখ মুছে জনাব সবুজ । তার নাতি তাকে ঘিরে ধরেছে গল্প শোনার জন্য । অস্থির হয়ে যায় একটু চুপ থাকতেই । জিজ্ঞেস করে, "তারপর কি হলো দাদা ? তোমাদের আর দেখা হয়নি ?"
- হয়েছে তো ! তারপর দেখা হয়েছে বুড়ো হওয়ার পর ।
.
রিফাতের লেখাপড়া শেষ হলে দুই বছর ওরা বাংলাদেশে ছিল । তারপর ওরা লন্ডনে চলে যায় । ওদের ছেলেটা পাশ্চাত্য জীবনে থেকে বাবা-মায়ের কদর ভুলে গিয়েছিল । রিফাত তিথিকে নিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসে । কয়েকদিনের ব্যবধানেই ওরা দুইজন মারা যায় কিন্তু ওদের ছেলেটা দেখতেও আসেনি । রিফাতের বুকে ব্যাথা করতো মাঝে মাঝেই । ও স্ট্রোক করেছিলো আর তিথিও রিফাতকে ছাড়া বেশিদিন থাকেনি । তিথির লাশটা ওদের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গেছে কিন্তু রিফাতের লাশ আমি নিতে দিই নাই ।
.
রিফাতের লেখাপড়া শেষ হলে দুই বছর ওরা বাংলাদেশে ছিল । তারপর ওরা লন্ডনে চলে যায় । ওদের ছেলেটা পাশ্চাত্য জীবনে থেকে বাবা-মায়ের কদর ভুলে গিয়েছিল । রিফাত তিথিকে নিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসে । কয়েকদিনের ব্যবধানেই ওরা দুইজন মারা যায় কিন্তু ওদের ছেলেটা দেখতেও আসেনি । রিফাতের বুকে ব্যাথা করতো মাঝে মাঝেই । ও স্ট্রোক করেছিলো আর তিথিও রিফাতকে ছাড়া বেশিদিন থাকেনি । তিথির লাশটা ওদের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গেছে কিন্তু রিফাতের লাশ আমি নিতে দিই নাই ।
- দাদু, তুমি প্রতিদিন কার কবরে যাও ? ওটাই কি রিফাত দাদুর কবর ?
সবুজ কিছু না বলে চাদরে চোখ মুছে নেয় । চশমাটা খুলে বুকে রেখে রকিং চেয়ারে চুপ করে শুয়ে দোল খেতে থাকে ।
.
তিনদিন পর ঈদ । জনাব সবুজ ফজরের নামায পড়ে লাঠি হাতে পারিবারিক গোরস্থানে যায় । তার ছেলে এসে প্লাস্টিকের চেয়ার আর চায়ের ফ্লাক্স রেখে যায় । সবুজ সাহেব চা ঢালে ফ্লাক্স থেকে । এক কাপ নিজে হাতে নেয় আর, এককাপ বন্ধু রিফাতের কবরেরই পাশে রেখে দিয়ে বলে, "খাবি নাকি এককাপ ?"
.
সবুজ অনেকক্ষণ বসে একা একাই কথা বলে । চোখ বন্ধ করে হঠাৎ করেই হেসে ওঠে আর মাথা নাড়ায় । ঠিক যেন ছোটবেলার আড্ডা চলছে দুই বন্ধুর । আসলে বন্ধুত্ব এমনই হয় !! কিছুতেই ভোলা যায় না, সারাজীবন থেকে যায় !!
.
.
তিনদিন পর ঈদ । জনাব সবুজ ফজরের নামায পড়ে লাঠি হাতে পারিবারিক গোরস্থানে যায় । তার ছেলে এসে প্লাস্টিকের চেয়ার আর চায়ের ফ্লাক্স রেখে যায় । সবুজ সাহেব চা ঢালে ফ্লাক্স থেকে । এক কাপ নিজে হাতে নেয় আর, এককাপ বন্ধু রিফাতের কবরেরই পাশে রেখে দিয়ে বলে, "খাবি নাকি এককাপ ?"
.
সবুজ অনেকক্ষণ বসে একা একাই কথা বলে । চোখ বন্ধ করে হঠাৎ করেই হেসে ওঠে আর মাথা নাড়ায় । ঠিক যেন ছোটবেলার আড্ডা চলছে দুই বন্ধুর । আসলে বন্ধুত্ব এমনই হয় !! কিছুতেই ভোলা যায় না, সারাজীবন থেকে যায় !!
.
রুদ্র

কোন মন্তব্য নেই