অনুগল্প

অনুগল্প



১. রোজ গভীর রাত হলেই মিলি জানালার ওপাশ থেকে কোনো মেয়ের আর্তনাদ শুনতে পায়। সেদিন রাতেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। আর সে রাতে ই মিলি কাপা কাপা হাতে জানালা টা খুলেছিল দেখার জন্য। পরদিন সকালে ঐ জানালার পাশের শিমুল গাছ টায় মিলির ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়।
২. শীতের রাতে হঠাৎ অদ্ভুত শব্দে ঘুম ভেঙে যায় আনোয়ারের। জ্যোৎস্না ও কুয়াশা ঘরের বাইরের পরিবেশ টা কে কেমন অদ্ভুত ও ভূতুরে করেছে। এমন পরিবেশে আনোয়ার দেখতে পায় তার আদরে পালিত কুকুরছানা গুলো শীতে কাপছে। আনোয়ার দেখে আবার চুপচাপ গিয়ে শুয়ে পরে। কেননা সে জানে কুকুরছানা গুলো তার মৃত্যুর এক বছর আগে ই মারা গিয়েছে।
৩. কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরতে রহিমের আজ বেশ দেরি হয়ে গেছে। রাত অনেক.... রহিম রাস্তায় হাটছে। হঠাৎ রহিম লক্ষ্য করলো তার সামনে রাস্তার ঠিক মাঝখান টায় তার বৌ দাড়িয়ে আছে। সকালে রহিমের ক্ষত-বিক্ষত,রক্তাক্ত দেহটা মাটিতে পরে থাকতে দেখা যায়। ঠিক যেমন ভাবে ৫ বছর আগে তার বৌয়ের নিথর দেহটা মাটিতে পরেছিলো।
৪. বহু বছরের পরিত্যক্ত পোড়াবাড়ির সাথে রহস্যময় অন্যজগতের সম্পর্ক আছে জানা সত্তেও, বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে সৈকত, শুধুমাত্র জেদের বসে প্রায় ২ বছর আগে বন্ধুদের সাথে বাজি ধরে সেখানে গিয়েছিলো রাত কাটানোর উদ্দেশ্যে। তারপর থেকে সৈকত কে আর খুজে পাওয়া যায়নি।
৫. দিনের পর দিন তানহা মানুষ মেরে তাদের রক্ত খেয়েছে। অনেক পরিশ্রমের পর তানহার ভাই তানিমের সহযোগীতায় তানহা কে পুলিশ খুজে পেতে সক্ষম হয়। পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা কারার সময় পুলিশের গুলিতে তানহা মারা যায়। বোনের লাশের পাশে দাড়িয়ে থাকা তানিমের ঠোটের কোণে তখন পৈশাচিক হাসে ফুটে ওঠে। গুলিতে কি আর রক্তপিপাসু মারা যায়।
৬. অনিতের মা তাকে বারবার সন্ধ্যার আগে বাড়ি ফিরে আসতে বলেছিলো। তবু অনিতের আজ দেরি হয়ে গেছে। অনিত নির্জন রাস্তায় একা হাটছিল। বাড়ির খুব কাছেই অনিত চলে এসেছে সে তা জানে। তবু যেনো সে বাড়ি পৌছাতে পারছে না। বারবার যেনো সে এক ই রাস্তায় ঘুরপাক খাচ্ছিলো। হঠাৎ অনিত রাস্তার পাশের পুকুর টার ঠিক মাঝখান টায় পানির ওপরে তার সহপাঠী মনির কে দাড়িয়ে থাকতে দেখে। মনির তাকে হাতে ইশারা করে ডাকছে। অনিত কিছু না ভেবেই হতবাক হয়ে সে দিকে হাটতে থাকে। হঠাৎ অনিতের প্রিয় বন্ধু হাবিব তার হাত ধরে। হাবিব টানতে টানতে অনিত কে তার বাসায় তাকে পৌছে দিয়ে চলে যায়। কিছুক্ষন পর অনিতের মনে পরে মনির ও হাবিব গতবছর ওই পুকুর টায় পরে ই মারা গিয়েছিলো......





Jara Tasnim

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.