আক্ষেপ
আক্ষেপ
আমার বাড়ির পাশের গলিটাতে গত বন্যায় পানি জমেছিলো। পানিতে ভাসা রক্তমাখা স্যানেটারি ন্যাপকিন, শুক্রবারে মা যে মুরগিটা রান্না করেছিলেন, পালকগুলো পলিথিনে ভরে নর্দমায় ফেলা দেওয়া হয়েছিলো, সেটাও বন্যার পানিতে ভেসে বেড়াচ্ছে, একটা সাপ মরে উল্টো হয়ে ভাসছে, সাপের উল্টো দিকের ত্বকটা ধবধবে ফর্সা। পাশের বাড়ির শফিক মিয়ার বাড়া ভাতে ছাঁই, বন্যার পানিতে রিক্সা নিয়ে বের হতে পারেন নি। পিছন দিকের নীল বাড়ির বউটার মন খারাপ,সেদিন তার স্বামী ঢাকা থেকে ফিরবে। অথচ বন্যার জন্য ঢাকা থেকে ঈশ্বরগঞ্জ, ট্রেন চলাচল বন্ধ। আমি জানালা থেকে দেখেছি, তুমি খুব সাবধানে বন্যার পানি মাড়িয়ে হাঁটছো। ন্যাপকিন-মুরগির পালক-মরা সাপ যেনো তোমার কাপড়ে না লাগে। পায়জামা তুলেছিলে হাঁটু অবধি, সেই সাপের চেয়েও ফর্সা পা দেখে আমার পৃথিবী দুমড়ে গেলো, মুচড়ে গেলো। যে আঙ্গুল দিয়ে পায়জামা তুলে রেখেছো, সে আঙ্গুলে খুব যতনের বড় বড় নখ দেখে, আমি এরই মধ্যে অনুভব করে ফেলেছি আমার পিঠে আঁচড়ের ব্যথা। তুমি কোথায় যাচ্ছিলে? প্রেমিকের কাছে? নাকি বন্যার পানিতে জলকেলি? আশেপাশের সবাই হঠাৎ চিৎকার করে বলছিলো, হে ঈশ্বর, বন্যা থেকে রক্ষা করো। শুধুমাত্র আমিই স্বার্থপরের মত বলেছিলাম, এই বন্যা যেন সারাজীবন থাকে।
ওয়ালিদ প্রত্যয়

কোন মন্তব্য নেই