একটা গরিব বাচ্চা ছেলে

একটা গরিব বাচ্চা ছেলে



আরফান কেমন আছো? হ্যা আমি ভালো আছি, তুমি কেমন আছো সুমি।আমিও ভালো আছি। আজ একটা কথা বলবো তোমাকে।হ্যা বলো সুমি।আমরা বিয়ে করবো কবে?সেই তিন বছর ধরে ভালোবেসে আসছি।আমাদের তো এখন বিয়ে করতে হবে নাকি।বিয়ের কথা শুনলেই আরফানের আর ভালো লাগে না।কারন সে বেকার।কিছুই করে না।এ অবস্থায় বিয়ে করবে কিভাবে।এই জন্য আরফান বিয়ে করতে চায় না। ভাবতে ভাবতে আরফান বলে প্রেম করছি এখনি তো ভালো আছি।কিন্তু সুমি এভাবে আর চলতে চায় না।
আরফান বলতো আজ তোমার সাথে আমার কতদিন পর দেখা।অনেক দিন পর কিন্তু। কারন এখন চাইলেও বাসা থেকে বের হতে পারি না।তাই দিন দিন ভালোবাসাটাও কেমন যেন কমে যাচ্ছে।আরফান বলছে, কি বল এইসব।আমি তোমাকে ঠিক আগের মতই তোমাকে ভালোবাসি।আচ্ছা আমরা খুব তারাতারি বিয়ে করবো, এবার তো একটু হাসি দাও।কথাটা শুনে সুমি মুচকি হাসি দিল।এবার সুমি বলছে।তুমি তো কিছুই কর না।একটা চাকরি খোজ।তার পর আমি বাসায় বলি। কিন্তু আরফানের এসব চাকরি ভালো লাগে না।
দুইজনি মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে মেয়ে।কিন্তু ছেলেটার অহংকার একটু বেশি।কারর সাথে ভালোভাবে কথা বলতে পারতো না।মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে হয়েও সে থাকতো বড়লোক পরিবারের ছেলের মত।তাই সে নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষদের কে দেখতে পারতো না।সুমি অবশ্য এ ব্যাপারে আরফান কে অনেক বার না করেছে।কাওকে নিচু চোখে দেখতে মানা করেছে।কিন্তু কে শোনে কার কথা।আরফান সুমির কথাগুলো এক শুনতো আর অন্য কান দিয়ে বের করে দিত।
যাই হোক এভাবে তাদের প্রেম ভালোবাসা চলতে থাকে।একদিন পার্কে বসে থাকার সময় তাদের কাছে একটা বাচ্চা ছেলে আসে।বয়স আর কত হবে।১৪ থেকে ১৫।এবং বাচ্চাটা তখন বলে, ভাইয়া আমাকে কয়েকটা টাকা দিবেন,আমার মা অনেক অসুস্থ, আমার মা কে চিকিৎসা করাবো। কিন্তু বাচ্চা ছেলেটার কথায় আরফানের পাশান রিদয়টা একটুও দুর্বল হলো না।সে ছেলে টাকে দুর দুর করে তাড়িয়ে দিল।সুমি বল্ল কয়েকটা টাকাই তো, দিতে পারলা না।এতে যদি ওর উপকার হতো। আরফান বলে তুমি চুপ কর।এই কথা শুনে সুমি চুপ হয়ে গেল।ততক্ষনে ছেলেটা কস্ট পেয়ে অখান থেকে চলে যায়।
তারপর আরফান আর সুমি ওই জায়গাটা ত্যাগ করে চলে গেল।এবং রোড পার হতেই সুমির এক্সিডেন্ট হয়।এবং আরফান তাকে তখনি হাসপাতালে নিয়ে যায়।কিন্তু ওই যে বাচ্চা ছেলেটা ছিলো,সে সব কিছু দেখেও ভয়ে কাছে যেতে পারে নি।হাসপাতালে নেওয়ার পরে ডাক্তার বলে অনেক রক্ত পড়ে গেছে।তাই খুব তারাতারি তাকে রক্ত দিতে হবে।এখন আরফান কি করবে কিছুই বুঝতে পারছে না।মেয়েটার বাসায় জানাতেও ভয় পাচ্ছে।আরফান তো মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে,সে এতো টাকা কই পাবে।কোন উপায় না পেয়ে সে বন্ধুদের কাছ থেকে ধার নেওয়া শুরু করলো।কিন্তু সে টাকাতেও হচ্ছে না।
এমন সময় বাচ্চা ছেলেটা একটা চিঠি লেখে।সে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত পরেছে।তাই লিখতে পারতো।এতোটুকু বাচ্চা।কি বাই লিখবে।চিঠিতে সে লিখেছিলো।আমি একটা বাচ্চা ছেলে। আমার মা অসুস্থ ছিলো। বাসায় গিয়ে সেদিন দেখি মা আর বেচে নেই।খুব কেদে ছিলাম।কারন টাকার অভাবে আমার মা বিনা চিকিৎসায় মারা গিয়েছে।তাই আমি চাই না আমার চোখের সামনে যে দুর্ঘটনা টা ঘটেছে, সেই আপু মারা যাক।আমার আর কেও নেই।তাই আপনাকে আপু বলেই ডাকলাম। আমার অনেক দিনের জমানো টাকা যেহেতু আমার কোন কাজে আসেনি। তাই আমার জন্য দিয়ে গেলাম।ছেলেটা চিঠিতে আমার ঠিকানাও দিয়ে গেলাম,যদি কোন দিন দেখার ইচ্ছা হয়,দেখতে আসবেন।
এরপর একটা খামে চিঠিসহ টাকাটা ডাক্তার সাহেবের কাছে দিয়ে আসে।এবং ডাক্তার কে বলে আমার আপু সুস্থ হলে চিঠিটা আপুকে দিবেন।বাচ্চাটির কথা শুনে ডাক্তার সাহেবের মনটাও কেদে ওঠে।এরপর ওইদিন সুমির অপারেশন হয় এবং কয়েকদিন পর সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যায়।ততদিনে ছেলেমেয়ে দুইজনের পরিবার জেনে গেছে সুমির ব্যাপারটা।অবশেষে ডাক্তার ওই চিঠিটা সুমির হাতে দেয়।এবং সবাই তখন চিঠিটার সম্পর্কে জানার জন্য ব্যাকুল হয়ে গেছে।এরপর চিঠিটা পড়ে সবাইকে শোনায়।এবং পড়তে পড়তে একসময় সুমি কেদেই ফেলে।বাকিরাও খুব কাদে।
সুমি তখন আরফানকে বলে,দেখছো যে বাচ্চাটাকে তুমি দুর দুর করে তাড়িয়ে দিয়েছেলে তার উছিলায় আজকে আমি বেচে আছি।ওই বাচ্চা ছেলেটার কি মানবতা দেখছো।এখনতো নিজেকে একটু বদলাও।মানুষের সাথে ভালো ব্যাবহার করতে শেখ।এরপর আরফান নিজেকে পালটে ফেলে এবং ভালো হয়ে যায়।আসলে মানুষের জীবনে কঠিন মুহূর্ত না আসলে সহজে সে পরিবর্তন হয় না।
তারপর চিঠিতে দেওয়া ঠিকানায় তারা একদিন চলে যায়।গিয়ে দেখে বস্তির মধ্যে একটা ছোট ঘরে বসে থেকে কাঁদছে। তারা ঘরে প্রবেশ করাতে ছেলেটা কান্না থামিয়ে নেয়।তারপর সুমি বাচ্চাটাকে বুকে জরিয়ে নিয়ে বলে কাদছিস কেন ভাই।তোর বোন এসেছে না।একদক কাদবি না।কাদলে মার দেব।এরপর বাচ্চাটাও তার বোনকে জরিয়ে ধরে।আজ থেকে তুই আর একা নস।আমরা আছি। তোকে আমাদের সাথে নিয়ে যাব।ছেলেটা এতোদিন বস্তির এক খালার কাছে থাকতো।এরপর সে তার বোনের সাথে চলে যায়।
গল্পটা কাল্পনিক ছিলো। তোবুও যদি বাস্তব জীবনে কারর সাথে মিলে যায়।তাহলে ক্ষমার দৃস্টিতে দেখবেন।
গল্পের শিক্ষানিয় দিক যেটা সেটা হলো,আমাদের অহংকার করা যাবে না,এবং কারর সাথে খারাপ আচারন করা যাবে না।গল্পের বাচ্চাটা যে মানবতা দেখিয়েছে।আমাদেরও সবার প্রতি এভাবে মানবতা দেখাতে হবে।


Atif Rumman

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.