ভূতের সিনেমা ও আমি
ভূতের সিনেমা ও আমি
কিছুদিন আগে ভাইয়াকে বলেছিলাম, আমি ভূতের গল্প লিখবো তারজন্য আমার কিছু ভূতের সিনেমা লাগবে একদম লেটেস্ট ।ভাইয়া দিলো আমাকে কয়েকটা ঝাড়ি। অনেক অনুরোধ আবদারের পর ভাইয়া রাজি হলো আচ্ছা পেয়ে যাবি।
দুদিনপর ভাইয়া চলে যাওয়ার সময় বললো, ল্যাপটপ চ্যাক করিস তোরজন্য অনেকগুলো ভূতের সিনেমা নিয়ে রেখেছি। রাতে টিভি দেখছিলাম। রাত প্রায় পৌনে বারোটা।বাসায় সাড়ে এগারোটার পর হলেই আম্মাজানের মাইকিং শুরু হয়ে যায়।কিরে ঘুমাবিনা, এখনও টিভির সাউন্ড আসছে কেন?রাতভর টিভিদেখবে আর সকালে উঠতে বললে নাক সিটকাবে। বলি এত রাত জেগে টিভি দেখে আমার কোন পূণ্য অর্জন করতেছিস শুনি! হ্যানত্যান আরে কতো কিছু ।এখন আর টিভি দেখা যাবে না। তারচেয়ে বরং রুমে গিয়ে ভূতের সিনেমা দেখি! ভূতের সিনেমা রাতে একা একা দেখার মজাই আলাদা হয়। এর আগেও অনেক বার দেখেছি।
ল্যাপটপে সাতটা ভূতের সিনেমা দেখে খুশিতে তো আমি লাফিয়ে উঠলাম।এইবার এ সিনেমা দেখে ফাটাফাটি গল্প লিখা যাবে। হ্যাডফোন লাগাতে হবে, নয়তো সিনেমার সাউন্ডের গন্ধ শুঁকে শুঁকে আম্মাজান চলে আসবে। আমার সিনেমা দেখার বারোটা বাজিয়ে ছাড়বে।কানে হ্যাডফোন লাগিয়ে রাজ পরিবারের কাহিনি নিয়ে বানানো ভূতের গল্প দেখছি।আহাহহা..ও হুহহু,,,ইহিহ হিহি..কিসব ভূতুড়ে সাউন্ড!একটা টানটান পরিবেশ, গায়ের লোম খাড়া হয়ে যাচ্ছে। টিভিতে দেখা আর হ্যাডফোন লাগিয়ে ভূতের সিনেমা দেখা তাও একা একা! কলিজা লাগে বস কলিজা। সিনেমা এখন মাঝ পর্যায়ে এখানেও কলিজা খাওয়ার পর্ব চলতেছে।
দুষ্ট ভূতটা একটা ফুটবল মানে সিদ্ধ ডিমের জন্য রাজার সাথে অভিমান করে আত্মহত্যা করেছিল।সে থেকে তার অতৃপ্ত আত্মা রাজ পরিবারের সকলকে এক এক করে মেরে রক্ত, কলিজাকে সিদ্ধ ডিমের মতো বানিয়ে খাচ্ছে।কি ভয়ঙ্কর ভাবা যায়! এবার সেনাপতিকে শেষ করবে। সেনাপতির রুমের সিলিং এ ঝুলে আছে সেই দুষ্ট ভূতের গলাকাটা বিশ্রী অর্ধ শরীর। সেনাপতি উপস্থিত হলে ঐ গলাকাটা শরীর শূণ্যে মিলিয়ে গিয়ে হালকা ভূতুড়ে মিউজিক আর বাতাস সেনাপতিকে আবাস দিয়ে যায়। অশরীরী আত্মাটা কখনো রুমের এ পর্দায় তো কখনও অন্য পর্দায় ঝুলে থেকে সেনাপতিকে ভয় দেখাতে থাকে আর এ দিকে সেনাপতির হালুয়া ক্রমশও টাইড হতে থাকে।
সেই অশরীরী দুষ্ট আত্মাটা তার হাই পাওয়ারি চুম্বকওয়ালা চোখ দিয়ে সেনাপতির কলিজার ওপর নিশানা লাগিয়ে আক্রমণ করবে,ঠিক সেই সময়, আমিও যেন কিসের আবাস পেলাম।উপরে তাকিয়ে ওআম্মাগোওওওও ভূত ভূত ভূততত!!
বলে দিলাম এক চিল্লানি। কোথায় হ্যাডফোন কোথায় কি জানি না, ল্যাপটপ টা বিছানা থেকে মাটিতে পড়তে পড়তে বেঁচে গেলো।দেখি টুস করে রুমের লাইট জ্বলে উঠলো।বুকের মধ্যে থু থু থু করে থুথু ছিটাতে ছিটাতে বললাম, আম্মু তুমি এতরাতে?
-হ্যা আমি!তোর তো সাহস কম না রাত দুটো বাজতে চললো আর তুই ল্যাপটপ নিয়ে বসে আছিস?
-হ্যা আমি!তোর তো সাহস কম না রাত দুটো বাজতে চললো আর তুই ল্যাপটপ নিয়ে বসে আছিস?
মনে মনে বললাম, এ তো ভূত নয় ভূতের চেয়েও বড় ভয়ঙ্কর “ভূতনীমাতা”,দেখ কেমন অশরীরী আত্মার মতো মাঝরাতে বাচ্চাদের রুমে ঘুরে বেড়াচ্ছে!অপরাধীর মতো কাঁপা কাঁপা গলায় বললাম,
-তা-তাই বলে, বলা নাই কওয়া নাই অন্ধকারের ভিতর এভাবে সামনে এসে দাড়িয়ে থাকবা?
-তা-তাই বলে, বলা নাই কওয়া নাই অন্ধকারের ভিতর এভাবে সামনে এসে দাড়িয়ে থাকবা?
আম্মাজান ল্যাপটপের তার গুছাতে গুছাতে, -বাসায় তো আর কোন কাজ নেই। গেছিস উচ্ছন্নে সারাদিন মোবাইল, টিভি, আর এখন মাঝরাতেও ল্যাপটপ! তোর এই ল্যাপটপ আর মোবাইল যদি আমি গুম না করেছি তাহলে আমি তোদের মা নই।
-এভাবে বলার কি-ই আছে। গুম করলেও লোকে বলবে আমাদের মা, না করলেও বলবে আমাদের মা।শুধু কিছু হলেই আমার মোবাইল আর ল্যাপটপের পিছনে পড়ে যাও এটা মুটেও ঠিক না আম্মু।
-চুপ একদম কোন কথা বলবি না, ল্যাপটপ নিলাম মোবাইলও দে।
-ল্যাপটপ নিছো নাও৷ মোবাইল কি দোষ করেছে? মোবাইল নাই।
এই বলে কম্বল মুড়িয়ে শুয়ে পড়েছি আর এক মিনিট দাড়ালেও মোবাইল দিয়ে দিতে হবে।সিংগেল জীবনে একটা মোবাইল মানে একটা জামাই। না না এ অসম্ভব ল্যাপটপ যাবে যাক কিন্তু আমি আমার মোবাইল হারাতে চাই না।
-এভাবে বলার কি-ই আছে। গুম করলেও লোকে বলবে আমাদের মা, না করলেও বলবে আমাদের মা।শুধু কিছু হলেই আমার মোবাইল আর ল্যাপটপের পিছনে পড়ে যাও এটা মুটেও ঠিক না আম্মু।
-চুপ একদম কোন কথা বলবি না, ল্যাপটপ নিলাম মোবাইলও দে।
-ল্যাপটপ নিছো নাও৷ মোবাইল কি দোষ করেছে? মোবাইল নাই।
এই বলে কম্বল মুড়িয়ে শুয়ে পড়েছি আর এক মিনিট দাড়ালেও মোবাইল দিয়ে দিতে হবে।সিংগেল জীবনে একটা মোবাইল মানে একটা জামাই। না না এ অসম্ভব ল্যাপটপ যাবে যাক কিন্তু আমি আমার মোবাইল হারাতে চাই না।
রাত প্রায় তিনটা বাজতে চলেছে ঘুম চোখে। সিনেমার অর্ধ কাহিনি কেমন হতে পারে সেই কল্পনা ঝল্পনা অবচেতন ঘুমের ঘোরেও হচ্ছে। আমার আবার ডিম লাইট জ্বালিয়ে ঘুমানোর অভ্যাস নেই। বাইরের লাইটের কারণে রুমেও হালকা আলো ঢুকে। আধখোলা চোখে খেয়াল করলাম আমার রুমের দরজায় ইয়া লম্বা ধবধবে সাদা কি একটা যেন দাড়িয়ে আছে হালকা নাড়াচাড়াও করছে, পাশে কি একটা কুটকুট হালকা শব্দও হচ্ছে। শোকেস এর আয়নাটাও অদ্ভুতভাবে নড়ছে। ভূমিকম্পন হলে যেমনটা হয়, সেভাবে।আরে, ভূমিকম্পন তো হচ্ছেনা। কিসের শব্দহতে পারে আর সমানে ইয়া লম্বা এটা কি?রুমে ফ্যান চলছে তবু আমি ঘেমে একাকার হয়ে যাচ্ছি।
রুমের পরিবেশের সাথে সিনেমার ভূতুড়ে পরিবেশের মিল খুঁজে পাচ্ছি। কাল্পনিকভাবে ভূতুড়ে ওহাহহা.. হিহহিহি সাউন্ডগুলোও মনে মনে এড হয়ে যাচ্ছ। কি দেখলামরে বাবা।আমার সাথে এসব কি হচ্ছে মাঝরাতে!
দাঁতমুখ শক্ত করে দোয়া পড়তে পড়তে বালিশের পাশ থেকে মোবাইলটা বের করে সাহস করে ফ্লাশলাইট অন করে নিজেই বোকা হয়ে গেলাম দেখি আমার রুমের সাদা পর্দাটাই ফ্যানের বাতাসে দুলছে।যেটা গত পরশুই লাগানো হয়েছিল।এবার কুটকুট শব্দের রহস্য বের করতে হবে।কিন্তু বিছানা থেকে পা নামাতে ভয় করছে। যদি খাটের নিচ থেকে কেউ টান দেয়?মোবাইল হাতে মাথাটা আস্তে আস্তে নিচে নামিয়ে খাটের নিচে দেখি কিছু নেই। এবার রুমের লাইট জ্বালিয়ে রহস্য বের করতে গিয়ে দেখি, শোকেসের উপর রাখা আমার চকলেট গুলো ইন্দুর কুটকুট করে খাচ্ছে। আমার কত স্বাধের চকলেট, নিশ্চয়ই বেটা ইন্দুরের বাচ্চা নেচে নেচে খাচ্ছিল সেকারণে আয়নাও নড়ছিল।
একরাশ বিরক্তি নিয়ে আবার ঘুমানোর চেষ্টা করছি আধঘন্টা পর পায়ে কি যেন লাগছে,হালকা সুড়সুড়ি, আবার ব্যাথাও হচ্ছে যেন পায়ের আঙুলগুলো কামড়াচ্ছে। পর্দার রহস্য বের করলাম কুটকুট শব্দের রহস্যও বের করলাম।রহস্য বের হলেও ভৌতিক দৃশ্য গুলো চোখে ভাসছে প্রচুর ভয় করছে এখন আবার নতুন এটা কি হাজির হলো? অদৃশ্য কিছু আমার পায়ে জড়িয়ে যাচ্ছে না তো! আজকেই সব হতে হলো!
মনে মনে দোয়া পড়ছি আর বলছি, “হে ওপর ওয়ালে এইবার বাঁচালে আর কখনো ভূতের সিনেমা দেখবো না ভূতের গল্প লিখার কথাও ভাববো না।শুধু সকালটা তারাতারি করে দে।”
Brishti Mostafa.

কোন মন্তব্য নেই