হিজড়া বিড়ম্বনা

হিজড়া বিড়ম্বনা



১০ টাকা ভাড়া দেওয়ার পর দেখি বাসে হিজড়া উঠছে। পকেটে তাকিয়ে দেখি অবশিষ্ট আছে ১০ টাকা। এটা দিয়ে বাসায় ফিরতি পথের বাস ভাড়া দিতে হবে।
বিপদ অনুমান করতে পেরেই চোখ বন্ধ করেছি। বন্ধ চোখের কোণা দিয়ে তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করার চেষ্টা করছি। ছোট বেলা থেকে ঘুমের অভিনয় করাতে আমি খুব পটু। খুব ফাঁকিবাজ স্বভাবের হওয়াতে এবং না পড়ার অযুহাত হিসেবে অভিনয় টা রপ্ত করতে হয়েছিলো।
এক সুন্দরী আমার পাশের সিটে বসে আছে। বিপত্তি বাধলো, পাশে বসে থাকা সুন্দরী কে হিজড়া "এই সুন্দরী বান্ধবী, কিছু দে না" বলা তেই!"
ছোট বেলা থেকে রিহার্সেল করা কঠিন স্কিল ভুল প্রমাণ করেও মুখ দিয়ে ফিক ফিক করে হাসি বের হয়ে গেলো।
সুন্দরী আমার হাসি শুনে কিছুটা ইতস্থত হয়েছে। তার মেজাজ আমার উপরে চড়াও হয়েছে তাও অনুমেয়! সে বলেই বসেছে ভাই আপনি না এক মিনিট আগেও গান শুনছিলেন, এখন ঘুমের অভিনয় করছেন! ভাই পারেন ও বটে!
তখনই বাধে বিপত্তি। অবস্থা বেগতিক দেখে সেটাকে কাশির আড়ালে নেওয়ার চেষ্টা করলাম। লাভ হলো না কোন।
"এই হ্যান্ডসাম, তাড়াতাড়ি টাকা দে তো, আর ঘুমোতে হবে না তোর! এই উঠ না!"
বলতেই বাসের হেল্পারকে ডেকে বললাম,
"মামা ভাড়া নাই, স্টুডেন্ট পাশ কাটায় নিয়ো!"
"হেল্পারো কম না, আমার মত বেচারাকে পেয়ে বলে উঠলো, মামা আপনার ভাড়া তো হয়ে গেছে!"
আরো কিছু বলার আগে তাকে থামিয়ে বলেই বসলাম,
"আরে কও কি মামা, কে দিলো! সুযোগ বুঝে হিজড়া কে ধন্যবাদ দিয়ে বললাম,
"বড়ই উপকার করলেন বোন আমার!"
কিছু বকা মুখে এনেও দিলো না, সম্ভবত পকেটের করুণ হাল সে অনুমান করতে পেরেছে।
আমাকে বাদ দিয়ে এবার সে সামনের সিটে বসা হ্যান্ডাসাম ছেলেকে ধরেছে!
এ যাত্রায় বাচা গেলো, নাহলে কয়ক কিলো পথ আজ হেটে যেতে হত!
শাহাবাগে নেমেছি, এ টাকা দিয়ে একটা গোলাপ কেনা যাবে! দিশার জন্য না হয় আজ মাইল পাঁচেক পথ হেটে গেলাম! গোলাপ ফুল যে ওর খুব প্রিয়!




আবু সালেহ মুহাম্মদ সালেহীন

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.