ঈশ্বরের পৃথিবীতে স্তব্ধ নীরবতা


ঈশ্বরের পৃথিবীতে স্তব্ধ নীরবতা

.
আগামীকাল বিজয় দিবস।বাঙ্গালির ইতিহাসের শ্রেষ্ট দিন।নি:সন্দেহে শ্রেষ্ঠ দিন।দেখলাম ছেলেপুলেরা পুরো গলি প্রায় ছোট ছোট পতাকা দিয়ে সাজিয়ে ফেলেছে। আহা ভালবাসা।নিখাদ আবেগ!কিন্তু কি আশ্চর্য এরাই রাতে সাউন্ড বক্সে জোরেশোরে হিন্দী গান বাজিয়ে বিজয় দিবস উদযাপন করবে।যে কোন জাতীয় দিবসে এটাই হয়ে আসছে।অনেক সুশীলরাই তাদের মুন্ডুপাত করবে।কিন্তু তা নিয়ে আমার কোন ক্ষোভ নেই।একটা সময় অনেক মন খারাপ হতো।কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝলাম আসলে এটাই তো স্বাধীনতা।যার যা কিছু ভাল াগা নিজের মত করে করবে কেউ হস্তক্ষেপ করবে না,অনধিকার চর্চা করবে না।এটাই তো স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ।
.
তবুও আমার প্রশ্ন আচ্ছা এরা স্কুলের এসেম্বলি তে জাতীয় সংগীত গাইবার সময় শুধুই কি গলা মেলাতো?অথবা এখনো যখন ইউটিউবে বা রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় কোথাও থেকে ভেসে আসে "এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে না' তুমি" তখন কি হৃদয়ের কোথাও একটুও সুখানুভূতি হয় না আমাদের!!!চোখ ছলছল করে না।ধ্রিম করে একটা মুক্তিযুদ্ধের মুভী দেখে ফেলা যায়,যুদ্ধের ইতিহাস সম্বলিত একটা বই পড়ে ফেলা যায় কিন্তু নিজেকে চোখ বন্ধ করে সিচুয়েশন ভাবা যায় না!! একবার ভাবুন আপনাকে দেশের জন্য আপনার সবচেয়ে মূল্যবান জিনিস জীবনটা দিয়ে দিতে হচ্ছে। যে স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়ে দিলেন সেই স্বাধীন দেশে আপনার আর কখনোই গ্রামের আলপথ দিয়ে হাঁটা হবে না।গরমের দিনে পুকুরে দাপাদাপি করা হবে না।মুড়ি মুড়কি খেতে খেতে বৃষ্টিবিলাস করতে করতে স্মৃতিকাতর হয়ে উঠা হবে না আপনার আর্।একটি গুলি এসে বিঁধল ব্যাস সব ঝাপসা !!!
.
আগামীকাল বিজয় দিবসের পর এইতো কিছুদিন পরই আবার আসবে ভাষা দিবস একুশে ফেব্রুয়ারি।হয়তো কিছু ভিডিও ভাইরাল হবে।সেখানে তেল চিকচিকে চেহারার কিছু ডুড পোলাপান বলবে হ্যাঁ ১৯৭১ এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের ভাষা অর্জন করেছি।তারপর আরও কিছু অতি উৎসাহী পোলাপান সেগুলেতে এডিট করে থাগ লাইফের চশমা পড়াবে আর পিছনে বাজবে লা লা লা। আমরা দ্বিগুন উদ্দ্যমে হাহা রিএক্ট দিব। আচ্ছা আপনাদের ভয় হয় না।অস্তিত্ব বিলীনের ভয়!!!!
 
 
Km Sabbir

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.