প্রিয়তা
প্রিয়তা
সাইনবোর্ড এ বড় বড় হরফে লিখা
"ভুতের হোটেল"
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলাম আর মাত্র ৫৯ মিনিট ৩২ সেকেন্ড আছে। একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে হোটেলের ভিতরে ঢুকলাম।চারপাশে নানারকমের ভূত দের ছড়াছড়ি,,, কারো দুই পা উলটো ত,কারো চোখের মণি পুরো সাদা। কারো চেহারা এতটাই বিশ্রী যে তাকালে আমার ও গা ছমছম করে, আবার কারো চেহারা পুরো রক্তেই ভেসে আছে।যাইহোক, প্রায় সব টেবিল ই ভরা দেখতে পেলাম, তবে দরজার ঠিক পেছন এর কর্নার বরাবর একটা ছোট টেবিল দেখতে
পেলাম, মোটে ২ চেয়ারের। হয়তো সেই কারনেই সেখানে এখনো কেও বসে নি।আমি প্রায় তড়িঘড়ি করে সেখানে গিয়ে বসলাম আর অপেক্ষা করতে লাগলাম।
একটু পর গলাকাটা ভূত তার কাটা গলাটা হাতে নিয়ে আমার সামনে আসলো। হাতে থাকা গলা টা একটু খক খক করে কাশি দিয়ে বলে উঠলো,
"জয়দা প্রতি বছরের মত এবার ও কি শুধু চা??"
" হুম,শুধু চা"
"সাথে বিস্কুট চানাচুর এই জাতীয় কিছু নিবেন না???
" না"
কাটা গলাটা বিজ্ঞের মত মাথা নাড়ালো তারপর চলে গেলো।
আমি চুপচাপ আবার সময়ের প্রহর গুনতে লাগলাম,,,।সত্য বলতে একটু বিরক্ত ই হচ্ছিলাম,,কাংখিত জিনিসের অপেক্ষা টা একটু বেশি ই বিরক্তিকর।
কিন্ত একটু পরেই দেখলাম আমার সামনের চেয়ার টা কে জানি টেনে নিয়ে বসলো। কয়েক সেকেন্ড লাগলো বুঝতে যে এটা আমার অদৃশ্য মামা ভূত।
একটু পর খক খক গলায় কেও বলে উঠলো,
"তা দাদা প্রতি বছরের মত এবার ও কি অপেক্ষা করছেন?? "
আমি সায় দিয়ে মাথা নাড়ালাম। কিন্ত কিছু বললাম না,, আসলে মনে মনে আমি অপেক্ষার উ ৎকন্ঠায় ফেটে যাচ্ছি ত!! কিন্ত বাইরে তা প্রকাশ থেকে ঢেকে রাখতে বেশ কষ্ট ই হচ্ছে।
মামা মনে হয় আরো কিছু বলতে চাচ্ছিল কিন্ত এর আগেই আমার সামনে শাকচুন্নি আর ডাইনী ২ জনেই এসে হাজির। হাসি হাসি মুখ এনে তারা নিজেদের চুলে আংগুল দিয়ে বেধে বেধে আমার সামনে দুলতে দুলতে বলল,,
" এবার ও কি কারো জন্য এসেছেন?? নাকি এম্নিতেই আমাদের দেখতে এসেছেন?"
শাকচুন্নি আর ডাইনী ২জনেই সুন্দরী,,কিন্ত শাকচুন্নির নখ আর চুল গুলো বিলকিস পাগলীর মত ছড়ানো। আর ডাইনীর চুল গুলো সুন্দর হলেও সাপের মত ফুসফাস করে উঠে কিছুক্ষন পর পর। রীতিমত গায়ে কাটা দেয়ার মত ব্যাপার।কিছুক্ষন পর আমি ফোকলা দাতের হাসি দিয়ে বলল,
"আমার বিয়ে হয়ে গেছে,বউ আছে!"
আচমকা কথাটা বলাতে ২ জন ই রাগে ফুস করে উঠলো। একটু মুখ ভেংচি দিয়ে কিছুক্ষন পর ই ২জন সরে পড়লো।
মনে মনে হাফ ছেড়ে বাচলাম,প্রতিবার ই এই ২জনের তীরের সম্মুখে পড়তে হয় আমার।এরা ও যেন এক নাছোড়বান্দা, পিছুই ছাড়ে না!!
টেবিলে চায়ের কাপ রাখার শব্দে ঘুরে তাকালাম।
আমি কি আসলে শিহরিত হবো নাকি বমি করবো সেটাই বুঝতে পারছিলাম না,, বস্তূটা কি মানুষ নাকি ভুত সেটাই বুঝতে পারছিলাম না,,,সারা গায়ে কাকড়াবিছে, কেচো আর জোক কিলবিল করছে। এমন কি চোখের ভেতর থেকে ও একটা লম্বা লাল রং এর জোক কে বের হতে দেখলাম। চায়ের কাপ টা দিয়ে, কাপতে লাগলো সে। সে কি কাপুনি,,, মনে হলো যেন এই পুরো হোটেল টা ই ধসে পড়বে।তবে ভাগ্যক্রমে সেরকম কিছু হয় নি,,,কিছুক্ষন কাপার পর সে হুট করে স্থির হয়ে গেলো। তারপর আস্তে আস্তে হাত টা নাকের ভিতর নিয়ে গিয়ে একটা সুতোর মত কিছু বের করতে লাগলো,,,বলা বাহুল্য এই দৃশ্য দেখে আমি কিছুটা সরে বসলাম। না জানি আবার কোন চিড়িয়া বের করে,,তবে সুতোটা কোন চিড়িয়া ছিলো না।একটা সাদা রং এর কৃমি সদৃশ কিছু ছিলো। সত্য বলতে এত বড় কৃমি আগে কখনো দেখিনি,,, কিন্ত এখন আমি আছি ভুতদের হোটেলে। বাস্তব পৃথিবীর নিয়মকানুন এখানে খাটে না, তাই বিষয় টা কে এই পরিস্থিতির সাপেক্ষে দেখাই শ্রেয়।
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলাম আর মাত্র ৫৯ মিনিট ৩২ সেকেন্ড আছে। একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে হোটেলের ভিতরে ঢুকলাম।চারপাশে নানারকমের ভূত দের ছড়াছড়ি,,, কারো দুই পা উলটো ত,কারো চোখের মণি পুরো সাদা। কারো চেহারা এতটাই বিশ্রী যে তাকালে আমার ও গা ছমছম করে, আবার কারো চেহারা পুরো রক্তেই ভেসে আছে।যাইহোক, প্রায় সব টেবিল ই ভরা দেখতে পেলাম, তবে দরজার ঠিক পেছন এর কর্নার বরাবর একটা ছোট টেবিল দেখতে
পেলাম, মোটে ২ চেয়ারের। হয়তো সেই কারনেই সেখানে এখনো কেও বসে নি।আমি প্রায় তড়িঘড়ি করে সেখানে গিয়ে বসলাম আর অপেক্ষা করতে লাগলাম।
একটু পর গলাকাটা ভূত তার কাটা গলাটা হাতে নিয়ে আমার সামনে আসলো। হাতে থাকা গলা টা একটু খক খক করে কাশি দিয়ে বলে উঠলো,
"জয়দা প্রতি বছরের মত এবার ও কি শুধু চা??"
" হুম,শুধু চা"
"সাথে বিস্কুট চানাচুর এই জাতীয় কিছু নিবেন না???
" না"
কাটা গলাটা বিজ্ঞের মত মাথা নাড়ালো তারপর চলে গেলো।
আমি চুপচাপ আবার সময়ের প্রহর গুনতে লাগলাম,,,।সত্য বলতে একটু বিরক্ত ই হচ্ছিলাম,,কাংখিত জিনিসের অপেক্ষা টা একটু বেশি ই বিরক্তিকর।
কিন্ত একটু পরেই দেখলাম আমার সামনের চেয়ার টা কে জানি টেনে নিয়ে বসলো। কয়েক সেকেন্ড লাগলো বুঝতে যে এটা আমার অদৃশ্য মামা ভূত।
একটু পর খক খক গলায় কেও বলে উঠলো,
"তা দাদা প্রতি বছরের মত এবার ও কি অপেক্ষা করছেন?? "
আমি সায় দিয়ে মাথা নাড়ালাম। কিন্ত কিছু বললাম না,, আসলে মনে মনে আমি অপেক্ষার উ ৎকন্ঠায় ফেটে যাচ্ছি ত!! কিন্ত বাইরে তা প্রকাশ থেকে ঢেকে রাখতে বেশ কষ্ট ই হচ্ছে।
মামা মনে হয় আরো কিছু বলতে চাচ্ছিল কিন্ত এর আগেই আমার সামনে শাকচুন্নি আর ডাইনী ২ জনেই এসে হাজির। হাসি হাসি মুখ এনে তারা নিজেদের চুলে আংগুল দিয়ে বেধে বেধে আমার সামনে দুলতে দুলতে বলল,,
" এবার ও কি কারো জন্য এসেছেন?? নাকি এম্নিতেই আমাদের দেখতে এসেছেন?"
শাকচুন্নি আর ডাইনী ২জনেই সুন্দরী,,কিন্ত শাকচুন্নির নখ আর চুল গুলো বিলকিস পাগলীর মত ছড়ানো। আর ডাইনীর চুল গুলো সুন্দর হলেও সাপের মত ফুসফাস করে উঠে কিছুক্ষন পর পর। রীতিমত গায়ে কাটা দেয়ার মত ব্যাপার।কিছুক্ষন পর আমি ফোকলা দাতের হাসি দিয়ে বলল,
"আমার বিয়ে হয়ে গেছে,বউ আছে!"
আচমকা কথাটা বলাতে ২ জন ই রাগে ফুস করে উঠলো। একটু মুখ ভেংচি দিয়ে কিছুক্ষন পর ই ২জন সরে পড়লো।
মনে মনে হাফ ছেড়ে বাচলাম,প্রতিবার ই এই ২জনের তীরের সম্মুখে পড়তে হয় আমার।এরা ও যেন এক নাছোড়বান্দা, পিছুই ছাড়ে না!!
টেবিলে চায়ের কাপ রাখার শব্দে ঘুরে তাকালাম।
আমি কি আসলে শিহরিত হবো নাকি বমি করবো সেটাই বুঝতে পারছিলাম না,, বস্তূটা কি মানুষ নাকি ভুত সেটাই বুঝতে পারছিলাম না,,,সারা গায়ে কাকড়াবিছে, কেচো আর জোক কিলবিল করছে। এমন কি চোখের ভেতর থেকে ও একটা লম্বা লাল রং এর জোক কে বের হতে দেখলাম। চায়ের কাপ টা দিয়ে, কাপতে লাগলো সে। সে কি কাপুনি,,, মনে হলো যেন এই পুরো হোটেল টা ই ধসে পড়বে।তবে ভাগ্যক্রমে সেরকম কিছু হয় নি,,,কিছুক্ষন কাপার পর সে হুট করে স্থির হয়ে গেলো। তারপর আস্তে আস্তে হাত টা নাকের ভিতর নিয়ে গিয়ে একটা সুতোর মত কিছু বের করতে লাগলো,,,বলা বাহুল্য এই দৃশ্য দেখে আমি কিছুটা সরে বসলাম। না জানি আবার কোন চিড়িয়া বের করে,,তবে সুতোটা কোন চিড়িয়া ছিলো না।একটা সাদা রং এর কৃমি সদৃশ কিছু ছিলো। সত্য বলতে এত বড় কৃমি আগে কখনো দেখিনি,,, কিন্ত এখন আমি আছি ভুতদের হোটেলে। বাস্তব পৃথিবীর নিয়মকানুন এখানে খাটে না, তাই বিষয় টা কে এই পরিস্থিতির সাপেক্ষে দেখাই শ্রেয়।
একটু পর চায়ের কাপ টা নিয়ে যে মুহুর্তে চুমুক দিতে যাবে তখন অবাক চোখে দেখলাম, চায়ের উপর কিছু ছোট ছোট জোক মনের আনন্দে সাতার কাটছে!!রাগে আমার পুরো শরীর শুদ্ধু কেপে উঠলো,, মনে হলো এখন ই অই ওয়েটার ব্যাটা আর হোটেলের ম্যানেজার ২ টা কে আচ্ছা মতন পিটাই। কিন্ত হাতে সময় কম, তাই আর কিছু করলাম না।চায়ের কাপ টা আবার টেবিলে রেখে চোখ থেকে চশমাটা নামিয়ে শার্টের হাতায় মুছতে লাগলাম।
চোখে চশমা লাগানোর পর পর ই দেখতে পেলাম আমার সামনে একটা উজ্জ্বল সাদা বর্নের একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হাপাচ্ছে। পরনে সেইদিনের বেগুনি কালারে সালোয়ার কামিজ টা,,এত রং থাকতে কেন যেন ওকে বেগুনি রং এ বেশ মানাতো।
হাপাতে হাপাতে চোখের গোল চশমা টা খুলে ফেলল সে,, তারপর কোন কিছু না বলে সোজা আমার বুকে ঝাপিয়ে পড়লো মেয়েটা। ফুপিয়ে ফুপিয়ে কান্নার শব্দ টা যেন আমার মনের প্রশান্তির এক আলাদা অনুভুতি সৃ ষ্টি করতে লাগলো। বুকে জড়ানো অবস্থাতেই ঘড়িটার দিকে তাকালাম, আর মাত্র ১০মিনিট আছে। এই বছরের জন্য আর মাত্র ১০ মিনিট!!!
"এবার ও দেরী করে ফেললাম তাই না?? ১০মিনিট আছে আর তাই না??আমি খুব খারাপ তাই না??"
একসাথে এতগুলো প্রশ্ন শুনে আমি একটা মুচকি হাসি দিয়ে মেয়েটাকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম।প্রায় ৫বছর আগে একটা ট্রাক এক্সিডেন্টে হারিয়ে ফেলেছিলাম আমার বেগুনি রং টা কে। হাজার প্রার্থনা করে ও যখন ফিরে পাবার আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম ঠিক তখন ই যেন আশীর্বাদ স্বরুপ এই ভুতের হোটেলের দেখা মিলল। প্রতি বছর ই মাত্র একটা নির্দি ষ্ট দিনে, একটা নির্দি ষ্ট সময়ের এক ঘন্টার জন্য আমি আমার বেগুনি রং টা র দেখা পাই। কিন্ত আজ যে সেই ১ ঘন্টা থেকে ৫০মিনিট ই আকাশের কালো আধারে হারিয়ে গিয়েছে,এই মাত্র ১০মিনিটের জন্য ওর দেখা পেলাম।। এই কারনেই মেয়েটা ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাদছে,,আচ্ছা শান্তনা দিব?? নাহ থাক। কথা বলার দরকার নেই,,এভাবেই জড়িয়ে থাকি। সময় খুব ই অল্প আছে হাতে। মেয়েটা কে এটা বলার ও দরকার নেই যে ওর ১০মিনিট আমার ১০বছরের অক্সিজেনের সমান,,, কিছু কথা প্রকাশ না করাই ভালো। প্রিয়তা রা সেই কথাগুলো ঠিক ই বুঝে নেয়!
হাপাতে হাপাতে চোখের গোল চশমা টা খুলে ফেলল সে,, তারপর কোন কিছু না বলে সোজা আমার বুকে ঝাপিয়ে পড়লো মেয়েটা। ফুপিয়ে ফুপিয়ে কান্নার শব্দ টা যেন আমার মনের প্রশান্তির এক আলাদা অনুভুতি সৃ ষ্টি করতে লাগলো। বুকে জড়ানো অবস্থাতেই ঘড়িটার দিকে তাকালাম, আর মাত্র ১০মিনিট আছে। এই বছরের জন্য আর মাত্র ১০ মিনিট!!!
"এবার ও দেরী করে ফেললাম তাই না?? ১০মিনিট আছে আর তাই না??আমি খুব খারাপ তাই না??"
একসাথে এতগুলো প্রশ্ন শুনে আমি একটা মুচকি হাসি দিয়ে মেয়েটাকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম।প্রায় ৫বছর আগে একটা ট্রাক এক্সিডেন্টে হারিয়ে ফেলেছিলাম আমার বেগুনি রং টা কে। হাজার প্রার্থনা করে ও যখন ফিরে পাবার আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম ঠিক তখন ই যেন আশীর্বাদ স্বরুপ এই ভুতের হোটেলের দেখা মিলল। প্রতি বছর ই মাত্র একটা নির্দি ষ্ট দিনে, একটা নির্দি ষ্ট সময়ের এক ঘন্টার জন্য আমি আমার বেগুনি রং টা র দেখা পাই। কিন্ত আজ যে সেই ১ ঘন্টা থেকে ৫০মিনিট ই আকাশের কালো আধারে হারিয়ে গিয়েছে,এই মাত্র ১০মিনিটের জন্য ওর দেখা পেলাম।। এই কারনেই মেয়েটা ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাদছে,,আচ্ছা শান্তনা দিব?? নাহ থাক। কথা বলার দরকার নেই,,এভাবেই জড়িয়ে থাকি। সময় খুব ই অল্প আছে হাতে। মেয়েটা কে এটা বলার ও দরকার নেই যে ওর ১০মিনিট আমার ১০বছরের অক্সিজেনের সমান,,, কিছু কথা প্রকাশ না করাই ভালো। প্রিয়তা রা সেই কথাগুলো ঠিক ই বুঝে নেয়!
জয় চন্দ্র রায়

কোন মন্তব্য নেই