ধর্ষণ যখন সুনিশ্চিত
ধর্ষণ যখন সুনিশ্চিত
ধর্ষণের উপযুক্ত শাস্তি নিঃসন্দেহে মৃত্যুদন্ড। কিন্তু, আমাদের সমাজব্যবস্থায় কয়জন ধর্ষক, মৃত্যুদন্ড শাস্তি হিসেবে পায়?
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ধর্ষক স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়ায়। আর, জীবন বিপন্ন হয় ধর্ষিতায়। প্রতিটি পদে পদে তাকে হেয় করে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ।
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ধর্ষক স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়ায়। আর, জীবন বিপন্ন হয় ধর্ষিতায়। প্রতিটি পদে পদে তাকে হেয় করে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ।
সতীত্ব দিয়ে যে পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা বিচার করে নারীর সম্মান; সেই পুরুষতান্ত্রিক সমাজকে দিয়ে আর কী বা আশা করা যায়!
তাই, অধিকাংশ সময় ধর্ষিতা বেঁচে উঠলেও প্রতিটি পদে পদে মানসিকভাবে ধর্ষিত হতে হতে বেছে নেয় স্বেচ্ছা মৃত্যুর পথ।
সেই সমাজব্যবস্থায় কেউ ধর্ষককে কেনো তুলে দিবে আইনের হাতে?
তাই, সম্ভবত খুনি নিজের হাতে ধর্ষককে শাস্তি দেবার কাজ তুলে নিয়েছে।
তাই, সম্ভবত খুনি নিজের হাতে ধর্ষককে শাস্তি দেবার কাজ তুলে নিয়েছে।
এটা যদি খুনির ইচ্ছা হয়ে থাকে, তবে নিঃসন্দেহে তার প্রতি আমার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। কিন্তু, আমি আইনের লোক। আমাকে বাধ্য হয়ে তাই ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়েও খুনিকে ধরতে হবে।
সুতরাং, বাধ্য হয়ে আমাকে শুরু করতে হলো ঝাণু ফকিরের হত্যাকান্ডের কেস।
যমুনার পাড়ে ঝাণু ফকিরের লাশ পর্যবেক্ষণ করে আমি যেটা বুঝলাম, ঝাণু ফকিরের যৌনাঙ্গ কেটে নেওয়ার ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। যার ফলাফল মৃত্যু। তারপর, বুকে ছুরি দিয়ে কেটে লিখে রাখা হয়েছে, ধর্ষণ যখন সুনিশ্চিত, উপভোগ করাই শ্রেয়।
সুতরাং, এই মৃত্যুর সাথে আব্দুল লতিফের মৃত্যুর সরাসরি যোগাযোগ আছে।
তাই, আমাকে ঝাণু ফকির ও আব্দুল লতিফের সংযোগ খুঁজে বের করতে হবে।
আমি আশেপাশের লাশকে ঘিরে থাকা ভীড়ের লোকজনের সাথে কথা বলে জানতে চাইলাম ঝাণু ফকির সম্পর্কে।
তারা আমাকে এক্ষেত্রে যা বললো তা হলো, ঝাণু ফকির এ গ্রামের রক্ষাকর্তা ছিলেন। অশুভ শক্তি থেকে তিনি গ্রামটিকে রক্ষা করে যাচ্ছিলেন।
দশবছর আগে এ গ্রামে বাসা বেঁধেছিলো খারাপ জ্বিন। সেই জ্বিন থেকে তিনি গ্রামবাসীকে রক্ষা করতেন। আর, এজন্য তিনি জ্বিনের সাথে শান্তিচুক্তি করেছিলেন এই বলে যে, প্রতিবছর একজন করে মেয়ে তিনি জ্বিনের খাবার হিসেবে পাঠিয়ে দিবেন।
কিন্তু, এ বছর রাক্ষুসে জ্বীন চুক্তি মানবে না বলে দিয়েছে। আর এজন্য আব্দুল লতিফ জ্বীনের সাথে লড়তে গিয়েছিলেন। ফলাফল, আব্দুল লতিফের মৃত্যু। আর, আব্দুল লতিফের মৃত্যুর পর মধ্যস্ততা করতে গিয়েছিলেন ঝাণু ফকির। তারও ফলাফল, ঝাণু ফকিরের মৃত্যু। এখন, খারাপ জ্বীন এই গ্রামটাকে পুরো নষ্ট করে দিবে। কেউ আর রক্ষা করতে পারবেনা।
আমি কথাগুলো শুনে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলাম। তারপর জিজ্ঞেস করলাম, আব্দুল লতিফ জ্বীনের সাথে লড়তে গিয়েছিলেন- এ কথা কে বলেছিলো?
গ্রামবাসী থেকে উত্তর পেলাম, ঝাণু ফকির।
আমি এবার জিজ্ঞেস করলাম, কবে বলেছিলো?
এবার তাদের থেকে উত্তর পেলাম, আব্দুল লতিফের মৃত্যুর পরে।
গ্রামবাসী থেকে উত্তর পেলাম, ঝাণু ফকির।
আমি এবার জিজ্ঞেস করলাম, কবে বলেছিলো?
এবার তাদের থেকে উত্তর পেলাম, আব্দুল লতিফের মৃত্যুর পরে।
উত্তর শুনে আমি জিজ্ঞেস করলাম, ঝাণু ফকির মধ্যস্ততা করতে গিয়েছিলো কীভাবে?
আমার প্রশ্ন শুনে ভীড় ঠেলে একজন এগিয়ে এসে কান্না করতে করতে বললো, স্যার, আমার মাইয়াডারে দিয়া।
আমি অবাক হয়ে বললাম, আপনি আপনার মেয়েকে দিয়ে দিলেন।
লোকটা কান্না করতে করতে বললো, স্যার, এরা জোর কইরা আমার মাইয়াডারে লইয়া গ্যাছে! আমারে কইসে, গেরামের শান্তির লাইগা আমার মাইয়াডারে বলি দিতে হইবো!
আমি গ্রামবাসীর দিকে তাকিয়ে বললাম, মেয়েটা কোথায়?
তখন একজন বললো, খারাপ জ্বীনে খাইয়া ফেলছে স্যার!
কথা শুনে আমার গা জ্বলে গেলো। রাগে আমি চিৎকার করে বললাম, রাবিস!
তারপর একটা সিগারেট ধরালাম মাথা ঠান্ডা করতে। তারপর, সিগারেট টানতে টানতে আমি জিজ্ঞেস করলাম, ঝাণু ফকিরের ঘর কোথায়?
একজন তখন ডানদিকে দেখিয়ে বললো, ওইহানে স্যার।
আমার প্রশ্ন শুনে ভীড় ঠেলে একজন এগিয়ে এসে কান্না করতে করতে বললো, স্যার, আমার মাইয়াডারে দিয়া।
আমি অবাক হয়ে বললাম, আপনি আপনার মেয়েকে দিয়ে দিলেন।
লোকটা কান্না করতে করতে বললো, স্যার, এরা জোর কইরা আমার মাইয়াডারে লইয়া গ্যাছে! আমারে কইসে, গেরামের শান্তির লাইগা আমার মাইয়াডারে বলি দিতে হইবো!
আমি গ্রামবাসীর দিকে তাকিয়ে বললাম, মেয়েটা কোথায়?
তখন একজন বললো, খারাপ জ্বীনে খাইয়া ফেলছে স্যার!
কথা শুনে আমার গা জ্বলে গেলো। রাগে আমি চিৎকার করে বললাম, রাবিস!
তারপর একটা সিগারেট ধরালাম মাথা ঠান্ডা করতে। তারপর, সিগারেট টানতে টানতে আমি জিজ্ঞেস করলাম, ঝাণু ফকিরের ঘর কোথায়?
একজন তখন ডানদিকে দেখিয়ে বললো, ওইহানে স্যার।
আমি তখন লোকটাকে ঝাণু ফকিরের ঘর দেখিয়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিলাম।
•
ঝাণু ফকিরের ঘর তল্লাসি করে আমি মেয়েটাকে খুঁজে বের করলাম। ভেতরের রুমের খাটের নীচে রশি দিয়ে হাত পা ও মুখ বেঁধে রাখা হয়েছে। আমি তাড়াতাড়ি মেয়েটার বাঁধন খুলে বের করে নিয়ে আসলাম। তারপর, একগ্লাস পানি দিলাম পান করতে।
ঝাণু ফকিরের ঘর তল্লাসি করে আমি মেয়েটাকে খুঁজে বের করলাম। ভেতরের রুমের খাটের নীচে রশি দিয়ে হাত পা ও মুখ বেঁধে রাখা হয়েছে। আমি তাড়াতাড়ি মেয়েটার বাঁধন খুলে বের করে নিয়ে আসলাম। তারপর, একগ্লাস পানি দিলাম পান করতে।
মেয়েটি যখন পানি পান করছিলো তখন তার দিকে দিকে ভালো করে লক্ষ্য বুঝলাম মেয়েটি দু'দিনে সম্ভবত কিছু খেতে পায়নি। তাই মারাত্নক দূর্বল হয়ে পড়েছে।
তাই, আমি আর কোন কথা না বাড়িয়ে ইমনকে সাথে নিয়ে পুলিশের জীপ নিয়ে রওনা হলাম মেয়েটির বাড়িতে। তারপর, জীপ থেকে নেমেই বললাম, তাড়াতাড়ি খাবারের ব্যবস্থা করতে।
মেয়েটির বাবা প্রথমে আমার কথা বুঝেননি। পরে নিজের মেয়েকে দেখে কাঁদতে কাঁদতে তার স্ত্রীকে ডাক দিলেন। তার স্ত্রীও মেয়েকে দেখে কান্না জুড়ে দিলো।
আমি অবস্থা দেখে রাগত স্বরে বললাম, মেয়েকে একবার মরতে পাঠিয়েছেন। এখন খাবারের ব্যবস্থা করে মেয়েটাকে বাঁচার সুযোগ করে দিন।
আমার কথা শুনে মেয়েটির মা খাবার আনতে চলে গেলো। আর আমি লোকটার সহযোগিতায় মেয়েটিকে গাড়ি থেকে নামিয়ে ঘরের ভেতরে নিয়ে গেলাম।
ঘরের ভেতরে খাটে মেয়েটিকে শুইয়ে দিয়ে লোকটিকে বললাম, আমি আপনার ঘরে আজ থাকতে চাই।
লোকটি বললো, আচ্ছা স্যার।
আমি বললাম, কেউ যেনো ওকে বিরক্ত না করে। খাবার খাওয়ানো শেষে ওকে বিশ্রাম করতে দিন। তারপর, আমি ওর সাথে কথা বলবো।
লোকটি বললো, আচ্ছা স্যার।
আমি বললাম, কেউ যেনো ওকে বিরক্ত না করে। খাবার খাওয়ানো শেষে ওকে বিশ্রাম করতে দিন। তারপর, আমি ওর সাথে কথা বলবো।
এই বলে আমি লোকটির বারান্দায় বসে সিগারেট টানতে টানতে অপেক্ষা করতে লাগলাম।
•
সন্ধ্যায় একহাতে চা ও আরেকহাতে সিগারেট নিয়ে ভাবতে লাগলাম, বিশ্বাস কতোটা মারাত্নক হতে পারে! বিশ্বাসকে পুঁজি করে মানুষকে খুন করা হচ্ছে! অথচ, মানুষের জন্য বিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে, বিশ্বাসের জন্য মানুষ না।
সন্ধ্যায় একহাতে চা ও আরেকহাতে সিগারেট নিয়ে ভাবতে লাগলাম, বিশ্বাস কতোটা মারাত্নক হতে পারে! বিশ্বাসকে পুঁজি করে মানুষকে খুন করা হচ্ছে! অথচ, মানুষের জন্য বিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে, বিশ্বাসের জন্য মানুষ না।
ঠিক সে সময় ভেতর থেকে লোকটি ডাক দিলো। ভেতরে ঢুকে আমি মেয়েটির পাশে গিয়ে বসলাম। তারপর বললাম, মা, কি নাম তোমার?
মেয়েটি মানসিকভাবে মারাত্নক আঘাত পাওয়ায় অনেকক্ষণ চুপ করে রইলো। তারপর বললো, পূর্ণিমা।
আমি বললাম, মা বলতে পারো সেদিন রাতে কি ঘটেছিলো?
পূর্ণিমা অনেকক্ষণ চুপ থেকে কান্না জুড়ে দিলো।
আমি পূর্ণিমার কান্না শুনে বললাম, তুমি না বললে এসব মানুষগুলোর মুখোশ কোনদিনও খুলবেনা। তোমার মতো আরো অনেকেই এরকম মানুষের শিকার হবে। তুমি কি তা চাও?
মেয়েটি কান্না সামলে বললো, সেদিন রাতে আব্দুল চেয়ারম্যানের মৃত্যুর পর আমারে হেই বাড়িতে লইয়া গ্যাছিলো ঝাণু ফকিরে! হেই ঘরের মইধ্যে কে জানি আছিলো। হের লাইগ্যা ঝাণু ফকিরে আমারে ওইখান থেকে টাইনা আইনার হের নিজের বাড়িতে লইয়্যা আটকায় রাখে। তিনদিন ধইরা আমারে ধর্ষণ করে। তারপর, গতকাইল সকালে বাইর হইসিলো, আর ফিরা আসেনাই।
মেয়েটি মানসিকভাবে মারাত্নক আঘাত পাওয়ায় অনেকক্ষণ চুপ করে রইলো। তারপর বললো, পূর্ণিমা।
আমি বললাম, মা বলতে পারো সেদিন রাতে কি ঘটেছিলো?
পূর্ণিমা অনেকক্ষণ চুপ থেকে কান্না জুড়ে দিলো।
আমি পূর্ণিমার কান্না শুনে বললাম, তুমি না বললে এসব মানুষগুলোর মুখোশ কোনদিনও খুলবেনা। তোমার মতো আরো অনেকেই এরকম মানুষের শিকার হবে। তুমি কি তা চাও?
মেয়েটি কান্না সামলে বললো, সেদিন রাতে আব্দুল চেয়ারম্যানের মৃত্যুর পর আমারে হেই বাড়িতে লইয়া গ্যাছিলো ঝাণু ফকিরে! হেই ঘরের মইধ্যে কে জানি আছিলো। হের লাইগ্যা ঝাণু ফকিরে আমারে ওইখান থেকে টাইনা আইনার হের নিজের বাড়িতে লইয়্যা আটকায় রাখে। তিনদিন ধইরা আমারে ধর্ষণ করে। তারপর, গতকাইল সকালে বাইর হইসিলো, আর ফিরা আসেনাই।
আমি বুঝলাম, এখানে আমি আর কোন তথ্য পাবোনা। পূর্ণিমাকে বিশ্রাম করতে বলে আমি পূর্ণিমার বাবাকে বললাম, পূর্ণিমাকে সাথে নিয়ে আপনি আমার সাথে শহরে যাবেন। ওর চিকিৎসার দরকার। এরপর, আপনি চাইলে ওকে আমাকে কাছে রাখতে পারেন। আমি ওর থাকা-খাওয়া-চাকরির সব ব্যবস্থা করে দিবো। অথবা, আপনি নিয়েও আসতে পারেন। তবে, আমার মতে নিয়ে আসাটা ভুল হবে। কারণ, ধর্ষিতা মেয়েকে আপনাদের এই সমাজ কোনদিনও বাঁচতে দিবেনা।
পূর্ণিমার বাবা বললো, আইচ্ছা স্যার, আপনার মেহেরবানি।
তারপর বিদায় নিয়ে আমি চলে আসলাম, দশ বছরের পরিত্যক্ত বাড়িটিতে।
•
ঘরটির দরজা হাট করে খোলা! ভেতরের কোন আলো নেই। করিম ভেতরে থাকার পরও আলো না থাকা ও দরজা এভাবে খোলা থাকার কারণ আমি বুঝতে পারলাম না।
ঘরটির দরজা হাট করে খোলা! ভেতরের কোন আলো নেই। করিম ভেতরে থাকার পরও আলো না থাকা ও দরজা এভাবে খোলা থাকার কারণ আমি বুঝতে পারলাম না।
তাই, ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে আমি করিম বলে বেশ কয়েকার ডাকলাম। কিন্তু কোন সাড়া শব্দ পেলাম না। সবকিছু মিলিয়ে আমার কেমন যেনো সন্দেহ হলো।
আমি রিভলবারটা হাতে নিয়ে ভেতরে ঢুকে গেলাম। তারপর, সুইচ টিপে বাতি জ্বালালাম। আর, ঠিক তখন আবিষ্কার করলাম, নতুন লাইনের সংযোগে কিছুটা ত্রুটি দেখা দিয়েছে। যার ফলাফল, বাতি জ্বলছেনা।
তাই, আমি টর্চটা জ্বালিয়ে ভেতরে ঢুকে গেলাম। ভেতরে কোথাও কোন শব্দ নেই। আমি আরো কয়েকবার করিম বলে ডাক দিলাম। আর সাথে সাথেই ভেতরের গোপন ঘরটিতে কিসের যেনো একটা শব্দ হলো।
আমি আশেপাশে টর্চের আলো ফেলে পথ চিনে চিনে চলে গেলাম গোপন ঘরটির সামনে।
গোপন ঘরটির দরজা খুলে ভেতরে আলো ফেলতেই দেখলাম করিমকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। আর মুখও বন্ধ করে রাখা হয়েছে যাতে কথা না বলতে পারে।
আমি তাড়াতাড়ি ভেতরে ঢুকে করিমের বাঁধন খুলতে যাবো, ঠিক তখনই গোপন ঘরের দরজা বাহির থেকে বন্ধ করে দেওয়া হলো!
আমি পরিস্থিতি বুঝে ইমনকে ফোন দেওয়ার জন্য মোবাইল বের করলাম। ফোন বের করে দেখলাম ফোনে চার্জ নাই।
এই অবস্থায় আমি কি করবো ভাবতে ভাবতে শেষে করিমের বাঁধন খুলে দিলাম।
এবং ঠিক তখনই শুনলাম বাহির থেকে ঘুঙুরের শব্দ! শব্দটি আস্তে আস্তে দরজার কাছাকাছি আসছে। আমি সাথে সাথে দরজার দিকে রিভলবার তাক করলাম।
কিন্তু, কেউ দরজা খুললোনা। দরজার পাশ থেকে একটি নারী কন্ঠ বললো,
এতটুকু সময়ে এই অবস্থা? আমি এখানে একমাস বন্দী ছিলাম! কই কেউ তো আমাকে বাঁচাতে আসেনি!
আর, এখন চেয়ারম্যান মরলো আর আপনি তার খুনী ধরতে চলে আসলেন! আইনকে তবে ক্ষমতাধর সুবিধাবাদী মানুষদের জন্য?
এতটুকু সময়ে এই অবস্থা? আমি এখানে একমাস বন্দী ছিলাম! কই কেউ তো আমাকে বাঁচাতে আসেনি!
আর, এখন চেয়ারম্যান মরলো আর আপনি তার খুনী ধরতে চলে আসলেন! আইনকে তবে ক্ষমতাধর সুবিধাবাদী মানুষদের জন্য?
আমি বললাম, আইনের কাজ খুনীকে ধরা। সত্য প্রকাশ করা। দেরিতে হলেও সব সত্য প্রকাশ পাবে!
মেয়েটি হাসতে হাসতে বললো, তাও নিজ হাতে খুন করার পর। যাই হোক, সত্য জানতে চান তো?
কাল রাতে নদীর পাড়ে নৌকা রাখা থাকবে। একা আসবেন। সাথে কেউ যেনো না আসে। কেউ আসলে আপনি আমাকে খুঁজেও পাবেন না। আর মৃত্যু ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকবে।
মেয়েটি হাসতে হাসতে বললো, তাও নিজ হাতে খুন করার পর। যাই হোক, সত্য জানতে চান তো?
কাল রাতে নদীর পাড়ে নৌকা রাখা থাকবে। একা আসবেন। সাথে কেউ যেনো না আসে। কেউ আসলে আপনি আমাকে খুঁজেও পাবেন না। আর মৃত্যু ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকবে।
আমি বললাম, আচ্ছা। আমি একাই আসবো।
মেয়েটি বললো, বিশ্বাস করবো?
আমি বললাম, বিশ্বাস করতে হবেনা। বিশ্বাসে কখনো সত্য জানা যায়না। তুমি অবিশ্বাস করো। নজর রেখো আমার উপর।
আমার কথা শুনে মেয়েটি চুপ করে গেলো। তারপর, ঘুঙুরের শব্দ দূরে সরে যেতে থাকায় বুঝলাম, মেয়েটি চলে যাচ্ছে। তারপর, বাহিরের দরজা বন্ধ হয়ে গেলো।
•
সকাল সকাল আমার অস্তিত্ব আবিষ্কার করতে না পেরে ইমন পুরো বাড়ি খোঁজা শুরু করলো। পরে, তালাবদ্ধ গোপন ঘর থেকে ইমন আমাকে উদ্ধার করে উদ্বিগ্ন হয়ে গেলো।
সকাল সকাল আমার অস্তিত্ব আবিষ্কার করতে না পেরে ইমন পুরো বাড়ি খোঁজা শুরু করলো। পরে, তালাবদ্ধ গোপন ঘর থেকে ইমন আমাকে উদ্ধার করে উদ্বিগ্ন হয়ে গেলো।
তথাকথিত জ্বীনের ঘরে থেকে বারবার অজ্ঞান হয়ে করিমের অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে গেছে। তাই, ওকে পাঠালাম শহরের ডাক্তারের কাছে।
আর আমি সিগারেট টানতে টানতে গল্প জুড়ে দিলাম ইমনের সাথে। তারপর, কথা প্রসঙ্গে বললাম, দশবছর আগের ঘটনাটা বিস্তারিত বলো তো।
তখন ইমন বললো, দশবছর আগে এক প্রবল ঝড় উঠে গ্রামে। এরকম ঝড় সহজে আসেনা। কথিত আছে, খারাপ জ্বীনেরা এরকম ঝড়ে গ্রামে বাসা বাঁধে। তারপর, পুরো পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়।
কিন্তু, এরকম ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি।
তো, সেদিন রাতের পর সিকদার বাড়ি থেকে কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। গ্রামবাসী তাদের প্রথাগত বিশ্বাসের ভয়ে ঘরে ঢুকেনি। তখন লতিফ চেয়ারম্যান ঝাণু ফকিরকে ভেতরে পাঠায়।
ঝাণু ফকির ভেতরে গিয়ে দেখেন পরিবারের সবাই মারা গিয়েছে। শুধু এই পরিবারের মেয়ে সোহার কোন অস্তিত্ব নেই। অর্থ্যাৎ, জ্বীনেরা সোহাকে নিয়ে গেছে।
তারপর, ঝাণু ফকির বলেছিলো, লাশ ভেতর থেকে এখনো আনা যাবেনা। তাকেও জ্বীনেরা লাশ ধরতে দেয়নি।
জ্বীনেরা যেদিন খবর পাঠাবে সেদিন ঝাণু ফকির লাশ বের করে আনবে।
জ্বীনেরা যেদিন খবর পাঠাবে সেদিন ঝাণু ফকির লাশ বের করে আনবে।
এভাবে একমাস কেটে যায়। তারপর, ঝাণু ফকির একদিন নিজে গিয়ে লাশ সব বের করে আনে। সবগুলো পঁচে যাওয়া একটা লাশ ছিলো যার অনেকটুকু মাংস খাওয়া ছিলো। বলা হয়েছিলো, জ্বীনেরা খেয়ে ফেলেছে। আর সোহাকে জ্বীনেরা নিয়ে গিয়েছে।
সব শুনে আমি বুঝলাম, ঝাণু ফকির আর চেয়ারম্যান সোহাকে রেখে ধর্ষণ করে গোপন ঘরে লুকিয়ে রাখতো। আর, সোহা গোপন ঘরে পরিবারেরই কারো মাংস খেয়ে বেঁচেছিলো কোনভাবে। তারপর, সুযোগ বুঝে একদিন পালিয়ে গেছে।
আর, এখন সে তার প্রতিশোধের বদলা নিচ্ছে।
•
সময় রাতের ১০ টা। যমুনার পড়ে এসে দেখলাম, একটি খালি নৌকা দাঁড়িয়ে আছে। আমি আস্তে আস্তে নীচে নেমে নৌকায় উঠলাম। নৌকায় উঠে দেখি নৌকার সামনের দিকে একটি তীরচিহ্ন দেওয়া আছে। আমি কোনকিছু না ভেবে সেটাকে অনুসরণ করে চলতে শুরু করলাম।
সময় রাতের ১০ টা। যমুনার পড়ে এসে দেখলাম, একটি খালি নৌকা দাঁড়িয়ে আছে। আমি আস্তে আস্তে নীচে নেমে নৌকায় উঠলাম। নৌকায় উঠে দেখি নৌকার সামনের দিকে একটি তীরচিহ্ন দেওয়া আছে। আমি কোনকিছু না ভেবে সেটাকে অনুসরণ করে চলতে শুরু করলাম।
প্রায় আধঘন্টা চলার পর আমি একটি চর আবিষ্কার করলাম আমার সামনে। বুঝলাম, এখানেই নামতে হবে। চরে নেমে সামনে আলো ফেলতেই আবিষ্কার করলাম একটি নারীকে। বুঝলাম মেয়েটি সোহা।
এবং আশ্চর্যের বিষয় মেয়েটি পুরো নগ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
আমি বললাম, এভাবে দাঁড়িয়ে আছো কেনো?
সোহা বললো, আসো এই রাতটাতে একটু ফূর্তি করি!
আমি বললাম, তুমি আমার মেয়ের মতো। এসব কি বলছো।
আমি বললাম, এভাবে দাঁড়িয়ে আছো কেনো?
সোহা বললো, আসো এই রাতটাতে একটু ফূর্তি করি!
আমি বললাম, তুমি আমার মেয়ের মতো। এসব কি বলছো।
সোহা তখন সামনে এসে আমার সারা শরীরে হাত বুলাতে শুরু করলো।
আমি চাইলেই সোহাকে গুলি করে দিতে পারি। কিন্তু, তা করলে আমার অনেক কিছুই অজানা থেকে যাবে।
আমি চাইলেই সোহাকে গুলি করে দিতে পারি। কিন্তু, তা করলে আমার অনেক কিছুই অজানা থেকে যাবে।
তাই, আমি সোহাকে বললাম, তুমি বেঁচেছিলে কীভাবে?
সোহা বললো, আমি একমাস ধরে ধর্ষিত হয়েছি। ওরা চেয়েছিলো ধর্ষণ করতে করতে আমাকে না খাইয়ে মেরে ফেলবে। কিন্তু আমি আমার নিজের বাবার মাংস খেয়ে বেঁচেছিলাম। পানির অভাব পূরণ করেছিলাম নিজের মূত্র আর রক্ত দিয়ে।
সোহা বললো, আমি একমাস ধরে ধর্ষিত হয়েছি। ওরা চেয়েছিলো ধর্ষণ করতে করতে আমাকে না খাইয়ে মেরে ফেলবে। কিন্তু আমি আমার নিজের বাবার মাংস খেয়ে বেঁচেছিলাম। পানির অভাব পূরণ করেছিলাম নিজের মূত্র আর রক্ত দিয়ে।
তারপর, একমাস পরে একদিন ঝাণু ফকির একা এসেছিলো। দরজা খুলতে আমি ওর যৌনাঙ্গে সজোরে লাথি দিয়ে পালিয়ে যাই।
তারপর, রাস্তায় ঘুরতে ঘুরতে একজন বৃদ্ধ লোকের সাথে দেখা হয়। তিনি আমাকে বড় করেন নিজের মেয়ের মতো। তারপর, তিনিও মারা যান।
কিছুদিন আগে তিনি আমাকে এখানে আসার নির্দেশ দেন।
আমি বললাম, কীভাবে?
সোহা বললো, মোবাইলে মেসেজ দিয়ে।
আমি বললাম, অন্য কেউ তো হতে পারে।
সোহা বললো, না তিনি সব পারেন।
আমি বললাম, অন্য কেউ তো হতে পারে।
সোহা বললো, না তিনি সব পারেন।
এই বলে সোহা আমার যৌনাঙ্গে দিকে হাত বাড়ালো। আমি লক্ষ্য করলাম সোহার আঙুলের ফাকে একটি ব্লেড লুকিয়ে আছে।
সাথে সাথে এক ধাক্কায় সোহাকে আমি পেছনে ফেলে দিলাম।
সোহা ঠিক তখনই উঠে এসে পেছন থেকে একটা ছুরি বের করলো। তারপর, একলাফে আমার দিকে ছুরিটা নিয়ে এগিয়ে আসলো।
পরিস্থিতির আকস্মিকতায় আমি হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। রিভলবার দিয়ে বের করে যে গুলি করবো, সে কথা আমার মনে ছিলনা। নিশ্চিত মৃত্যু ছিলো আমার কপালে।
কিন্তু, সোহা যখন আমার উপর ছুড়ি পড়তে যাবে তখনই পেছন থেকে একটা গুলির শব্দ হলো।
এবং সোহা মাটিতে পড়ে গেলো।
এবং সোহা মাটিতে পড়ে গেলো।
আমি পেছনে তাকিয়ে দেখলাম করিম দাঁড়িয়ে আছে!
আমি অবাক হয়ে করিমকে বললাম, তুমি?
করিম বললো, স্যরি স্যার! আমি ৭ বছর আগে এই গ্রামে বাসা বেঁধেছিলাম ঘরটির রহস্য উদ্ধার করতে। কিন্তু, এতোদিনেও আমি রহস্য উদ্ধার করতে পারছিলাম না।
আমি বললাম, তুমি কে?
করিম বললো, স্যার আমি আপনাদেরই গোয়েন্দা বিভাগেরই একজন।
করিম বললো, স্যরি স্যার! আমি ৭ বছর আগে এই গ্রামে বাসা বেঁধেছিলাম ঘরটির রহস্য উদ্ধার করতে। কিন্তু, এতোদিনেও আমি রহস্য উদ্ধার করতে পারছিলাম না।
আমি বললাম, তুমি কে?
করিম বললো, স্যার আমি আপনাদেরই গোয়েন্দা বিভাগেরই একজন।
হতভম্ব হয়ে আমি করিমকে সাথে নিয়ে দশবছরের পরিত্যক্ত বাড়িটির দিকে রওনা হলাম।
নদী পার হতে হতে পকেটে হাত দিয়ে মোবাইল বের করে দেখলাম, তাতে লেখা,

কোন মন্তব্য নেই