সেলিমপুর
সেলিমপুর

,সবুজে ঘেরা গাছপালা আর স্নিগ্ধ বাতাসের আবরণের মাঝেই ছোট্ট একটা কুঁড়ে ঘর।সেই ঘর থেকে শিশুদের মুখে জোরেশোরে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে,
'অ, তে অজগর,অজগরটি আসছে তেড়ে।'
'আ,তে আম,আমটি আমি খাবো পেড়ে'
আর তাদের এইসব পড়াচ্ছেন মুজিব মাস্টার।
সেই সেলিমপুর গ্রামের কুড়ে ঘরের স্কুলের পাশেই নিজের জমিতে বাড়ি।বাড়ি বললেও ভুল হবে,
টিনের ছোট্ট ঘর।দেখতে শ্যামবর্ণের এই মানুষটার স্বপ্ন বিশাল,আকাশ চুম্বী আশা যে এই প্রত্যন্ত গ্রামের একটি শিশুও যেন নিরক্ষর না থাকে।
'অ, তে অজগর,অজগরটি আসছে তেড়ে।'
'আ,তে আম,আমটি আমি খাবো পেড়ে'
আর তাদের এইসব পড়াচ্ছেন মুজিব মাস্টার।
সেই সেলিমপুর গ্রামের কুড়ে ঘরের স্কুলের পাশেই নিজের জমিতে বাড়ি।বাড়ি বললেও ভুল হবে,
টিনের ছোট্ট ঘর।দেখতে শ্যামবর্ণের এই মানুষটার স্বপ্ন বিশাল,আকাশ চুম্বী আশা যে এই প্রত্যন্ত গ্রামের একটি শিশুও যেন নিরক্ষর না থাকে।
' চেয়ারম্যান সাব,আর সইতে পারছি না,কাল রাইতে আমার দুটো হাঁস গায়েব,নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন কি বলতে চাইছি?'
চেয়ারম্যান আকবর শাহ্ বারান্দার চেয়ারে পায়ের উপর পা তোলে সামান্য ভেবে নিলেন।
তারপর কড়া গলায় বললেন,
'যার নামে অভিযোগ দিছো,প্রমাণ কি আনছো?'
প্রমাণ ছাড়া কি করে আমি তার নামে বিচার করি?
গফুর চুপ হয়ে গেলো।তার কাছে সুনিদির্ষ্ট কোনো তথ্য প্রমাণ নেই যে, কে তার হাঁস চুরি করছে।
তাই সে চুপ হয়ে চেয়ারম্যানের দিকে বিরক্ত চোখে আড়িপাতে।চেয়ারম্যান ওঠে গেলেন, যেতে যেতে বললেন,
চেয়ারম্যান আকবর শাহ্ বারান্দার চেয়ারে পায়ের উপর পা তোলে সামান্য ভেবে নিলেন।
তারপর কড়া গলায় বললেন,
'যার নামে অভিযোগ দিছো,প্রমাণ কি আনছো?'
প্রমাণ ছাড়া কি করে আমি তার নামে বিচার করি?
গফুর চুপ হয়ে গেলো।তার কাছে সুনিদির্ষ্ট কোনো তথ্য প্রমাণ নেই যে, কে তার হাঁস চুরি করছে।
তাই সে চুপ হয়ে চেয়ারম্যানের দিকে বিরক্ত চোখে আড়িপাতে।চেয়ারম্যান ওঠে গেলেন, যেতে যেতে বললেন,
'দেখো,আমার এই গ্রামে কেউ অপরাধ করে রক্ষা পাবে না,তবে আমি যে শাস্তি দেবো তার জন্য তথ্য প্রমাণ লাগবে,অযথা একজনকে বিচারে ডেকে অপমান করা আমার দ্বারা অসম্ভব,আমি একজন চেয়ারম্যান,আমাকে সবকিছু ভেবেচিন্তে করতে হয়।
গফুর মিয়া বিচার দিতে এসে খানেক বিব্রত হলেন।তবে তার হাঁস চুরি হয়েছে গতরাতে।তার অভিযোগের আঙুল মামুনের দিকে।ছেলেটা বেশ বেড়েছে।মনে মনে বললো গফুর।কালো বর্ণের গফুরের রাগ নাকের ডগায়।অল্পতে রেগে যায়।
গফুর চেয়ারম্যানের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলেন।যেতে যেতে বললেন,
গফুর মিয়া বিচার দিতে এসে খানেক বিব্রত হলেন।তবে তার হাঁস চুরি হয়েছে গতরাতে।তার অভিযোগের আঙুল মামুনের দিকে।ছেলেটা বেশ বেড়েছে।মনে মনে বললো গফুর।কালো বর্ণের গফুরের রাগ নাকের ডগায়।অল্পতে রেগে যায়।
গফুর চেয়ারম্যানের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলেন।যেতে যেতে বললেন,
'চেয়ারম্যান সাব,আমি কিন্তু একদিন সব তথ্য প্রমাণ নিয়ে আসবো।সেদিন আপনাকে কঠিন বিচার করতে হবে।ঐ ছাওয়ালকে আমি সবার সম্মুখে একদিন ঠিক অপমান করবো।আহা!রে কতো শখের দুইটা হাঁস,বেটা চুরি করে নিছে।
বলতে বলতে চলে গেলেন গফুর মিয়া।চেয়ারম্যান সেদিকেই চেয়ে ছিল খানিক্ষণ। মায়েশা ভেতর থেকে ডাকছে,
'বাবা,নাস্তা তৈরি হয়েছে,খেতে এসো তাড়াতাড়ি।
চেয়ারম্যানের একমাত্র মেয়ে মায়েশা।মা মরা মায়ার মেয়ে।চেয়ারম্যানকে বেশ শাসনের ভেতরে রাখে মায়েশা।
বলতে বলতে চলে গেলেন গফুর মিয়া।চেয়ারম্যান সেদিকেই চেয়ে ছিল খানিক্ষণ। মায়েশা ভেতর থেকে ডাকছে,
'বাবা,নাস্তা তৈরি হয়েছে,খেতে এসো তাড়াতাড়ি।
চেয়ারম্যানের একমাত্র মেয়ে মায়েশা।মা মরা মায়ার মেয়ে।চেয়ারম্যানকে বেশ শাসনের ভেতরে রাখে মায়েশা।
চেয়ারম্যান ওঠে ঘরের ভেতরে গেলেন।দেরি করলে আবার চিৎকার শুরু করবে মায়েশা।
পাগলী মেয়ে,ঠিক ওর মায়ের মতোই।হঠাৎ তার স্ত্রীর কথা মনে পড়ে গেলো আকবরের। দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে ঘরে ঢোকেন।
পাগলী মেয়ে,ঠিক ওর মায়ের মতোই।হঠাৎ তার স্ত্রীর কথা মনে পড়ে গেলো আকবরের। দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে ঘরে ঢোকেন।
দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলো,রোদেপুড়ে কোথা থেকে যেন আসছে মামুন।হঠাৎ হ্যাঁচকা টান দিয়ে মামুনকে ঝোঁপের দিকে টেনে নিলো মায়েশা।
'কী হইছে তোমার?এভাবে হঠাৎ টান দিছো কেনো?ভয় পাইছি নাহ্!
'সমস্যা কি তোমার,সমস্যাটা কী?'
'কিসের সমস্যা বলো তো মায়েশা, '
'সকালে তোমার নামে বিচার দিয়ে গেলো গফুর চাচা,বললো তুমি নাকি তার হাঁস চুরি করছো?'
এসব কী মামুন!চাকরিও তো করতে পারো।
'কী হইছে তোমার?এভাবে হঠাৎ টান দিছো কেনো?ভয় পাইছি নাহ্!
'সমস্যা কি তোমার,সমস্যাটা কী?'
'কিসের সমস্যা বলো তো মায়েশা, '
'সকালে তোমার নামে বিচার দিয়ে গেলো গফুর চাচা,বললো তুমি নাকি তার হাঁস চুরি করছো?'
এসব কী মামুন!চাকরিও তো করতে পারো।
'এটা বলছে গফুর মিয়া----সত্যি বলছো তো?'
'তোমাকে মিথ্যা বলতে আমার ঠেকা পড়ছে'
'তোমার মামুন কখনও চুরি করতে পারে?'
'বিশ্বাস করি তোমাকে,তাছাড়া দেখো মামুন
তোমার নামে যদি এইসব অভিযোগ আসতে থাকে তাহলে তোমার ব্যাপারে মানুষ কেমন ভাবছে সেটা ভেবে দেখেছো?আর এমন চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত একজনের সাথে আমার বিয়ে দিবে চেয়ারম্যান?
'তোমাকে মিথ্যা বলতে আমার ঠেকা পড়ছে'
'তোমার মামুন কখনও চুরি করতে পারে?'
'বিশ্বাস করি তোমাকে,তাছাড়া দেখো মামুন
তোমার নামে যদি এইসব অভিযোগ আসতে থাকে তাহলে তোমার ব্যাপারে মানুষ কেমন ভাবছে সেটা ভেবে দেখেছো?আর এমন চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত একজনের সাথে আমার বিয়ে দিবে চেয়ারম্যান?
'এই যে,তুমিও দেখি আন্দাজে আমাকে চোর বানিয়ে দিচ্ছো,তোমরা সবাই এক,আমাকে বুঝলে না।
'মায়েশা মামুনের হাত শক্ত করে আকড়ে ধরে বললো,
'সবাই এক না,আমি তোমাকে বুঝতে পারি,সেজন্যই তো ভালোবাসি।
'তাহলে মানুষের কথায় কান দিও না,বুঝেছো?
আচ্ছা এই যে হঠাৎ করে টান দিছো আমি ভয় পাইছি,বুকে একটু থু দিয়ে দাও তো,
'মায়েশা মামুনের হাত শক্ত করে আকড়ে ধরে বললো,
'সবাই এক না,আমি তোমাকে বুঝতে পারি,সেজন্যই তো ভালোবাসি।
'তাহলে মানুষের কথায় কান দিও না,বুঝেছো?
আচ্ছা এই যে হঠাৎ করে টান দিছো আমি ভয় পাইছি,বুকে একটু থু দিয়ে দাও তো,
'হুমমম----ভয় পাইছে,এতো বড় ছাওয়াল হে আবার ভয় পায়,যাও দেবো না,এতো ভয় নিয়ে চেয়ারম্যানের মেয়ের সাথে প্রেম করো কেমনে?'
'আচ্ছা বুকে একটুখানি ফু দাও,ভয় চলে যাবে'
'দেবো না'
'রাগ করব কিন্তু মায়েশা'
'আচ্ছা বুকে একটুখানি ফু দাও,ভয় চলে যাবে'
'দেবো না'
'রাগ করব কিন্তু মায়েশা'
মায়েশা হুট করে মামুনের বুকে জোরে ফু দিয়ে দৌড় দিয়ে চলে যায়।মায়েশের দিকে তাকিয়ে মামুন মুচকি হাসে।মেয়েটা অনেক ভালোবাসে মামুনকে,মামুনও।তবে ঐ বেটা গফুরের কপালে দুঃখ আছে,সামান্য দুটো হাঁস নিখোঁজ হইছে তার জন্যও কি চেয়ারম্যানের কাছে বিচার নিতে হয়?
বুইড়া বজ্জাত কোথাকার।
বুইড়া বজ্জাত কোথাকার।
'বকুল ভাই,এককাপ চা দেও তো' তাড়াতাড়ি দেও কাজ আছে'।এই বলে মামুন বসে পড়ে বকুলের দোকানের বাহিরের বেঞ্চে।বকুল কাঁচের কাপে করে চা দেয় মামুনকে।তারপর মামুনের তাড়াহুড়ো দেখে বকুল বলে,
'অন্য দিন তো মেলা রাইতে বাড়িতে যাও,আইজকা তাড়াহুড়ো করতাসো ক্যান মামুন ভাই?'
'কাজ আছে'
'জানতে পারি?'
'সব কথা তোকে বলতে হবে কেনো রে বকুল?'
'রেগে যাচ্ছো কেনো?বলতে চাইলে বলবে,না চাইলে নাই'।
'আরে ধূর,তোর সাথে রাগ করব কেনো?শোন ভাই জরুরী কাজ আছে, কালকে সবকিছু বলবো নে।
এখন আমি যাচ্ছি'
'ভাই চায়ের টাকাটা!'
'ওহ্,আসলে হয়েছে কী সবকিছু ভুলে যাচ্ছি ইদানিং,এই নে টাকা,গেলাম আমি'
মামুন বেশ তাড়াহুড়ো করে চলে গেলো।অন্যান্য দিন বকুলের দোকান বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত বোসে থাকে।টিভি দেখে,খবর শোনে।এই গ্রামে হাতে গোনা কয়েকটা টিভিই আছে।সাদাকালো টিভি।
তার মধ্যে বকুলের দোকানেও একটা টিভি।
'অন্য দিন তো মেলা রাইতে বাড়িতে যাও,আইজকা তাড়াহুড়ো করতাসো ক্যান মামুন ভাই?'
'কাজ আছে'
'জানতে পারি?'
'সব কথা তোকে বলতে হবে কেনো রে বকুল?'
'রেগে যাচ্ছো কেনো?বলতে চাইলে বলবে,না চাইলে নাই'।
'আরে ধূর,তোর সাথে রাগ করব কেনো?শোন ভাই জরুরী কাজ আছে, কালকে সবকিছু বলবো নে।
এখন আমি যাচ্ছি'
'ভাই চায়ের টাকাটা!'
'ওহ্,আসলে হয়েছে কী সবকিছু ভুলে যাচ্ছি ইদানিং,এই নে টাকা,গেলাম আমি'
মামুন বেশ তাড়াহুড়ো করে চলে গেলো।অন্যান্য দিন বকুলের দোকান বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত বোসে থাকে।টিভি দেখে,খবর শোনে।এই গ্রামে হাতে গোনা কয়েকটা টিভিই আছে।সাদাকালো টিভি।
তার মধ্যে বকুলের দোকানেও একটা টিভি।
বকুলও কেমন যেন অনুভব করলো।একা একা আর ভালো লাগছে না।শীতের রাত,তাছাড়া রাতও মেলা হইছে।দোকান বন্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে সে।চলে যাবে বাড়িতে।গিন্নী অপেক্ষা করছে মনে হয়।বকুল গুন গুন করে গান গাইছে,
'ওরে নীল ধরিয়া'
আমায় দে রে দে ছাড়িয়া'----
'ওরে নীল ধরিয়া'
আমায় দে রে দে ছাড়িয়া'----
চারিদিকে অন্ধকার।ঘুটঘুটে সেই অন্ধকারে শব্দ পিষে হাঁটছে মামুন।সামান্য দূরে রহিম কাকার ঘর।ঘরের ঠিক ধার ঘেষে জানালা।জানালার পাশ ঘেষে আলমারি। মামুন ধীর পায়ে সেদিকে গেলো।তারপর সবকিছু ধোঁয়াসা।
সকালবেলা রহিমের বউ কান্নাকাটি করছে।আহাজারি করছে সেই কান্নাকাটি আহাজারি শুনে ঘুম ভাঙে রহিমের।সে ওঠে কিছু বুঝে উঠার আগে রহিমের বউ চিৎকার দিতে বলে,
'আমার সবকিছু নিয়ে গেলো রে'
আমার সবকিছু নিয়ে গেলো চোরে'
হায় আল্লাহ্,তোমার কাছে বিচার দিলাম'
'তুমি বিচার কইরো আল্লাহ্---
আমার সবকিছু নিয়ে গেলো চোরে'
হায় আল্লাহ্,তোমার কাছে বিচার দিলাম'
'তুমি বিচার কইরো আল্লাহ্---
রহিম কিচ্ছু বুঝতে পারছে না,কেন এভাবে কাঁদছে তার বউ।কি হয়েছে?রহিমের বউ রহিমকে উদ্দেশ্য করে বললো,
'আলমারি থেকে সবকিছু নিয়ে গেছে চোরে'
রহিম দাঁড়া থেকে বসে গেলো তার দুয়ারের ইটের পিড়ায়।কপালে হাত দিয়ে সেও আহাজারি শুরু করলো।ইতোমধ্যে কয়েকজন হাজির।তারা নানাবিধ প্রশ্ন করছে রহিমকে আর রহিমের বউকে।
'আলমারি থেকে সবকিছু নিয়ে গেছে চোরে'
রহিম দাঁড়া থেকে বসে গেলো তার দুয়ারের ইটের পিড়ায়।কপালে হাত দিয়ে সেও আহাজারি শুরু করলো।ইতোমধ্যে কয়েকজন হাজির।তারা নানাবিধ প্রশ্ন করছে রহিমকে আর রহিমের বউকে।
রহিম আলমারির কাছে গিয়ে চমকে যায়।সেখানে ড্রয়ারে বিশ হাজার টাকা ছিলো।তবে টাকার বান্ডেল তো ঠিকই আছে।রহিম তার বউকে ডাক দিয়ে বললো,
'টাকা তো আছে,তাহলে চুরি হলো কি?'
'এক হাজার টাকা নাই,তুমি গুনে দেখো'
'ঠিকই তো, এক হাজার টাকা নাই'
তবে অদ্ভুত ব্যাপার,বিশ হাজার টাকা থেকে মাত্র এক হাজার টাকা নাই?বাকি টাকা চোরে রেখে গেলো কি জন্য?এসব উদ্ভট প্রশ্ন যুক্তি মাথায় ঘুরছে রহিমের।তবে তার কাছে এক হাজার টাকাও অনেক মহামূল্যবান। গ্রামে ইদানিং চুরিচামারি বেশি হচ্ছে।চেয়ারম্যানকে একটা নালিশ দিতেই হচ্ছে দেখি।ভাবতে ভাবতে রহিম ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো।পিছন থেকে তার বউ ডাক দিয়ে বললো,
'টাকা তো আছে,তাহলে চুরি হলো কি?'
'এক হাজার টাকা নাই,তুমি গুনে দেখো'
'ঠিকই তো, এক হাজার টাকা নাই'
তবে অদ্ভুত ব্যাপার,বিশ হাজার টাকা থেকে মাত্র এক হাজার টাকা নাই?বাকি টাকা চোরে রেখে গেলো কি জন্য?এসব উদ্ভট প্রশ্ন যুক্তি মাথায় ঘুরছে রহিমের।তবে তার কাছে এক হাজার টাকাও অনেক মহামূল্যবান। গ্রামে ইদানিং চুরিচামারি বেশি হচ্ছে।চেয়ারম্যানকে একটা নালিশ দিতেই হচ্ছে দেখি।ভাবতে ভাবতে রহিম ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো।পিছন থেকে তার বউ ডাক দিয়ে বললো,
'ঘুম থেকে উঠেছো,কিছু খেয়ে যাও'
'পেট ভরে গেছে তোমার কান্নাকাটি শুনে'
কি বলছো তুমি?
'গেলাম,আসছি একটু পরে,চেয়ারম্যান সাবরে বিচার দিয়ে আসি আগে'
'পেট ভরে গেছে তোমার কান্নাকাটি শুনে'
কি বলছো তুমি?
'গেলাম,আসছি একটু পরে,চেয়ারম্যান সাবরে বিচার দিয়ে আসি আগে'
শীতের সকাল,কুয়াশা ভেজা ঘাস নরম পায়ে হাঁটছে রহিম।দূরে চেয়ারম্যানের বাড়ি,হাঁটতে হাঁটতে চলে গেলান সেখানে।পথে দেখা হলো গফুরের সাথে।
রহিমের এমন দ্রুত হাঁটা দেখে গফুর থামালেন রহিমকে।থামিয়ে বললেন,
রহিমের এমন দ্রুত হাঁটা দেখে গফুর থামালেন রহিমকে।থামিয়ে বললেন,
'কোথায় যাচ্ছো রহিম মিয়া?'
'আরে কোথায় যাচ্ছি বইলো না গফুর ভাই,সকাল বেলা ঘুম থেকে ওঠে দেখি আলমারি থেকে কে জানি এক হাজার টাকা চুরি করছে,মানে চুরি হইছে বাড়িতে,এভাবে চলতে পারে না,চেয়ারম্যানরর কাছে যাচ্ছি বিচার দিতে।কোনো ফয়সালা না করলে পরে দিনকেদিন বাড়বে এসব কর্মকান্ড।
'আরে কোথায় যাচ্ছি বইলো না গফুর ভাই,সকাল বেলা ঘুম থেকে ওঠে দেখি আলমারি থেকে কে জানি এক হাজার টাকা চুরি করছে,মানে চুরি হইছে বাড়িতে,এভাবে চলতে পারে না,চেয়ারম্যানরর কাছে যাচ্ছি বিচার দিতে।কোনো ফয়সালা না করলে পরে দিনকেদিন বাড়বে এসব কর্মকান্ড।
'তাই নাকি?সেদিন আমার ঘরের হাঁস চুরি হইছে।
চলো আমি যাবো তোমার সাথে।দেখি চেয়ারম্যান কি সমাধান দেয়।চলো----
চলো আমি যাবো তোমার সাথে।দেখি চেয়ারম্যান কি সমাধান দেয়।চলো----
দুজনেই চেয়ারম্যানের বাড়িতে হাজির।
আকবর শাহ্ সকালে ঘুম থেকে ওঠে বারান্দায় কুলি করছে গড়গড় করে।হঠাৎ রহিম আর গফুরকে দেখে আশ্চর্য হলেন। কুলি করতে করতে বললেন,
আকবর শাহ্ সকালে ঘুম থেকে ওঠে বারান্দায় কুলি করছে গড়গড় করে।হঠাৎ রহিম আর গফুরকে দেখে আশ্চর্য হলেন। কুলি করতে করতে বললেন,
'সাতসকাল তোমরা দুইজন,কী ব্যাপার? '
চেয়ারম্যান সাব,কাল রাতে আমার ঘরে চুরি হইছে,একহাজার টাকা।কষ্ট করে টাকা কামাই করি।জমিতে চাষবাদ করতে হয় সেই টাকা দিয়ে।
গফুর গলা বাড়িয়ে বললো,
'গেরামে চুরিচামারি বাড়ছে ইদানিং,আপনি একটা মীমাংসা করেন।না হলে এই সুযোগে বড় কিছুও হতে পারে।'
চেয়ারম্যান সাব,কাল রাতে আমার ঘরে চুরি হইছে,একহাজার টাকা।কষ্ট করে টাকা কামাই করি।জমিতে চাষবাদ করতে হয় সেই টাকা দিয়ে।
গফুর গলা বাড়িয়ে বললো,
'গেরামে চুরিচামারি বাড়ছে ইদানিং,আপনি একটা মীমাংসা করেন।না হলে এই সুযোগে বড় কিছুও হতে পারে।'
'আচ্ছা যাও,বিকালে একটা বিচার হবে।
তোমরা কারে সন্দেহ করছো?'
'মামুন'
'আচ্ছা'
বিকালে ওরে এখানে আসতে বলবা,আমি দেখি কী করা যায়।এখন যাও তোমরা।গফুর আর রহিম কিছুটা স্বস্তি নিয়ে শ্বাস ফেললো তারপর বাড়ির দিকে রওনা হলো।
তোমরা কারে সন্দেহ করছো?'
'মামুন'
'আচ্ছা'
বিকালে ওরে এখানে আসতে বলবা,আমি দেখি কী করা যায়।এখন যাও তোমরা।গফুর আর রহিম কিছুটা স্বস্তি নিয়ে শ্বাস ফেললো তারপর বাড়ির দিকে রওনা হলো।
সকাল নয়টা,গ্রামের বাচ্চারা স্কুলের দিকে যাচ্ছে।
মুজিব মাস্টারের স্কুল। 'আশার আলো 'স্কুলের নাম।ছোটছোট বাচ্চা হাসি আনন্দে সেদিকে যাচ্ছে।স্কুলে কোনো বেঞ্চ নেই।পাটি বিছিয়ে বসতে হয়।মামুন সেদিকে যাচ্ছে। হাতে কয়েকটা বাক্সবন্দী প্যাকেট। আরো অনেক কিছু।
স্কুলে মুজিব মাস্টার নিজ উদ্যোগে সবকিছু করেন।তবে কিছুদিন ধরে মুজিব মাস্টার পেন্সিল, চক, বোর্ড কিনতে পারছেন না।টাকা নেই।তাছাড়া অন্যান্য খরচ জোগাড় করাও তার দ্বারা সম্ভব হচ্ছে না।সে খুব চিন্তিত।চোখেমুখে মেঘের মতো কালো আধাঁর।তবে কী স্কুল বন্ধ করে দিতে হবে?
মুজিব মাস্টারের স্কুল। 'আশার আলো 'স্কুলের নাম।ছোটছোট বাচ্চা হাসি আনন্দে সেদিকে যাচ্ছে।স্কুলে কোনো বেঞ্চ নেই।পাটি বিছিয়ে বসতে হয়।মামুন সেদিকে যাচ্ছে। হাতে কয়েকটা বাক্সবন্দী প্যাকেট। আরো অনেক কিছু।
স্কুলে মুজিব মাস্টার নিজ উদ্যোগে সবকিছু করেন।তবে কিছুদিন ধরে মুজিব মাস্টার পেন্সিল, চক, বোর্ড কিনতে পারছেন না।টাকা নেই।তাছাড়া অন্যান্য খরচ জোগাড় করাও তার দ্বারা সম্ভব হচ্ছে না।সে খুব চিন্তিত।চোখেমুখে মেঘের মতো কালো আধাঁর।তবে কী স্কুল বন্ধ করে দিতে হবে?
গ্রামের মানুষ মনে করেন লেখাপড়া দিয়ে কী হবে,কৃষি করেই খেতে হবে।সুতরাং কৃষি কাজেই ছেলে-মেয়েদের মনোনিবেশ করা উত্তম।সেজন্য স্কুলে পাঠায় না এবং মুজিব মাস্টারকেও কোনো সহায়তা করেন না।
'স্যার,এই নেন,এখানে বোর্ড আছে, পেন্সিল আছে,আর চকও আছে তিন বাক্স।আগামী একমাস কোনো চিন্তা করতে হবে না আপনার।
-মুজিব এগুলো পেয়ে খুব খুশি হয়ে গেলেন।
মামুনের কাঁধে হাত বুলিয়ে বললেন,
'একমাত্র তোমাকেই দেখছি এই গ্রামে যে,শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে চেষ্টা করছে'
মামুন খুশিমনে চলে এলো স্কুল থেকে।
-মুজিব এগুলো পেয়ে খুব খুশি হয়ে গেলেন।
মামুনের কাঁধে হাত বুলিয়ে বললেন,
'একমাত্র তোমাকেই দেখছি এই গ্রামে যে,শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে চেষ্টা করছে'
মামুন খুশিমনে চলে এলো স্কুল থেকে।
পথে রহিমের সাথে দেখা,রহিম রক্তচোখে তাকিয়ে বেশ বজ্র কণ্ঠে মামুনকে বললো,
'বিকালে চেয়ারম্যানের বাড়িতে থাকবি'
'ক্যান'
'চেয়ারম্যান বলছে'
'আচ্ছা'
'বিকালে চেয়ারম্যানের বাড়িতে থাকবি'
'ক্যান'
'চেয়ারম্যান বলছে'
'আচ্ছা'
মামুন চিন্তায় পড়ে গেল।তাহলে কী সবকিছু ফাঁস হয়ে গেছে?রহিম চলে যাচ্ছে টগবগিয়ে। মামুন সেদিকে কিছুসময় থাকিয়ে ছিলো।
সারাদিন চিন্তায় ছিলো কী হবে ভেবে।
সারাদিন চিন্তায় ছিলো কী হবে ভেবে।
আকবর শাহ্ বোসে আছেন বাড়ির উঠানের মধ্যখানে এক চেয়ারে।পাশে গ্রামের গণ্যমান্য কয়েকজন বুড়ো লোক।তাদের চোখ মামুনের দিকে।এই চুরির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে ইতিমধ্যে।মামুন তাল গাছের মতো সোজা দাঁড়িয়ে আছে মাথা নিচু করে।মুজিব মাস্টারও উপস্থিত।
মায়েশা বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলো। সে পিলারে মাথা ঠেকিয়ে চুপিচুপি কাঁদছিলো।সে বিশ্বাস করতেও পারছে না মামুনের মতো ছেলে চুরি করে!
মায়েশা বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলো। সে পিলারে মাথা ঠেকিয়ে চুপিচুপি কাঁদছিলো।সে বিশ্বাস করতেও পারছে না মামুনের মতো ছেলে চুরি করে!
'দেখো মামুন,আমাদের গ্রামে কোনো চোরের স্থান হবে না,তোমাকে এই গ্রাম ত্যাগ করতে হবে'
পাশ থেকে গফুর বললো,
'উচিত বিচার করছেন চেয়ারম্যান সাব'
রহিমের ঠোঁটে হাসি ফুটেছে,সে স্বস্তি পেয়েছে রায়ে।মুজিব মাস্টার কথা বলতে গিয়েও পারছেন না।সেও বিশ্বাস করতে পারছেন না ছেলেটা চুরি করে।
পাশ থেকে গফুর বললো,
'উচিত বিচার করছেন চেয়ারম্যান সাব'
রহিমের ঠোঁটে হাসি ফুটেছে,সে স্বস্তি পেয়েছে রায়ে।মুজিব মাস্টার কথা বলতে গিয়েও পারছেন না।সেও বিশ্বাস করতে পারছেন না ছেলেটা চুরি করে।
'আপনারা যা রায় দিবেন তাতে কোনো আপত্তি নেই আমার।তবে কেনো চুরি করছি সেটা কেউ একবার জিজ্ঞেস করেছেন?'
'চোরের আবার বড় গলা' পাশ থেকে বললো গফুর।
আকবর শাহ্ গফুরের দিকে ইশারায় বললো চুপ করতে।আকবর সুযোগ দিলেন মামুনকে বলতে,
'চোরের আবার বড় গলা' পাশ থেকে বললো গফুর।
আকবর শাহ্ গফুরের দিকে ইশারায় বললো চুপ করতে।আকবর সুযোগ দিলেন মামুনকে বলতে,
'মুজিব মাস্টার যে কাজটা করছে সেকাজে কি আমাদের সহায়তা করা উচিত ছিলো না?আপনি একজন সমাজ সেবক হয়েও মুজিব মাস্টারের স্কুলের বিষয়ে মুখ খুলেননি।স্কুলে তো আপনাদের সন্তাননেরা পড়ালেখা করে তাই নয় কী?
মুজিব মাস্টার একা মানুষ,কাজকর্ম করতে পারে না,নিজের শেষ জমির মধ্যে ছোট স্কুল দিয়ে আপনাদের সন্তানদের লেখাপড়া শিখাচ্ছে।খরচ লাগে তো, এমনি এমনি পঞ্চাশ শিশুর স্কুল চলে না।মুজিব মাস্টার টাকা কোথা থেকে আনবে?
মুজিব মাস্টার একা মানুষ,কাজকর্ম করতে পারে না,নিজের শেষ জমির মধ্যে ছোট স্কুল দিয়ে আপনাদের সন্তানদের লেখাপড়া শিখাচ্ছে।খরচ লাগে তো, এমনি এমনি পঞ্চাশ শিশুর স্কুল চলে না।মুজিব মাস্টার টাকা কোথা থেকে আনবে?
'রহিম একটু অবাক হলেন'
'মুজিব মাস্টারও,সাথে গফুর আকবর শাহ্ও'
মায়েশা মনোযোগ দিয়ে মামুনের কথা শুনতে থাকে আড়াল থেকে।
মামুন কাঁদোকাঁদো চোখে বলতে থাকে,
তিনি একা পারছিলেন না।সেজন্য আমি এই ভিন্ন পথ অবলম্বন করেছি স্কুলটাকে সচল রাখছে,শিশুদের শিক্ষার আলো বন্ধ না হতে।
হয়তো পথটা ভালো না,আমি সেজন্য মাফ চাইছি সবার কাছে।তবে আমি আপনাদের রায় মেনে নিলাম।আমি চলে যাচ্ছি গ্রাম ছেড়ে। তবে শেষ একটা কথা বলছি
'শিক্ষার বিকল্প কিচ্ছু নেই'পারলে মুজিব মাস্টারকে সহায়তা করিয়েন যেন সে স্কুলটাকে চালিয়ে নিতে পারে'
'মুজিব মাস্টারও,সাথে গফুর আকবর শাহ্ও'
মায়েশা মনোযোগ দিয়ে মামুনের কথা শুনতে থাকে আড়াল থেকে।
মামুন কাঁদোকাঁদো চোখে বলতে থাকে,
তিনি একা পারছিলেন না।সেজন্য আমি এই ভিন্ন পথ অবলম্বন করেছি স্কুলটাকে সচল রাখছে,শিশুদের শিক্ষার আলো বন্ধ না হতে।
হয়তো পথটা ভালো না,আমি সেজন্য মাফ চাইছি সবার কাছে।তবে আমি আপনাদের রায় মেনে নিলাম।আমি চলে যাচ্ছি গ্রাম ছেড়ে। তবে শেষ একটা কথা বলছি
'শিক্ষার বিকল্প কিচ্ছু নেই'পারলে মুজিব মাস্টারকে সহায়তা করিয়েন যেন সে স্কুলটাকে চালিয়ে নিতে পারে'
মামুন কথা শেষ করে গামছা দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে চলে যাচ্ছে।সেদিকে তাকিয়ে আছে রহিম,গফুর মুজিব মাস্টার,আর মায়েশা----।
আব্দুল্লাহ্ আল মামুন

কোন মন্তব্য নেই