ভেতর কথা
ভেতর কথা
আমার জন্ম রাত একটায়।আর আমার বাবার মৃত্যু রাত সাড়ে এগারোটায়।যেদিন আমার নবম জন্মবার, সেদিন আমার মায়ের মৃত্যুদিন।কাকতালীয়ভাবে আমার বাবা এবং মা আমার জন্মদিনেই মারা গেলেন।আমি থ হয়ে গেলাম।কি করবো বুঝার ক্ষমতা নেই তখন।থাকার কথাও নয়।
বড় ফুফুর বাড়িতে আশ্রিত আছি।পড়ালেখার গাড়ি সোজাসাপটা রাস্তা থেকে ভাংগা রাস্তায় এসে দাড়িয়েছে।যার খাওয়ার মুরোদ নেই তার আবার পড়াশুনো কিসের।কথা তিক্ত হলেও সত্য।আমি হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি।
-"কি করিস রে এখানে বসে বসে?তিহানকে একটু রাখ যা,তোর ফুফুর কাজ আছে।"
ফুফা এসে বলে গেলেন।আমি পড়ছিলাম।পড়া সম্ভব নাকি?মানুষ যা সহজে পেয়ে যায় তার গুরুত্ব দেয়না।আম্মু থাকতে আমি মনোযোগ দিয়ে এক অক্ষর পড়তাম না।অথচ এখন পড়ার জন্য আগ্রহ আছে,সময় পাইনা।আমার সুযোগই হয়না।
গেলাম ফুফুর ঘরে।তিহান খেলছে।তার কত কত খেলনা।আমারো ছিলো।এসব নাহিয়ান খেলতে খেলতে নষ্ট করে ফেলেছে।আমার দামী দামী পুতুল আর পুতুলের যত্নে সাজানো সংসারের পাট উলটপালট হয়ে পরেছে।
-"ফুফু তিহান তো খেলছে,আমি যাই? কান্না করলে কোলে নিয়ে রাখবো।"
ফুফু টিভির চ্যানেল পালটাতে পালটাতে বললেন,
-"রান্নাঘরে গিয়ে দুধটা গরম করে আয়,তিহানকে খাওয়াতে হবে।"
-"ফ্রিজে আছে?"
-"কই থাকে জানিস না তুই?আজকে নতুন এসছিস?"
আমার অদ্ভুত কষ্ট হয়।আপন মানুষরাও একেকসময় খুব দূরের হয়ে যায়।অথচ এই ফুফু আমাকে অনেক আদর করতো।ছোটবেলায় ফুফুর কোলে যাওয়ার জন্যে পাগল ছিলাম।পুরোটা স্মৃতি হয়েছে। অতীতের সাথে আবহমানের অনেক তফাত।
এই বাড়িতে কেউ আপন না।দুইবেলা ভাত খাই,তার বদল কাজ করি।যদিও বাইরের মানুষের সামমে বড় ফুফু তা প্রকাশ করেনা।এমন অভিনয় করতে পারে আমি অবাক হই।
মাঝেমাঝে সময় করে ছাদে যাই।ছাদটা আমার খুব আপন।যেনো নিজের লোক।ভয় হয়,ছাদটা আবার পর হয়ে যাবেনা তো?
রাত্রিবেলা লুকিয়ে যাই দু একদিন বারান্দায়।জোছনা দেখি।তারা খুজি।মানুষ মরে গেলে তারা হয়ে যায়।মা বলতো।তারাদের মাঝে আমি খুজি আমার হারানো সবকিছু।বুঝতে পারি কতখানি গুরুত্ব তাদের।
শহরের মাঝে চার দেওয়ালের হাতছানিতে চুপটি করে তাকিয়ে থাকি আমি।হুট করে একদিন নাহিয়ান আসে।পেছন থেকে বলে,
-"রঞ্জু আপা,তোমার কি হয়েছে?"
-"কিছু হয়নি।তুই যা ভেতরে।"
-"তুমি কাদলে আমার খুব কষ্ট হয়, জানো?"
নাহিয়ানের নরম চুলে হাত বুলিয়ে আদর করি।ভালো লাগে।অসহায় বোধ করেও করিনা।
পৃথিবী কেনো আমাকে বুঝেনা?স্বার্থপর পৃথিবীটা স্বার্থের ধান্ধায় কেনো অসহায়দের ভুলে যায়?কেনো ভুলে যায়?
-"কি করিস রে এখানে বসে বসে?তিহানকে একটু রাখ যা,তোর ফুফুর কাজ আছে।"
ফুফা এসে বলে গেলেন।আমি পড়ছিলাম।পড়া সম্ভব নাকি?মানুষ যা সহজে পেয়ে যায় তার গুরুত্ব দেয়না।আম্মু থাকতে আমি মনোযোগ দিয়ে এক অক্ষর পড়তাম না।অথচ এখন পড়ার জন্য আগ্রহ আছে,সময় পাইনা।আমার সুযোগই হয়না।
গেলাম ফুফুর ঘরে।তিহান খেলছে।তার কত কত খেলনা।আমারো ছিলো।এসব নাহিয়ান খেলতে খেলতে নষ্ট করে ফেলেছে।আমার দামী দামী পুতুল আর পুতুলের যত্নে সাজানো সংসারের পাট উলটপালট হয়ে পরেছে।
-"ফুফু তিহান তো খেলছে,আমি যাই? কান্না করলে কোলে নিয়ে রাখবো।"
ফুফু টিভির চ্যানেল পালটাতে পালটাতে বললেন,
-"রান্নাঘরে গিয়ে দুধটা গরম করে আয়,তিহানকে খাওয়াতে হবে।"
-"ফ্রিজে আছে?"
-"কই থাকে জানিস না তুই?আজকে নতুন এসছিস?"
আমার অদ্ভুত কষ্ট হয়।আপন মানুষরাও একেকসময় খুব দূরের হয়ে যায়।অথচ এই ফুফু আমাকে অনেক আদর করতো।ছোটবেলায় ফুফুর কোলে যাওয়ার জন্যে পাগল ছিলাম।পুরোটা স্মৃতি হয়েছে। অতীতের সাথে আবহমানের অনেক তফাত।
এই বাড়িতে কেউ আপন না।দুইবেলা ভাত খাই,তার বদল কাজ করি।যদিও বাইরের মানুষের সামমে বড় ফুফু তা প্রকাশ করেনা।এমন অভিনয় করতে পারে আমি অবাক হই।
মাঝেমাঝে সময় করে ছাদে যাই।ছাদটা আমার খুব আপন।যেনো নিজের লোক।ভয় হয়,ছাদটা আবার পর হয়ে যাবেনা তো?
রাত্রিবেলা লুকিয়ে যাই দু একদিন বারান্দায়।জোছনা দেখি।তারা খুজি।মানুষ মরে গেলে তারা হয়ে যায়।মা বলতো।তারাদের মাঝে আমি খুজি আমার হারানো সবকিছু।বুঝতে পারি কতখানি গুরুত্ব তাদের।
শহরের মাঝে চার দেওয়ালের হাতছানিতে চুপটি করে তাকিয়ে থাকি আমি।হুট করে একদিন নাহিয়ান আসে।পেছন থেকে বলে,
-"রঞ্জু আপা,তোমার কি হয়েছে?"
-"কিছু হয়নি।তুই যা ভেতরে।"
-"তুমি কাদলে আমার খুব কষ্ট হয়, জানো?"
নাহিয়ানের নরম চুলে হাত বুলিয়ে আদর করি।ভালো লাগে।অসহায় বোধ করেও করিনা।
পৃথিবী কেনো আমাকে বুঝেনা?স্বার্থপর পৃথিবীটা স্বার্থের ধান্ধায় কেনো অসহায়দের ভুলে যায়?কেনো ভুলে যায়?
রামিযাহ ওয়াসীত

কোন মন্তব্য নেই