গল্পদাদু

গল্পদাদু



তুমি কখনো ভূত দেখনি দাদু??
অটল বিহারি গাঙ্গুলী ওরফে অটল বাবু,একটু বিব্রত হয়ে বললেন, ভূত কিনা জানিনা,তবে একবার একটা কান্ড হয়েছিল,,,
বলবে!,
বলে উজ্বল মুখে দাদুর কাছে ঘেঁসে বসল অরূণ;
তখন আমরা এই শ্রীপুরে সবে এসেছি,চালচুলোর ঠিক নেই, বাড়ি কোনরকমে একটা বেড়া দিয়ে তৈরি করেছি,মা, বাবা, আর তিন ভাইবোন মিলে সংসার আমাদের,
হাতে তেমন টাকাকড়ি নেই, বাবার হাতেও তেমন নেই, জায়গাটা নতুন বলে বাবার কোন কাজ জুটছেনা,আমি পরিবারের বড় সন্তান কাজের চেষ্টা আমিও করছি,
খুব অভাব,একবেলা খাই, তো অন্যবেলা উপোষ দেই,
তখন মা একটা করে গয়না খুলে দেয়, তাই বেচে ডালভাত খাই,মায়ের বিছেহার বেচে বাবা জমি কিনে চাষবাস শুরূ করেছেন,চাষবাষ বড় পরিশ্রমের কাজ, আমিও করতাম বাবার সাথে,
কিন্তু এই বয়সে ধকল সইবে কেন?
বাবা অসুখে পড়ল,
এত ধকল আমারও সইছে না, কি করার,,,কিন্তু সেই সময় মাষ্টারির চাকরিটা পেয়ে যাই, প্রায় ৪ মাইল হেঁটে আসা যাওয়া করতে হবে,
তাতে কি! মাসে সাড়ে বারো'শ টাকা তো বাঁধা,
একেবারে না খেয়ে থাকা তো নয়,আমি বাঁচব, ভাইবোনগুলো খেতে পাবে, পথটা গ্রমের ভীতর দিয়ে,অনেকটা দুর,বর্ষায় হাঁটুজল হয়,, সাইকেল তখনো কিনি নি,হেঁটে যাওয়াআসা,
কয়েকটা টিউশানিও পেয়েছি,
সংসার চালাতাম আমি,
সেদিন এমনি শীতকাল ছিল,
শেষ টিউশানিটা করে যখন ফিরছি তখন অনেক রাত,,
পথের বাঁশঝাড়টাকে সেদিন বেশি ভয় লাগছিল, হটাৎ কোথা থেকে একটা বিড়াল পথ আগলে দাঁড়াল, বিড়ালটাকে তাড়ানোর চেষ্টা করতেই, মানুষের কন্ঠে বলল, ভূল পথে আসলি কেন??? , ঠিক পথে যা, এতক্ষণে হুঁশ হল, আরে আমিতো গ্রমের রাস্তা ছেড়ে বেশ খানিকটা ভেতরে চলে এসেছি, ঠিক রাস্তা ধরে হাঁটতে লাগলাম,
গ্রামের জঙ্গলটার মাঝবরাবর এসেছি, তখন খুব কাছ থেকে মনে হল শুনতে পেলাম, অমু,, বাবা একটু তাড়াতাড়ি যা বাবা, তাড়াতাড়ি যা,
পরিষ্কার বুঝলাম, বাবার গলা, বিড়ালটাও তো বাবার গলায় বলল,
কি সব ভূলভাল ভাবছি, বিড়াল কি কথা বলে নাকি, আর বাবাই বা এখানে কোথা থেকে আসবে?
বাবার তো বিছানা ছেড়ে ওঠার সামর্থ্য নেই,,
সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে বাড়ির দিকে এগুচ্ছি,
হটাৎ মনে হল,
ওটা বাবার গলাই তো ছিল,
বাবা হয়তো আর নেই!!!!!
দৌড়ে গেলাম বাড়িতে,
গিয়ে দেখি, কান্নার রোল,
বাবা সত্তিই আর নেই,,,,,,,,
তারপর কি করলে ????
কি আর করব, দাদু বলল অন্যরা যা করে তাই করলাম,
মূর্ছা গেলাম,,
,,,,
,,,,



নীহারিকা

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.